বেনাপোল বন্দরের গতিশীলতা ও সুনাম ফেরাতে ঐক্যবদ্ধ তিন সংগঠন

প্রকাশিত: ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ , ১৯ আগস্ট ২০২৬, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

মো.সাহিদুল ইসলাম শাহীন:- বেনাপোল স্থলবন্দরের কার্যক্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধি, শ্রমিক ও কর্মচারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বন্দরের হারানো ঐতিহ্য ও সুনাম পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে দেশের বৃহত্তম এই স্থলবন্দরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সংগঠন। সংগঠনগুলো হলো বেনাপোল কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন, বেনাপোল হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন (৮৯১) এবং বেনাপোল হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন (৯২৫)।

​মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৫টায় বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি মতবিনিময় সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় তিনটি সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

​সভায় সভাপতির বক্তব্যে বেনাপোল স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুস সবুর শেখ বলেন, “আজকের এই সিদ্ধান্ত একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। বেনাপোল বন্দরের উন্নয়নে আমাদের এই তিনটি সংগঠনের ভূমিকা অপরিসীম।

আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করি, তবে বন্দরের কার্যক্রমে কোনো ধরনের বাধা বা অসুবিধা থাকবে না। বন্দরকে আরও গতিশীল ও ব্যবসাবান্ধব করতে এবং অতীতের সব গৌরবময় অধ্যায়কে ছাড়িয়ে যেতে আমাদের এই ঐক্য সুদৃঢ় রাখতে হবে।”

​স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান বনি বলেন, “বেনাপোল বন্দর শুধু একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র নয়, এটি আমাদের পুরো অঞ্চলের গর্ব ও অর্থনীতির মেরুদণ্ড।

এই বন্দরকে কেন্দ্র করে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষের সরাসরি এবং পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। তাই এই বন্দরের স্বার্থ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা সম্মিলিতভাবে এমন পরিবেশ তৈরি করব, যাতে ব্যবসায়ী এবং সরকার উভয়ই উপকৃত হয়।”

​বেনাপোল হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫-এর সাধারণ সম্পাদক মো. সহিদ আলী বন্দরকে অতীতের সোনালী দিনে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের সবাইকে ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেই বেনাপোল বন্দরের সুনাম ধরে রাখা এবং অতীতের সেই গৌরবময় অবস্থানে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।”

​অন্যদিকে, হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৮৯১-এর সভাপতি মাকসুদুর রহমান রিন্টু বন্দরের সুষ্ঠু কার্যক্রম পরিচালনায় সমন্বয়ের গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “প্রয়োজন মনে করলে আমরা সিঅ্যান্ডএফের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে তিনটি সংগঠন সুসমন্বয়ের মাধ্যমে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে বন্দরের প্রতিটি কার্যক্রম পরিচালনা করব।” একই সঙ্গে তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবির পাশে সর্বদাই থাকার এবং তাদের স্বার্থ সংরক্ষণে কোনো ছাড় না দেওয়ার আশ্বাস দেন।

​মতবিনিময় সভায় অন্যান্য বক্তারাও বন্দরকে শুধু একটি বাণিজ্যিক স্থাপনা হিসেবে না দেখে, একে যশোরসহ সমগ্র বৃহত্তর অঞ্চলের অর্থনীতি ও বিপুল জনসংখ্যার কর্মসংস্থানের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করেন।

তারা একমত হন যে, বন্দরের কার্যক্রমকে নিরবচ্ছিন্ন ও গতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা, এবং গভীর সমন্বয় প্রয়োজন। আজকের এই সভাটি ভবিষ্যতে বন্দরের উন্নতির স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার একটি বলিষ্ঠ ভিত্তি স্থাপন করেছে।

​সভায় উপস্থিত তিন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বন্দরের যেকোনো সংকটে বা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ভবিষ্যতেও সর্বদা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় পুনরায় ব্যক্ত করেন।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর