কমলগঞ্জে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন: আলামতসহ মূল আসামি গ্রেফতার

প্রকাশিত: ২:৪৯ অপরাহ্ণ , ১৬ জুলাই ২০২৫, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 11 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন

এম এ ওয়াহিদ রুলু,কমলগঞ্জঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের বড়চেগ গ্রামে ময়ুর মিয়া (৬০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত মূল আসামি রিপন দেবনাথ (৪০)–কে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো চাকু, নিহতের মোবাইল ফোনের ভাঙা অংশ ও সিমকার্ড উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিহত ময়ুর মিয়ার সঙ্গে রিপন দেবনাথের সুদের টাকার লেনদেন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। টাকা পরিশোধ করা হলেও চুক্তিনামা বা স্ট্যাম্প ফেরত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে রিপন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।

গত ১১ জুলাই রাতের দিকে দেওড়াছড়া চা বাগান থেকে একসঙ্গে ফেরার সময় স্ট্যাম্প ফেরত চাওয়ার বিষয় নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাকির একপর্যায়ে রিপন ভিকটিমকে বাবনবিল ছড়ার পাশে নিয়ে যায়।

সেখানে রিপন প্রথমে কিল-ঘুষি মারার পর শ্বাসরোধ করে ময়ুর মিয়াকে হত্যা করে এবং মৃত্যু নিশ্চিত করতে ধারালো চাকু দিয়ে পরপর তিনবার আঘাত করে পালিয়ে যায়। হত্যাকাণ্ডের পর রিপন ধারালো চাকুটি প্রতিবেশি নিবাস সাঁওতালের বাড়ির টয়লেটের ভেতর ফেলে দেয় এবং নিহতের মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড ভেঙে পাশের হামিদিয়া চা বাগানে ফেলে রাখে।

উল্লেখ্য, ১১ জুলাই রাতে বাবনবিল ছড়ায় স্থানীয়রা ময়ুর মিয়ার মরদেহ দেখতে পেয়ে কমলগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। ঘটনার পরদিন নিহতের মেয়ে হালিমা বেগম বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৫ জুলাই মঙ্গলবার রাতে মুন্সীবাজার এলাকা থেকে রিপন দেবনাথকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং তার দেখানো মতে হামিদিয়া চা বাগান এলাকা থেকে হত্যার আলামত উদ্ধার করা হয়।