
মজিবুর রহমান,নেত্রকোণাঃ নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে একটি কেন্দ্রের সব কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। অব্যাহতি পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন, হল সুপার ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক কামরুজ্জামান, কেন্দ্র সচিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফরিদা আক্তার, ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বরুণ সাহা এবং পরীক্ষা সহকারী শিক্ষক ইব্রাহিম মিয়া।
তাদের পরিবর্তে হল সুপার হিসেবে গগডা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন, কেন্দ্র সচিব হিসেবে পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা রুবেল মিয়া এবং ট্যাগ অফিসার হিসেবে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার আবুল কাশেমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৩ মে গণিত পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের ভেতরে শিক্ষার্থীদের ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি অভিভাবকদের জানালে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় দিনভর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী। তিনি প্রশাসন, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এর পরদিন ৪ মে কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা সব কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দিয়ে নতুনদের নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমান, সদস্য সচিব মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল বারী এবং সদস্য হিসেবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ রয়েছেন।
এদিকে গণিত পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার দাবিতে অভিভাবকেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আবেদন করেছেন।
একটি সূত্র জানায়, জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে ফলাফল নিয়ে প্রতিযোগিতা রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফল খারাপ করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের আচরণ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফরিদা আক্তার।
এব্যাপারে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাতুল ইসলাম বলেন, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
পুনরায় গণিত পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে অভিভাবকদের আবেদন জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
ধামইরহাটে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১২টি গ্রামে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোসাদ্দেকুর...
ধামইরহাটে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১২টি গ্রামে চেয়ারম্যান...
নড়াইলে যুবলীগ স্যারের ডিলারশিপ পাওয়ায় বিএনপি’র বিক্ষোভ
নড়াইলে যুবলীগ স্যারের ডিলারশিপ পাওয়ায় বিএনপি’র...
৪নং ওয়ার্ডে গণসংযোগ: দুই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা কার্যকর করার...
৪নং ওয়ার্ডে গণসংযোগ: দুই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা...
কৃতি শিক্ষার্থী আয়েশা মোস্তাফিজ শাওমিকে মেয়র প্রার্থী ইমদাদের...
কৃতি শিক্ষার্থী আয়েশা মোস্তাফিজ শাওমিকে মেয়র...
পাইকগাছায় ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে সেমিনার অনুষ্ঠিত
পাইকগাছায় ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে সেমিনার...
নড়াইলে স্ত্রীর মৃত্যুর পর নামাজরত অবস্থায় প্রাণ গেল...
নড়াইলে স্ত্রীর মৃত্যুর পর নামাজরত অবস্থায়...