
শাহরিয়ার মিল্টন , শেরপুর : শেরপুরের গারো পাহাড়ে মানুষের জানমাল রক্ষা এবং বন্যহাতির আক্রমণ থেকে বাঁচতে এক অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে এবার হাতি চলাচলের পথে বসানো হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিসম্পন্ন ক্যামেরা বা ‘আর্লি ডিটেকশন ডিভাইস’।
এর পাশাপাশি বন্যহাতির পান ও গোসলের জন্য পাহাড়ের ভেতরে তৈরি করা হবে বেশ কিছু কৃত্রিম জলাধার। শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরীর উদ্যোগে এই বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে বন বিভাগের নেওয়া সোলার ফেন্সিং, বায়ো ফেন্সিং এবং হাতির খাদ্য উপযোগী বাগান তৈরির মতো প্রকল্পগুলো যাতে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, সে লক্ষ্যে বন বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
গত ৪ জুলাই শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্কে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে ফাহিম চৌধুরী এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তারই নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসন এই সেমিনারের আয়োজন করে।
এতে উপস্থিত ছিলেন, ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী নুরুল করিম, শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন, সহকারী বন সংরক্ষক সাদেক আলী খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেক, ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্স-এর কমিউনিটি গভর্নেন্স স্পেশালিস্ট আবরার আহমাদ, হাতি সংরক্ষণ কমিটি ও এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
সেমিনারে জানানো হয়, মোবাইল অপারেটর ‘গ্রামীণফোন’-এর সহযোগিতায় নালিতাবাড়ী সীমান্তের বন্যহাতি চলাচলের পথগুলো চিহ্নিত করে মোট ১৫টি এআই প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা বসানো হবে। এই ক্যামেরাগুলো সার্বক্ষণিক হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করবে।
বিশেষ করে হাতি যখনই লোকালয়ের দিকে অগ্রসর হবে, তখনই ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছবি তুলে ‘টেলিগ্রাম’ অ্যাপের মাধ্যমে এক মিনিটের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মোবাইলে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দেবে। এর ফলে দ্রুত এলাকার মানুষ আগেভাগেই সতর্ক হতে পারবেন, যা প্রাণহানি ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি বিপুল পরিমাণে কমিয়ে আনবে।
সংসদ সদস্যের বিশেষ বরাদ্দ থেকে হাতির বিচরণক্ষেত্রে বেশ কিছু গভীর সাবমার্সিবল পাম্পযুক্ত জলাধার তৈরি করা হবে। যেসব এলাকায় হাতির অবস্থান বেশি, সেখানে প্রয়োজনীয়সংখ্যক জলাধার খনন করা হবে।
প্রাকৃতিক উৎসের পানি ধরে রাখার পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মেটাতে গভীর সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপন করা হবে, যা নিরাপদ দূরত্ব থেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এর ফলে বন্যহাতি বনের ভেতরেই পর্যাপ্ত পানি পাবে এবং পানির সন্ধানে লোকালয়ে আসার প্রবণতা অনেকটাই কমে যাবে।
সেমিনারে বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নালিতাবাড়ীর বন্যহাতি উপদ্রুত এলাকায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ‘বায়ো ফেন্সিং’ (কাঁটাযুক্ত উদ্ভিদের বেড়া) নির্মাণ এবং ৫ হেক্টর জমিতে হাতির খাদ্য উপযোগী বাঁশ বাগান তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।
বন্যহাতি ও মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা এবং ইআরটি সদস্যদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, সাধারণ মানুষকে হাতির সামনে মশাল জ্বালাতে নিষেধ করা হয়েছে, বন্যহাতি তাড়ানোর কাজ কেবল প্রশিক্ষিত ইআরটি সদস্যরাই করবেন।
এছাড়া হাতিকে উত্ত্যক্ত, না করতে বনাঞ্চলে ডিজেলচালিত বৈদ্যুতিক জেনারেটর ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
সংসদ সদস্য ফাহিম চৌধুরী বলেন, হাতি আমাদের দেশের সম্পদ, তাই কোনোভাবেই হাতির ক্ষতি করা যাবে না। আমি ইআরটি সদস্যদের সম্মানী ভাতা বাড়ানোর জন্য উচ্চ পর্যায়ে কথা বলব।
পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের দক্ষ করে তোলা হবে। এআই ক্যামেরা ও জলাধার নির্মাণের পাশাপাশি বন বিভাগের প্রকল্পগুলো যাতে শতভাগ সফল হয়, আমি নিজে তা তদারকি করব। মানুষ ও হাতির সহাবস্থান নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন, তার সবই করা হবে।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
পাইকগাছায় গাঁজাসহ দুই যুবক আটক
পাইকগাছায় গাঁজাসহ দুই যুবক আটক
বাকেরগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দকৃত কারেন্ট জাল পুড়িয়ে...
বাকেরগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দকৃত কারেন্ট...
সাপাহারে শিরন্টি ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহজাহান আলীর গণসংযোগ
সাপাহারে শিরন্টি ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহজাহান...
শেরপুর ডপস সদস্যদের মূল্যায়ন পরীক্ষা ও শিক্ষা উপকরণ...
শেরপুর ডপস সদস্যদের মূল্যায়ন পরীক্ষা ও...
শেরপুর পূজা উদযাপন ফ্রন্ট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এমপি রাশেদের...
শেরপুর পূজা উদযাপন ফ্রন্ট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে...
জনপ্রিয়তার শীর্ষে ইমদাদুল হক ইমদাদ: বেনাপোলে বইছে পরিবর্তনের...
জনপ্রিয়তার শীর্ষে ইমদাদুল হক ইমদাদ: বেনাপোলে...