শার্শায় ৩ দিনব্যাপী ‘কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শনী মেলা-২০২৬’ এর শুভ উদ্বোধন

প্রকাশিত: ৩:২৩ অপরাহ্ণ , ১৯ মে ২০২৬, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 weeks আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

মো.সাহিদুল ইসলাম শাহীন:- ​যশোর অঞ্চলের টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় শার্শা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে জাঁকজমকপূর্ণের মধ্য দিয়ে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার(১৯ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় ​মেলার প্রথম দিনে শার্শা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মেলা প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

এরপর প্রধান অতিথি ৮৫,যশোর-১শার্শা আসনের এমপি মুহাম্মাদ আজিজুর রহমান,ইউএনও ফজলে ওয়াহিদ,এসিল্যান্ড নিয়াজ মাখদুম,শার্শা বিএনপি’র সভাপতি হাসান জহির ও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ বেলুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

​মেলার উদ্বোধন শেষে উপজেলা অডিটরিয়ামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদের সভাপতিত্বে একটি কৃষি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

​​অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা। তিনি শার্শার কৃষি ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তির ছোঁয়া ও আম রপ্তানির সাফল্যের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ​বাংলাদেশের মোট জিডিপিতে (GDP) কৃষি খাতের অবদান প্রায় ১১.৫%।

দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪৫% মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষি কাজের সাথে নিয়োজিত রয়েছেন। ​অতীতে বাংলাদেশ মূলত “জীবননির্বাহী” বা কেবল টিকে থাকার কৃষির ওপর নির্ভরশীল ছিল।

বর্তমান সময়ে সেই পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে দেশ বাণিজ্যিক কৃষির যুগে প্রবেশ করেছে। এর ফলে কৃষি খাতে বিপুল সংখ্যক নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। ​বাংলাদেশ বর্তমানে খাদ্য শস্য উৎপাদনে সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ।

​ধান ও পাট উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয় স্থান এবং চা উৎপাদনে দশম স্থান অধিকার করে আছে। ​অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বর্তমানে বিভিন্ন প্রকার শাকসবজি এবং ফলমূল বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে, যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতেও দেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ​বর্তমান সময়ে কৃষির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জলবায়ু পরিবর্তন।

​এই জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কীভাবে কৃষিকে আরও টেকসই ও লাভজনক করা যায়, সেই লক্ষ্যেই বর্তমান সব কার্যক্রম ও পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।

​শার্শা অঞ্চলটি ধান চাষের জন্য প্রসিদ্ধ হলেও বর্তমানে সবজি ও ফল চাষে এই এলাকা ব্যাপক সাফল্য দেখাচ্ছে। বিশেষ করে এ অঞ্চলের “আম” এখন শার্শার অন্যতম বড় গৌরব।

স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি শার্শার আম এখন আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হচ্ছে। গত পরশু দিনও (১৭ মে) এই অঞ্চল থেকে ৪০০ কেজি হিমসাগর আম ইংল্যান্ডের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে।

​গত বছর শার্শা থেকে প্রায় ৬ মেট্রিক টন (৬,০০০ কেজি) আম বিদেশে রপ্তানি হয়েছিল। এছাড়া প্রথমবারের মতো চীন বাংলাদেশ থেকে যে আম আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা এই শার্শা অঞ্চল থেকেই সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা স্থানীয় কৃষির জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।

কৃষি ঐ কর্মকর্তা তাঁর বক্তব্যের শেষ অংশে প্রথাগত বা সনাতন পদ্ধতির কৃষির পাশাপাশি বাণিজ্যিক সবজি ও ফল চাষের ওপর আরও বেশি জোর দেওয়ার আহ্বান জানান।

সবাইকে শুভেচ্ছা ও ছালাম জানিয়ে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, কৃষি বিভাগকে ধন্যবাদ জানায় মোবারকবাদ জানায় এবং, কৃতজ্ঞতা জানায়। কেননা, আজকে যে কৃষি প্রযুক্তি মেলা, এই মেলার মাধ্যমে আমি আশা করি, আমাদের জ্ঞানের বিস্তৃতি আনবে, আমাদের অভিজ্ঞতার বিস্তৃতি আনবে, আমাদের দেশের উন্নয়ন আসবে।

আল্লাহ তাআলা প্রত্যেকটা দেশের একটা পরিকল্পনা রেখেছেন। সেই বাংলাদেশে আমরা আশা করছি যে, আমাদের এই মাটি অত্যন্ত উর্বর। এইজন্য আমাদের মাটিতে একটা বীজ ফেললেই তার থেকে ফসল পাওয়া যাচ্ছে। পৃথিবীর অনেক দেশে এমনটা পাওয়া যায় না।

আর এইটার জন্য আমাদের জ্ঞানের যে প্রয়োজন, সেখানে আমরা পিছিয়ে আছি। প্রযুক্তির যে প্রয়োজন, সেখানে আমরা পিছিয়ে আছি। উত্তম উদ্যোগের যে প্রয়োজন, সেখানে আমরা পিছিয়ে আছি।

আমাদের এই যে বিভাগটি, কৃষি বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগ—তারা যদি আরও এগিয়ে আসেন, দেশত্ববোধ নিয়ে কৃষকদের যত কাছে যেতে পারেন, তাদের যে দায়িত্ব, তাদের যে কল্যাণ মনস্তত্ত্ব, সেটা যদি কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করা সম্ভব হয়—অবশ্যই আমাদের এই দেশ আরও একটি উন্নত অবস্থায় পৌঁছাবে ইনশাআল্লাহ।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাসান জহির। এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

​পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করতে মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা উপহার হিসেবে দেওয়া হয়।

৩ দিনব্যাপী এই মেলায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির নানা প্রদর্শনীসহ স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত বিভিন্ন ফলমূল ও ফসলের ১৪টি স্টল স্থান পায়। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেলাটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।