• রংপুর শীর্ষ সংবাদ
  • পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় অবৈধ ব্যাটারি কারখানার অ্যাসিডযুক্ত পানি খেয়ে মরল ৬ গরু

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় অবৈধ ব্যাটারি কারখানার অ্যাসিডযুক্ত পানি খেয়ে মরল ৬ গরু

প্রকাশিত: ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ , ১১ জুলাই ২০২৬, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, পঞ্চগড়ঃ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় পুরনো ব্যাটারির এসিড ও বর্জ্য ছড়িয়ে পড়া ঘাস ও পানি খেয়ে ছটফট করতে করতে পর্যায়ক্রমে ৬টি গরুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে আরও দুটি গরু।

গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার দেবনগড় ইউনিয়নের দেবুপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরের দিন বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পরিবেশ অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ, পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মী ঘটনাস্থলে যান। এসময় ব্যাটারি কারখানার ১৮ থেকে ২০জন শ্রমিককে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। তবে আগেভাগেই সটকে পড়েন অবৈধভাবে খোলা আকাশের নিচে গড়ে তোলা ব্যাটারি কারখানার মালিক ও ম্যানেজারকে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, স্থানীয় কৃষক ওই ইউনিয়নের দেবুপাড়া গ্রামের মৃত সেরাজ উদ্দিনের ছেলে হাফিজুল ইসলামের ৩টি গরু একই গ্রামের পারমদ্দিনের ছেলে আমিরুল ইসলামের ১টি গরু এবং খাটিয়াগছ গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে শামসুল হকের ১টি গরু একই গ্রামের ইসমাইল হকের ছেলে বাচ্চুর ১টি গরু মারা গেছে।

তাদের দাবি, গরুগুলোর মৃত্যুর ঘটনায় তাদের প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আরও জানা গেছে, দেবুপাড়া গ্রামের হাসানের ১টি গরু ও হাফিজুলের ১টি গরু অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীণ রয়েছে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দেবুপাড়া এলাকায় অবৈধভাবে পুরানো ব্যাটারি পুণঃপ্রক্রিয়াজাত করার কারখানা স্থানীয়ভাবে পরিচালনা করছিলেন ওই এলাকার সুমন রেজা ও ভজনপুরের আলামিনসহ বেশ কয়েকজন। তাদের সহযোগিতায় ব্যাটারি কারখানার মালিক দীর্ঘদিন ধরে সেখানে পুরনো ব্যাটারি থেকে সিসা ও অ্যাসিডসহ বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ফেলে আসছিলেন। এতে আশপাশের কৃষি জমি ও পানি দূষিত হয়ে পড়ে। ব্যাটারি ফ্যাক্টরির দূষিত ঘাস ও পানি খেয়ে পর্যায়ক্রমে গরুগুলো মারা যায়।

কৃষক হাফিজুল বলেন, এই ব্যাটারি ফ্যাক্টরির অ্যাসিড মিশ্রিত ঘাস ও পানি খেয়ে তার তিনটি গরু মারা গেছে। তিনি অবৈধ এই ব্যাটারি ফ্যাক্টরির বিচার চাই।

আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার নিজস্ব তেমন কোনো জমিজমা নেই। জমি বর্গা নিয়ে আবাদ করি। গরু দুটিই আমার সম্বল। একটি মারা গেছে, একটি অসুস্থ। অসুস্থ্য গরুটি মারা গেলে সব শেষ, আমরা নিঃস্ব হয়ে যাবো।’ তিনি এই অবৈধ ব্যাটারি ফ্যাক্টরির দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘ব্যাটারি কারখানায় বর্জ্য পোড়ানোর সময় ছড়িয়ে পড়া ধোঁয়া ও তরল পদার্থের কারণে শুধু গবাদি পশুই নয়, আশপাশের হাঁস-মুরগি ও ফসলসহ গাছপালা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।’

তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লাইছুর রহমান বলেন, ‘এই ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল, ব্যাটারি কারখানার সকল তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। কারখানার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবার থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নাজমুল হক বলেন, ‘খবর পাওয়ার সাথেই আমাদের টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। মৃত গরুগুলোর ময়নাতদন্ত চলছে। নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হবে। রিপোর্ট এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ছাড়া অসুস্থ গরুগুলোর চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’

এ বিষয়ে পঞ্চগড় পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল গফুর বলেন, তিনি ঘটনাস্থল এসে তদন্ত পূর্বক সকল তথ্য সংগ্রহ করেছেন। উর্ধ্বতন কতৃপক্ষসহ জেলা প্রশাসককে অবগত করে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা সুলতানা বলেন, তিনি প্রাণিসম্পদ অফিসার ও থানার ওসিকে বলে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্ট লোক পাঠিয়েছেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের এডি সেখানে গেছেন। অফিসারদের কাছ থেকে পরিপূর্ণ তথ্য জানতে পারলে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন জানিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর