বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের ১০ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

প্রকাশিত: ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ , ৪ অক্টোবর ২০২৪, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 years আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন

শাহরিয়ার মিল্টন,শেরপুর : ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের ভোগাই ও চেল্লাখালি নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ঝিনাইগাতীর মহারশি ও নালিতাবাড়ী উপজেলার ভোগাই নদীর পানি বেড়ে গিয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

ঝিনাইগাতীর মহারশি নদীর বিভিন্ন জায়গায় বাধ ভেঙে ও পাড় উপচে উপজেলা সদর বাজারসহ বিভিন্ন রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। বাড়ি-ঘরে প্রবেশ করেছে পানি। এছাড়া নালিতাবাড়ীর ভোগাই নদীর বাধ ভেঙে এলাকায় পানি প্রবেশ শুরু করেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন মানুষ। ঝিনাইগাতি উপজেলা সদর বাজার ও উপজেলা পরিষদ ইতিমধ্যেই প্লাবিত হয়েছে।

নালিতাবাড়ীর শিমুলতলা, ঘাকপাড়া, মন্ডলিয়াপাড়া ভজপাড়া ও সন্নাসীভিটায় ভোগাই এবং চেল্লাখালীর বাঁধ ভেঙেছে। নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে শেরপুর-নালিতাবাড়ী ভায়া গাজিরখামার সড়ক। চেল্লাখালী নদীর তীরবর্তী বাতকুচি এলাকা প্লাবিত হয়ে অনেকে বাড়িতে আটকা পড়েছেন।

আটকা পড়াদের উদ্ধারে অংশ নিয়েছেন নালিতাবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। নন্নী-আমবাগান সড়ক, নন্নী-মধুটিলা ইকোপার্ক সড়ক, আমবাগান-বাতকুচি সড়ক চেল্লাখালী নদীর পানিতে তলিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে। এসব এলাকার কয়েক হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি। এছাড়াও জেলার প্রতিটি শহরে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।

পাহাড়ি ঢলের পানিতে আকস্মিক প্লাবিত হয়েছে নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতির অন্তত ১০টি ইউনিয়ন। এসব এলাকার কয়েক হাজার মানুষ আকস্মিক পানিবন্দি হয়ে পড়ছে। তলিয়ে গেছে শত শত একর জমির উঠতি আমন ফসল।

শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, নালিতাবাড়ীর চেল্লাখালী নদীর পানি বিপদসীমার ৫২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে এবং ভোগাই নদীর পানি বিপদসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একইসাথে বেড়েছে মহারশি, সোমেশ্বরী, মৃগী ও পুরাতন ব্রক্ষপুত্র নদের পানি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘন্টায় শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বৃষ্টিপাত হয়েছে ৩২০ মিলিমিটার। চলমান পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে জেলার আমন আবাদের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

মন্তব্য লিখুন