অবহেলার পথে ঘুঘুডাঙ্গা তাল সড়ক,যত্নের আশায় তাল-বৃক্ষ

প্রকাশিত: ১:৩৫ অপরাহ্ণ , ৮ অক্টোবর ২০২৪, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 years আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন

নাহিদ হাসান নওগাঁঃ ঘুঘুডাঙ্গা তাল-সড়ক অবস্থিত নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলা হাজিনগর ইউনিয়নে। এ তাল-সড়কের সৌন্দর্য ইতিমধ্যেই সারাদেশের মানুষকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে। তাইতো দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিনিয়ত দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন এই প্রকৃতির সবুজ স্নিগ্ধতা উপভোগ করতে। ঘুঘুডাঙ্গার তাল- সড়কের শীতল এবং সবুজ প্রকৃতি মানুষের মন জয় করেছে বহু আগেই৷ দেশ সংস্কার হচ্ছে কিন্তু ঘুঘুডাঙ্গা তাল-সড়ক অবহেলার পথে হাঁটতেছে।

সরেজমিন ঘটনা স্থলে গিয়ে দেখা যায়, যে গাছ গুলোকে দর্শনার্থীরা পরম আদরে জড়িয়ে ধরে সেই দৃশ্য স্মৃতি বন্দী করে ক্যামেরা দিয়ে,আজ সেই একই গাছে গরু বেঁধে রাখা হচ্ছে গরুর খুদা নিবারণে। যে ল্যাম্পপোস্ট গুলো রাতেও জেগে রাখে ঘুঘুডাঙ্গার প্রকৃতিকে, কিছু ল্যামপোস্ট গুলো আগের অবস্থানে থাকলেও আলো দেওয়ার ক্ষমতা হারিয়েছে অনেক আগেই।

তাল-সড়কের পাশেই ফসলি জমির ফসল পশুর থেকে রক্ষার্থে তাল-বৃক্ষর সামনে দিয়ে নিরাপত্তা জাল তৈরী করেছেন কৃষক। এতে প্রতিটা তাল-বৃক্ষের শরীরে দুটি করে পেরেক ঢুকানো হয়েছে। প্রায় ১৫ টি তাল-বৃক্ষ এই ক্ষতের শিকার হয়েছেন।

অপরদিকে রাস্তা সহ আশপাশে দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ময়লাগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে সড়কের চতুর্দিকে। কিন্তু ডাস্টবিন নাই ঘুঘুডাঙ্গায়। দুই বছর আগে এই তাল-বৃক্ষে রংয়ের প্রলেপ পড়েছিলো। যাতে সৌন্দর্য বেড়েছিলো কয়েকগুণ। বর্তমান সেই রং গুলোও তাদের অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছেন।

যে গাছ গুলোতে কোনো ব্যানার লাগানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, সেই গাছ গুলোতেও এখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ব্যানার পেরেকের মাধ্যমে আটকানো হচ্ছে। তাল সড়কের পাশেই রয়েছে এক সুবিশাল জলাশয়, যা পদ্মফুলে আচ্ছন্ন। পুকুর পাড়েই বেশ কিছু ফুলের গাছ বিরাজমান। সেই জলাশয়ের চতুর্দিকে প্লাষ্টিকের নিরাপত্তা বেড়া লাগানো হয়েছিলো বছর খানেক আগে। বয়সের কালক্রমে সেই প্লাস্টিক ও হারিয়েছে তার শক্তি। নিরাপত্তা হেনতাই পুকুর পাড়ের ফুল বৃক্ষরা৷ বন্দ রয়েছে তাল কফি হাউস। বছর শেষে তাল বৃক্ষে মরা কান্ড ও পাতা গুলো অপসারণ করা হইনি এখনো।

বিগত দুই বছর সেপ্টেম্বর মাসের ২৪ তারিখে তাল সড়কে বসেছিলো তাল পিঠা মেলা। সেটিও নিরাপত্তা হীনতায় এই বছর বন্ধ হয়েছে।

এ সময় পারভেজ নামক স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি বলেন, আমরা স্থানীয়। এই দর্শনার্থী স্থানকে কেন্দ্র করেই চলে ৩০ টি পরিবার। এই সৌন্দর্য রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদেরই। আমরা মূলত বিষয় গুলো চিন্তা করিনি। প্রতিবেদক বিষয় গুলো আমাদেরকে দেখিয়ে দিয়ে খুবই ভালো করেছেন। আমরা খুব তাড়াতাড়ি বিষয় গুলো সমাধান করবো৷ তবে যদি প্রশাসন একটু নজরদারি বাড়ান তবে স্থানটির শৃঙ্খলা বজায় থাকবে। পাশাপাশি আগামী বছর থেকে যাতে আবারো এখানে তাল পিঠা মেলা অনুষ্ঠিত হয় সেই জন্য অনুরোধ করতেছি।

অবহেলার শিকার যাতে এই তাল বৃক্ষগুলো না হয় সেই জন্য সবাইকে এগিয়ে আসা উচিৎ বলে মনে করছেন স্থানীয় প্রকৃতি সচেতন জনগণ। বয়সে তাড়নায় জীবকে একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে এটি চরম সত্য কথা। তাল-বৃক্ষ গুলো একদিন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে। কিন্তু যতদিন এই তাল-বৃক্ষ গুলোর জীবন রয়েছে ততদিন এই তাল বৃক্ষ গুলো যাতে কোনো অবহেলার শিকার না হয়। মৃত্যুকালে যাতে করে সে তার বয়সকেই দায়ী করেন। যত্নে যাতে করে কোন কমতি না থাকে এমনটি চাওয়া উক্ত প্রতিবেদকের।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর