সাপাহারে সরকারি জমি দখল করে আড়ৎ নির্মাণ: গ্রামবাসীর ক্ষোভ

প্রকাশিত: ৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ , ১৬ এপ্রিল ২০২৬, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

সোহেল চৌধুরী রানা, সাপাহার (নওগাঁ): নওগাঁর সাপাহারে করলডাঙ্গা ও লালমাটিয়া এলাকায় সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে আড়ৎ ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে করে ওই এলাকার সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি স্বার্থ ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে স্থানীয় প্রায় শতাধিক বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে গত ১২ এপ্রিল গ্রামবাসীর পক্ষে শিমুলতলী গ্রামের মৃত হুমায়ন কবিরের ছেলে মোঃ রাকিব হাসান সাপাহার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। প্রায় শতাধিক গ্রামবাসী স্বাক্ষরিত ওই অভিযোগের অনুলিপি উপজেলা প্রকৌশলী এবং সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জকেও (ওসি) প্রদান করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পত্নীতলা উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের মোঃ রাকিবুল হাসান করলডাঙ্গা মৌজায় (দাগ নং- ৬১৯, ৬১৭) কিছু জমি ক্রয় করেন। উক্ত জমির উত্তর ও পূর্ব পাশে সরকারি রাস্তা অবস্থিত। অভিযোগ রয়েছে, রাকিবুল হাসান তার ক্রয়কৃত জমির সীমানা অতিক্রম করে সরকারি রাস্তার একটি বড় অংশ দখল করে টিনের আড়ৎ ঘর নির্মাণ করেছেন।

শুরুতে এলাকাবাসী বাধা দিলে তিনি কাজ সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখলেও, পরবর্তীতে কৌশলে কাঁটা তারের বেড়া ও টিন দিয়ে প্রায় ৫-৭ শতাংশ সরকারি জমি নিজের দখলে নিয়ে নিয়েছেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী গত ৮ এপ্রিল জমিটি পরিমাপ করে দেখেন যে, বর্তমানে নির্মিত ঘরের সীমানা থেকে প্রায় ১৫-২০ ফুট ভেতরে তার প্রকৃত জমির সীমানা হওয়ার কথা। কিন্তু তিনি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সরকারি জায়গায় নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রশিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “কিছুটা সরকারি জায়গা আমার আড়তের মধ্যে পড়েছে। তবে এজন্য কারো অনুমতি নেওয়া হয়নি।”

সাপাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাদেকুল ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “জনস্বার্থ ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। যদি কেউ অবৈধভাবে সরকারি জমি দখল করে থাকে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে তা উদ্ধার করা হবে।”

বর্তমানে সরকারি এই মূল্যবান সম্পত্তি উদ্ধার এবং জনসাধারনের চলাচলের পথ সুগম করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী গ্রামবাসী।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর