• খুলনা দেশজুড়ে
  • বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী ২৬ ফেব্রুয়ারী

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী ২৬ ফেব্রুয়ারী

প্রকাশিত: ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ , ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন

দেশের সূর্য সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) । এ উপলক্ষে বুধবার সকালে নূর মোহাম্মদ নগরে কোরআনখানি, স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি, গার্ড অব অনার প্রদান, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

জেলা প্রশাসন ও বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ট্রাস্ট্রের উদ্যোগে এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৫৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে (ইপিআর) যোগদান করেন। বর্তমানে ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’ (বিজিবি) নামে প্রতিষ্ঠিত।

দীর্ঘদিন দিনাজপুর সীমান্তে চাকরি করে ১৯৭০ সালের ১০ জুলাই যশোর সেক্টরে বদলি হন। পরে ল্যান্স নায়েক পদে পদোন্নতি পান নূর মোহাম্মদ। ১৯৭১ সালে যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে যশোরের শার্শা থানার কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নেতৃত্বে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। এ সময় এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮নম্বর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন কর্নেল (অব:) আবু ওসমান চৌধুরী এবং সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কমান্ডার ছিলেন মেজর এসএ মঞ্জুর।

১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোরের গোয়ালহাটি ও ছুটিপুরে পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে মৃতুবরণ করেন নূর মোহাম্মদ। এদিন পাকবাহিনীর গুলিতে সহযোদ্ধা নান্নু মিয়া গুরুতর আহত হলেও সহযোদ্ধাকে কাঁধে নিয়েই এলএমজি হাতে নিয়ে শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে গুলি ছুঁড়েছেন।

এক পর্যায়ে পাকবাহিনীর একটি মর্টারের আঘাতে নূর মোহাম্মদের হাঁটু ভেঙ্গে যায়। শক্রমুক্ত করার জন্য প্রাণপণ যুদ্ধ চেষ্টা চালিয়ে যান। যশোরের শার্শা থানার কাশিপুর গ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে বীরোচিত ভূমিকা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত হন।

জানা যায়, এই বীরশ্রেষ্ঠের স্মরণে তাঁর নিজ গ্রামে নির্মিত হয়েছে-‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর’, ‘স্মৃতিস্তম্ভ’, ‘স্কুল এবং কলেজ’। এ ছাড়া নড়াইলের বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তি ও সামাজিক উদ্যোগে তাঁর নামে বিভিন্ন ধরণের ক্লাব ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। নড়াইল শহরে একটি স্টেডিয়ামের নামকরণ করণ করা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের নামে।

সরকারিভাবে করে দেয়া হয়েছে একটি বাড়ি।বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার মহিষখোলা গ্রামে (বর্তমান নাম নূর মোহাম্মদ নগর) জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম মোহাম্মদ আমানত শেখ এবং মা জেন্নাতুন্নেছা।

নূর মোহাম্মদ বাল্যকালে বাবা ও মাকে হারান। লেখাপড়া করেছেন সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত। নূর মোহাম্মদ শেখের দ্বিতীয় স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেসা (৭৯) বার্ধক্যজনিত কারণে ২০১৮ সালের ২১ নভেম্বর ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

এর আগে ১৯৯০ সালে নূর মোহাম্মদ শেখের প্রথম স্ত্রী তোতা বিবি মারা যান। বর্তমানে ছেলে গোলাম মোস্তফা কামাল ও তিন মেয়ে নড়াইল এবং যশোরে বসবাস করছেন।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর