আদালতের রায়,পেয়ে ভূমিতে যেতে পারছেন না রফিকুল ও শাহ আলম

প্রকাশিত: ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ , ২৩ এপ্রিল ২০২৫, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন

আমিনুল ইসলাম আহাদঃ দীর্ঘ সাত বছরের আইনি লড়াইয়ের পর আদালতের রায় পেয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের রফিকুল ইসলাম ও শাহ আলম। কিন্তু রায়ের পরও এখনো নিজেদের পৈত্রিক জমিতে প্রবেশ করতে পারছেন না তারা।

রফিকুল ইসলাম জানান, তার বাবা আব্দুল আজিজ বৃন্দাবন শর্মা ও কমলা রঞ্জন চক্রবর্তীর কাছ থেকে ক্রয়সূত্রে ৪৩ শতক জমির মালিক হন। পরবর্তীতে সরকারি রাস্তা চলে যাওয়ায় ৪ শতক বাদে বর্তমানে তাদের মালিকানাধীন জমির পরিমাণ ৩৯ শতক।

হালনাগাদ রেকর্ড অনুযায়ী, এ জমি বর্তমানে এসএ ও বিএস রেকর্ডে যথাক্রমে ২০ নং খতিয়ান ও ৭০৮ দাগভুক্ত। তার দাবি, তিনি ও তার ভাই শাহ আলম পৈত্রিক সূত্রে এ জমির বৈধ ওয়ারিশ এবং সমস্ত কাগজপত্র হালনাগাদ ও সঠিক রয়েছে।

তবে ২০১৭ সালে প্রতিবেশী ইউসুফ মিয়া এ জমির ওপর মালিকানা দাবি করে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া দেওয়ানি আদালত রফিকুল ও শাহ আলমের পক্ষে ৩৯ শতক জমির মালিকানা নিশ্চিত করে রায় দেন। পরবর্তীতে ইউসুফ মিয়া উচ্চ আদালতে আপিল করলে ২০২৩ সালে উচ্চ আদালতও পূর্বের রায় বহাল রাখে।

কিন্তু আদালতের রায় সত্ত্বেও এখনও রফিকুল ও শাহ আলম জমিতে প্রবেশ করতে পারছেন না। রফিকুল অভিযোগ করে বলেন, “ইউসুফ মিয়া আমাদেরকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে জমিতে ঢুকতে বাধা দিচ্ছেন।”

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ করলেও ইউসুফ মিয়া প্রশাসনের রায় অমান্য করে ভিকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে ইউসুফ মিয়ার সঙ্গে সরেজমিনে কথা বললে তিনি জানান, “আমি আমার জায়গা থেকেই মাটি কেটে রাস্তা তৈরি করছি।

তারা একটি মামলার রায় পেয়েছে, তবে আমি সেই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেছি। আমি সঠিক বিচার না পাওয়া পর্যন্ত এই জায়গা আমার দখলে থাকবে, কারণ বর্তমানে জমিটি আমার (দখলে) রয়েছে।”

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছমিউদ্দিন বলেন আমরা দুই তিনবার গিয়েছি এবং ইউসুফ মিয়াকে বলে দিয়ে আসছি তারা যেন মাটি না কাটে, এবং কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে আমাদের নজরদারিতে রয়েছে

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, “আইনি প্রক্রিয়া শেষে রায় পাওয়ার পরও ভুক্তভোগীরা যদি তাদের সম্পত্তিতে ফিরতে না পারেন, তাহলে তা বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা ও নাগরিক অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ করে।” এ ঘটনায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো।