• চট্রগ্রাম দেশজুড়ে
  • খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের আন্তরিক প্রচেষ্টা: মতবিনিময় সভা ও পরিদর্শন

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা উন্নয়নে

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের আন্তরিক প্রচেষ্টা: মতবিনিময় সভা ও পরিদর্শন

প্রকাশিত: ১:৪০ অপরাহ্ণ , ৯ জানুয়ারি ২০২৫, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন

লক্ষ্মীছড়ি সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে আজ বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি, ২০২৫) দুপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা উপস্থিত ছিলেন প্রধান অতিথি হিসেবে। উপজেলা উন্নয়নের প্রতি তার গভীর দৃষ্টি ও আন্তরিক প্রচেষ্টার কথা তিনি এদিন তুলে ধরেন।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা। তিনি বলেন, “পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ জনকল্যাণে সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে এগিয়ে যাবে। আমাদের লক্ষ্য হবে এই জেলা থেকে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা।”

এসময়, তিনি লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেন, “এখানে স্কুলের অবকাঠামো নেই, বিদ্যুৎ, বাজারসহ নানা সংকট বিদ্যমান। এ ব্যাপারে প্রশাসন ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করবে। যাতে লক্ষ্মীছড়ি এগিয়ে যেতে পারে।”

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অঃ দাঃ) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য প্রফেসর আবদুল লতিফ, প্রশান্ত কুমার ত্রিপুরা, শেফালিকা ত্রিপুরা, অনিময় চাকমা, নিটোল মনি চাকমা, মোঃ শহীদুল ইসলাম সুমন, এ্যাডভোকেট মনজিলা সুলতানা, মোঃ মাহবুবুল আলম, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেটু কুমার বড়ুয়া, বিভিন্ন ইউপির চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিরা।

এছাড়াও, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের মতামত তুলে ধরেন। তাদের মধ্যে, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা শাখার সমন্বয়ক রুপন চাকমা বলেন, “লক্ষ্মীছড়ি উপজেলাকে বিগত সরকার যথেষ্ট অবহেলা করেছে। এখানে প্রধান সমস্যা হলো শিক্ষা। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে এবং স্থানীয় চাকরি প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন।”

মতবিনিময় সভায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রুপন চাকমা আরও জানান, “স্বাস্থ্য খাতে লক্ষ্মীছড়ি ব্যাপক সংকটে রয়েছে। এখানে এক্সরে মেশিন থাকলেও টেকনিশিয়ান নেই, বিভিন্ন পদে জনবল সংকট রয়েছে। বহু গ্রামের মানুষ এখনও বিদ্যুতের আলো দেখেনি। এমনকি সাধারণ রক্ত পরীক্ষা করাতেও রোগীদের অন্য উপজেলায় যেতে হয়।” তিনি সরকারের কাছে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং স্থানীয় মানুষের জন্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

বর্মাছড়ি ইউনিয়নের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, এখানে কয়েকটি সরকারি স্কুল থাকলেও অনেক স্কুলে শৌচাগারের ব্যবস্থা নেই, বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যায় না, এবং পাঠাগারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তিনি বিশেষভাবে পাঠাগার স্থাপনের দাবি জানান।

প্রধান অতিথি জিরুনা ত্রিপুরা, লক্ষ্মীছড়ির শিক্ষাব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যখাতের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্যদের সাথে পরিদর্শনে যান। তারা প্রথমে লক্ষ্মীছড়ি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান এবং সেখানকার শিক্ষা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।

এরপর, হাজাছড়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন, যা দীর্ঘদিন অযতেœ ও অবহেলায় ছিল। সেখানে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের সমস্যাগুলো শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

পরিদর্শনের পর, তিনি লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন শেষে তিনি রোগীদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের অবস্থা জানার চেষ্টা করেন। এছাড়া, এক্সরে রুম পরিদর্শন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ আতাউর রহমান চৌধুরী সহ অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মীরা।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরার নেতৃত্বে, বিশেষজ্ঞ সদস্যদের সহায়তায়, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত হবে। সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং সহমর্মিতার মাধ্যমে এখানে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দারা।