
মো.সাহিদুল ইসলাম শাহীনঃ- ২০২৪’ এর জুলাই-আগষ্ট গণঅভ্যুত্থানে সকল শহীদ ও আহতদের স্মরণে “বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন” বেনাপোল পৌর শাখার উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলার শার্শা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষে শওকত মেহেদী সেতু,সহকারী কমিশনার(ভূমি)। এতে সভাপতিত্ব করেন, বেনাপোলের ছাত্র বৈষম্য আন্দোলণের অন্যতম সমন্বয়ক শ্রদ্ধেয় শিক্ষক স্যার,আব্দুল মান্নান(অবসর প্রাপ্ত)।
রবিবার(২৩ মার্চ) বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্রবৃন্দ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-“বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন” যশোর জেলা শাখা’র আহবায়ক-মো.রাশেদ খান,যুগ্ম-সদস্য সচিব-রেজওয়ান হোসেন আকাশ,মূখ্য সংগঠক-আল মামুন লিখন,জুলাই-আগষ্টের আন্দোলনে নিহত শহীদ আব্দুল্লাহ’র পিতা,মো.আব্দুল জব্বার,বেনাপোল পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক-আবু তাহের ভারত,জামায়াত’র কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য-মাওলানা মো.আজিজুর রহমান,পৌরশাখা জামায়াত’র সাধারণ সম্পাদক-নুরুল হক,জামায়াত নেতা-আরিফ বিল্লাহ(প্রভাষক,বেনাপোল মদিনাতুল উলুম হাফিজিয়া মাদরাসা,বেনাপোল পৌর ছাত্রদল শাখা’র আহবায়ক-মো.আরিফুল ইসলাম আরিফ,সদস্য সচিব-ইশতিয়াক আহম্মেদ শাওন।
ইফতার পরিবেশনে-“বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন” বেনাপোল পৌর শাখার সদস্যরা হলেন-যুগ্ম আহবায়ক-মো. রাফসান জামি রাব্বি,মো. রাব্বি আহম্মেদ,মো. আবু সাঈদ সায়েম,মো. সুমন হোসেন, মো. কামরুজ্জামান শান্ত ও মো. শাকিল হোসেন।
যুগ্ম সদস্য সচিব-মো. তাজউদ্দিন প্রতীক,মো. মিজানুর রহমান,মো. সাজ্জাদুল আলম মুন্না,মো. রাকিব হোসেন,মো. রিফাত হোসেন রাতুল ও মো. তামিম হাসান মুখ্য সংগঠক-মো. নাইমুর রহমান।

সংগঠক-মো. জাহিদ হাসান,মো. জারিদুল ইসলাম,
মো. ইউসুফ আলী,মো. হাসিব হোসাঈন,মো. আশরাফুজ্জামান রনি ও মো. ইমরুল কায়েস।মুখপাত্র-মো. মুশফিকুর রহমান তাসিন। সদস্য- মো. আরিফুল ইসলাম,মো. আরিফ হোসাইন,মো. জাবির,মো. নাহিদ খান,মো. আসিফ হাসান,মো. ফাহিম ফয়সাল শোভন,মো. ইমন হোসাইন,মো. সিয়াম,মো. আসিফ,মো. আশিকুর রহমান,মো. বিপ্লব,মো. শিহাব,মো. রাফিজ হোসেন,মো. আবুজার হোসাইন,মো. তৌহিদুর রহমান রচি,মো. তুষার,মো. ওয়াহিদ মাহমুদ হৃদয়,মো. আবিদ হাসান,
মো. ইমন,মো. আব্দুর রহমান,মো. মোহাম্মাদ উল্লাহ,
মো. রাশেদ হোসেন,মো. তামিম হোসেন,মো. লাম,মো. পলক,মো. সাকিব গাজী,মো. তানজিল হোসেন,মো. মাহিম,মো.আরিফুল ইসলাম নয়ন,মো. পলাশ হোসেন,মো. হাবিবুর রহমান,মো. মুত্তাকিন হোসেন,মো. ফাতিন ফুয়াদ আকিব,মো. মিকাইল,মো. জিসান হোসেন,মো. শাওন হোসেন,মো. সোহান হোসেন,মো. আল গালিব রাব্বি ও মো. আব্দুস সবুর।
দোয়া পরিচালনা করেন-ইনামুল হাসান বিন নূর। জুলাই-আগষ্টে নিহত সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্বাগতিক বক্তব্যে বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান,স্যার শার্শা উপজেলার নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) ডা.রাজিব হাসান’কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন-জনদূর্ভোগ কমাতে
বন্দর নগরী বেনাপোলে যানজট নিরসনে পুলিশি ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার,গত ১৭ বছরে আ.লীগের রেখে যাওয়া খানা-খন্দে পরিণত রাস্তাঘাট,ড্রেনেজ নির্মাণ এবং পূণ:নির্মাণ করে চলেছেন, এবং বেনাপোল শহর’কে অন্ধকারাচ্ছন্ন থেকে মুক্ত করতে শহরের বুকে “হাই লাইট” স্থাপণ,স্কুল-কলেজে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা ইত্যাদী দৃশ্যমান।

এ সকল কাজের জন্য তিনি প্রশংসার দাবীদার বলে উল্লেখ করেন,তবে চিকিৎসা ক্ষেত্রে বেনাপোলের বুকে একটি উন্নত মানের হাসপাতাল নির্মানের জন্য তিনি ইউএনও মহোদয়ের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান। (উল্লেখ্য,হাসপাতাল স্থাপনের ব্যাপারে শ্রদ্ধেয় শিক্ষক আব্দুল মান্নান,স্যার এর আগে ঢাকা স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় সহ যশোর সিভিল সার্জনের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করে বেনাপোল পৌরসভার অনুকূলে জায়গা অধিগ্রহণ করা আছে বলে জানিয়েছেন, তার এ কার্যক্রম ইতোপূর্বে গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়)।
ইফতার মাহফিলের আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন-
“আমরা সকলে মিলে মিশে একটি দলের মতো কাজ করতে চাই, সকল দল নির্বিশেষে যেকোনো বাধা মোকাবেলা করতে চাই,আবার যদি কোনোভাবে কোন “বৈষম্য” দেশকে ঘিরে রাখে তখন সাধারণ ছাত্ররা যেন সেই বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারে,সেজন্য সকলকে এক থাকতে হবে।
আমরা ৫ আগস্ট থেকে পরবর্তী সময়ে এবং পূর্বে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে অংশগ্রহণ করেছি, যা পরবর্তীতে স্বৈরাচারী সরকার পতনে সাহায্য করেছে। এরজন্য আমাদের অনেক’কে প্রাণ দিতে হয়েছে। আমরা সকল দল একসাথে মিলে কাজ করতে চাই। ৫ই আগস্টের স্বৈরাচারী সরকার পতনে আমাদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তার সাথে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
কে ছাত্রদল করে, কে শিবির করে কে বামপন্থী বা অন্যান্য দল করে এটা মূল বিষয় নয় মূখ্য বিষয় হচ্ছে আমরা সকলে বৈষম্য প্রতিরোধের সহযোদ্ধা।এই পরিচয়ে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। এটা কোন রাজনৈতিক সংগঠন নয় এটা একটি প্ল্যাটফর্ম।
এখানে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে একসাথে আগামীর পথ চলতে হবে, আবার যদি কোন বৈষম্য সৃষ্টি হয় তা রুখে দিতে হবে। বৈষম্যকে নির্মূল করতে গিয়ে আমাদেরকে অনেক বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে। তবুও সকলে মিলে আমরা একসাথে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কাজ করতে চাই। যদি আবারও কোন আন্দোলনের ডাক আসে আমরা সতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবো।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন (বৈছাআ) হলো বাংলাদেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠন। ২০২৪ ইং সালে বাংলাদেশে কোটা আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে এটি গঠিত হয় এবং এটি কোটা সংস্কার আন্দোলন ও পরবর্তীতে অসহযোগ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
২০২৪ সালের ১ জুলাই সংগঠনটি সৃষ্টি হয় এবং সৃষ্টির পরপরই আন্দোলন সফল করার জন্য ৮ জুলাই সংগঠনটি ৬৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি ঘোষণা করে, যার মধ্যে ২৩ জন সমন্বয়ক ও ৪২ জন সহ-সমন্বয়ক ছিলেন। আন্দোলনের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার পর ৩ আগস্টে সংগঠনটি দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ১৫৮ সদস্যের সমন্বয়ক দল গঠন করে, যার মধ্যে ৪৯ জন সমন্বয়ক ও ১০৯ জন সহ-সমন্বয়ক ছিলেন।
গত ৫ আগস্ট/২০২৪ ইং তারিখ এক দফা দাবির প্রেক্ষিতে সম্মিলিত ছাত্র-জনতার এক গণঅভ্যুত্থানে পদত্যাগ করে শেখ হাসিনা এবং দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়। এরই মধ্য দিয়ে তার ১৫ বছরেরও বেশি সময়ের শাসনের অবসান ঘটে।
অনুষ্ঠানটি সার্বিক পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন-“বৈষম্য ছাত্র বিরোধী আন্দোলণ” বেনাপোল শাখার আহবায়ক-আসাদুল আল গালিব ও সদস্য সচিব-সাজেদুর রহমান শিপু।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
গৃহপরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন কলিতা
গৃহপরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন কলিতা
উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং, কিমের আমন্ত্রণে বিরল...
উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং, কিমের...
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১৭ অঞ্চল, সপ্তাহজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১৭ অঞ্চল, সপ্তাহজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির...
লাইভে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা দিয়ে পুলিশ বাবাকে ‘মিথ্যাবাদী’...
লাইভে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা দিয়ে পুলিশ...
এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার
এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ...
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফের পদ্মায় ডুবলো বাস, চালক-হেলপার উদ্ধার
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফের পদ্মায় ডুবলো বাস,...