কমলগঞ্জে ৭ ফুট লম্বা কলার ছড়া দেখতে কৌতূহলী মানুষের ভিড়

প্রকাশিত: ২:৩০ অপরাহ্ণ , ২৩ অক্টোবর ২০২৪, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 years আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন

এম এ ওয়াহিদ রুলু,কমলগঞ্জঃ কমলগঞ্জে ৭ ফুট লম্বা কলার ছড়ায় কলা ধরেছে প্রায় হাজার খানেক বর এই দুটি কলা গাছের সন্ধান মিলেছে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের মুনিম সিদ্দিকির বাড়িতে।

কৃষিবিদরা বলেন, বাংলাদেশে এটি হাজারি কলা নামে পরিচিত হলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর নাম থাউজেন্ডস ফিঙ্গার ব্যানানা। থাউজেন্ডস ফিঙ্গার ব্যানানা বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা কলার ছড়া হিসেবে পরিচিত। মানুষ শখের বসে চাষ করেন এটি। এ প্রজাতির কলার আদি নিবাস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায়।

এ ধরনের কলা গাছে একেকটি ছড়া ৬ ফুট থেকে ১০ ফুট লম্বা হয়।ছড়ার উপরের অংশের কলা বড় হলেও নিচের অংশের কলা ছোট থাকে। এ ধরনের কলার ছড়া গাছের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।

কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের যোগীবিল গ্রামের বাসিন্দা এবং ‘এসো বাগান করি’ নামের একটি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডমিন মুনিম সিদ্দীকি।

তিনি বলেন- ‘আমি ফিলিপাইন থেকে এই কলার গাছের
চারা সংগ্রহ করেছি। আমার বাড়িতে দুইটা কলা গাছে ফল ধরেছে। ৬ থেকে ৭ ফুট লম্বা কলার ছড়া দিয়েছে। এগুলো আরও লম্বা হবে। একেকটি৷ ছড়ায় হাজার খানেক কলা ধরেছে। আমি শখের বসে রোপণ করেছি।

এটির প্রকৃত নাম থাউজেন্ড ফিঙ্গার ব্যানানা আর বাংলাদেশ হাজারি কলা বলে ডাকা হয়। আমার কাছে এই কলা গাছের কিছু চারা ছিল। যারা দেখতে আসেন তাদের মধ্যে অনেকেই আমার চারা সংগ্রহ করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বৃক্ষপ্রেমী মানুষ। আমার বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের দেশি বিদেশি ফলজ ও বনজ গাছ রয়েছে। অনেকেই আসেন কলা গাছসহ বিভিন্ন ধরনের গাছ দেখতে। আমরা এই কলাকে দুভাবে ব্যবহার করতে পারি।

একটি হচ্ছে খাওয়ার জন্য, অপরটি হচ্ছে অর্নামেন্টাল প্ল্যান্ট হিসেবে। আমি মূলত বাড়িতে সাজ-সজ্জা বৃদ্ধির জন্য লাগিয়েছি। এই কলার উপরের অংশের কলা পোক্ত হলে খাওয়া যায়।’

থাউজেন্ডস ফিঙ্গার ব্যানানা দেখে প্রকৌশলী রাকিব আহমেদ বলেন, ‘আমরা মুনিম সিদ্দীকির বাড়িতে ঘুরতে গিয়েছিলাম। এখানে বিভিন্ন ধরনের গাছগাছালি আছে। তবে থাউজেন্ডস ফিঙ্গার ব্যানানা দেখে অবাক হয়েছি। একটি কলা গাছে ৭ থেকে ৮ ফুট লম্বা কলার ছড়া ধরেছে,উপর থেকে নিচ পর্যন্ত হাজার খানেক কলা ধরেছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, ‘এ প্রজাতি কলাকে বিদেশে থাউজেন্ডস ফিঙ্গার ব্যানানা বলে। আমাদের দেশে খুবই বিরল এই কলা। এই কলা আকারে অনেক ছোট হলেও কলার ছড়ায় কয়েক হাজার কলা ধরে।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশে হাজারি কলা হিসেবে এটি পরিচিত। কেউ চাইলে এই কলা খেতে পারবে। আবার কেউ বাড়ির সাজসজ্জার জন্য রোপণ করে থাকেন। সঠিক পদ্ধতিতে এই কলা পরিচর্যা করলে ছড়ার আকার বড় হতে পারে।