পার্বত্য অঞ্চলে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি নিশ্চিতে খাগড়াছড়িতে সমন্বয় সভা

প্রকাশিত: ৩:২৮ পূর্বাহ্ণ , ৮ ডিসেম্বর ২০২৫, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 6 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকদের জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি সম্প্রসারণকে এগিয়ে নিতে খাগড়াছড়িতে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা (TUS)–এর উদ্যোগে এবং আইসিআইএমওডি (ICIMOD)–এর আর্থিক সহায়তায় চলমান “জিইএসআই (লিঙ্গ সমতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি)-সমন্বিত প্রকৃতিনির্ভর সমাধানের মাধ্যমে জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি” প্রকল্পের অংশ হিসেবে গতকাল রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে শহরের মিলনপুরস্থ হিলটপ গেস্ট হাউজে দিনব্যাপী এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী, অতিরিক্ত উপপরিচালক ওঙ্কার বিশ্বাস, জেলার সকল উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা ও সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিনা (BINA) খাগড়াছড়ি সাব সেন্টারের ইনচার্জ রিগেন দত্ত, পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের গবেষক, এবং Helvetas Bangladesh-এর থিমেটিক কর্মকর্তা ও মাঠ সমন্বয়কারী দীপ্তিময় চাকমা অংশ নেন।

সভায় কমিউনিটি লার্নিং সেন্টার (CLC)-এর অগ্রগতি, কৃষক প্রশিক্ষণ, প্রকৃতি-ভিত্তিক কৃষি সম্প্রসারণ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় উপযোগী কৃষি-পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বক্তারা পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও কৃষির বিশেষ চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে প্রকৃতিনির্ভর সম্প্রসারণ কার্যক্রম জোরদারের তাগিদ দেন।

প্রকল্প ব্যবস্থাপক স্যুইচিং অং মারমা প্রকল্পের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন। থিমেটিক কর্মকর্তা দীপ্তিময় চাকমা জানান, প্রকল্প এলাকায় ইতোমধ্যে ২৭টি জলধারা (Spring) শনাক্ত এবং ৩০টি কৃষক সেশন সম্পন্ন হয়েছে।

সভায় প্রাকৃতিক কীটনাশক ব্যবহার, ভার্মি-ওয়াশের ল্যাব পরীক্ষা, এবং জল-সংকটপূর্ণ এলাকায় ফেলন (বরবটি) চাষ সম্প্রসারণসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচিত হয়। উপপরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী প্রতিটি কৃষকের জমিতে ফেলন চাষ সম্প্রসারণ এবং ব্লকভিত্তিক বীজ বিতরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভার শেষে নথিভুক্তিকরণ জোরদার, সিএলসি প্রযুক্তি তালিকা পর্যালোচনা, ভার্মি-ওয়াশের দ্রুত ল্যাব পরীক্ষা, এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধিসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অংশগ্রহণকারীরা জানান, ভার্মি-ওয়াশ বাংলাদেশের জন্য নতুন প্রযুক্তি, এবং এর সফলতা কৃষিতে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর