খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে কৃষি, বসতবাড়ি ও শিক্ষাখাতে ব্যাপক ক্ষতি

প্রকাশিত: ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ , ২৯ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 month আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

খাগড়াছড়িতে টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ, কৃষক ও শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খাগড়াছড়ির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জেলায় ২২১ হেক্টর পাকা ধান, ৬৩ হেক্টর সবজি ক্ষেত এবং ৫৪৮ হেক্টর ফলবাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিচু এলাকার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পাকা ধানসহ প্রস্তুত ফসল ব্যাপকভাবে নষ্ট হয়েছে।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলাসহ কয়েকটি উপজেলার কৃষকরা জানান, হঠাৎ পাহাড়ি ঢলের কারণে অনেক জমি মুহূর্তের মধ্যে পানির নিচে চলে যায়। ফলে মাঠে থাকা পাকা ধান কাটার আগেই নষ্ট হয়ে যায়। একইভাবে সবজি ক্ষেতের গাছ উপড়ে পড়েছে এবং ফলবাগানের গাছপালাও ক্ষতির শিকার হয়েছে।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী জানান, “বিভিন্ন উপজেলায় কৃষি ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করছেন এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ চলছে।”

এদিকে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন উপজেলায় বহু বসতবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও টিনের ঘর বাতাস ও পানির চাপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আবার কোথাও পাহাড়ি ঢলের পানিতে ঘরের দেয়াল ও মাটি ধসে পড়েছে। এতে অনেক পরিবার সাময়িকভাবে আশ্রয়কেন্দ্র ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছে।

শুধু কৃষি ও বসতবাড়িই নয়, দুর্যোগের প্রভাবে জেলার শিক্ষাখাতেও ব্যাপক ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা চরম অসুবিধার মধ্যে পড়েছেন। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত বন্ধ বা সীমিত হয়ে পড়ে। ফলে পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও নিয়মিত ক্লাস কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছু উপজেলায় সরকারি ও বেসরকারি কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়েছে, আবার কোথাও স্কুল ভবনের আংশিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, একদিকে কৃষির ক্ষতি, অন্যদিকে বসতবাড়ি ও শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন—সব মিলিয়ে দুর্যোগের প্রভাব বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা চিহ্নিত করে পুনর্বাসন ও সহায়তা কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর