কেন্দুয়ায় গ্রামীণ রাস্তা কেটে ফেলার অভিযোগ, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

প্রকাশিত: ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ , ২০ আগস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামে একটি গ্রামীণ রাস্তা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীসহ ওই এলাকার হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এঘটনায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রায়পুর গ্রামের শরীফ হাসান ভূঞা ও শরীফ চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাস্তাটি কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। কেন্দুয়া-আঠারবাড়ি সড়ক থেকে চুচিয়াবিল পর্যন্ত রাস্তাটি ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা সরকারি বরাদ্দ এবং গ্রামবাসীর সহযোগিতায় নির্মাণ করা হয়। রাস্তাটির কিছু অংশ এলজিইডির আওতায় পাকাকরণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ডিও লেটার দিয়েছেন বলেও স্থানীয়রা জানান।

তবে সম্প্রতি রাস্তাটির একটি অংশ কেটে ফেলায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল চৌধুরী বলেন, আমরা সবাই মিলে রাস্তাটি নির্মাণ করেছিলাম। হঠাৎ করে রাস্তাটি কেটে ফেলায় এলাকাবাসী এবং স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বিপদে পড়েছে।

এমপি মহোদয় রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য চেষ্টা করছেন। এ অবস্থায় রাস্তা কেটে ফেলার ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল চৌধুরী বলেন, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা সরকারি বরাদ্দে কাবিখা প্রকল্পের মাধ্যমে রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কারও সঙ্গে আলোচনা না করে হঠাৎ করে রাস্তাটি এভাবে কেটে ফেলায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শরীফ হাসান ভূঞা ও শরীফ চৌধুরী বলেন, রাস্তাটি যে জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে, সেটি তাদের ব্যক্তিমালিকানাধীন। সাময়িকভাবে চলাচলের সুবিধার জন্য সেখানে রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল।

রাস্তার কিছুটা পূর্ব পাশে একটি সরকারি হালট রয়েছে। ওই হালট দখলমুক্ত হওয়ায় সেটি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই রাতের আঁধারে নয়, দিনের বেলায় লোকজন নিয়ে রাস্তাটি কাটা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

তারা আরও দাবী করে বলেন, কাটা রাস্তাটি কোনো আইডিভুক্ত রাস্তা নয়। জায়গাটি সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব। কেন্দুয়া পৌর বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও পিজাহাতি গ্রামের বাসিন্দা মোজাম্মেল হক রনি বলেন, সরকারি বরাদ্দের অর্থে নির্মিত রাস্তা কেটে ফেলা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। যথাযথ কর্তৃপক্ষ রাস্তাটি পাকাকরণের আশ্বাস দিয়েছেন। এ মুহূর্তে রাস্তা কাটার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। খোঁজ নিয়ে দেখব।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর