• চট্রগ্রাম দেশজুড়ে
  • দীঘিনালায় রাসায়নিক-বিহীন সবজি চাষে সফল কৃষকরা, পরিবেশবান্ধব কৃষির মডেল উদ্ভাবন

দীঘিনালায় রাসায়নিক-বিহীন সবজি চাষে সফল কৃষকরা, পরিবেশবান্ধব কৃষির মডেল উদ্ভাবন

প্রকাশিত: ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ , ১ ডিসেম্বর ২০২৫, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 6 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের দীঘিনালার কৃষকরা এখন রাসায়নিক সার ছাড়াই চাষ করছেন সবজি, যা শুধু আয়ের নতুন উৎস নয়, বরং পরিবেশবান্ধব টেকসই কৃষির দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। ICIMOD-এর আর্থিক সহায়তা এবং Helvetas Bangladesh-এর কারিগরি সহায়তায় তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা বাস্তবায়িত ‘প্রমোটিং জিইএসআই রেসপনসিভ নেচার-বেসড সল্যুশনস ফর এনাব্লিং রেসিলিয়েন্স ইন চিটাগং হিল ট্র্যাক্টস’ প্রকল্পের আওতায় এটি সম্ভব হয়েছে।

গতকাল রবিবার (৩০ নভেম্বর) দিনব্যাপী গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে দীঘিনালার বড়াদম ও হেডম্যানপাড়া এলাকায় অনুষ্ঠিত নেচার-বেসড সল্যুশনস (NBS) ক্ষেত পরিদর্শনে কৃষকরা সরেজমিনে তাদের সফলতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

দক্ষিণ বড়াদম পাড়ার কৃষক উদাসী চাকমা বলেন, “আগে আমরা রাসায়নিক সার ব্যবহার করতাম, খরচ বেশি হতো। এখন এনবিএস পদ্ধতি শিখে রাসায়নিক ছাড়া ভালো ফসল পাচ্ছি। মাটির স্বাস্থ্যও ভালো থাকছে।” একই এলাকার নয়ন জ্যোতি চাকমা যোগ করেন, “কমিউনিটি লার্নিং সেন্টার থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেই জৈব সার তৈরি করছি। খরচ কম, লাভ বেশি, এবং পরিবেশও রক্ষা পাচ্ছে।”

দক্ষিণ পুকুর ঘাটের রহিন চাকমা ও সনজীবন চাকমা জানান, “বাজারে জৈব সবজির চাহিদা বেশি। ক্রেতারা জানেন যে এতে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক নেই। তাই দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের পরিবারের আয় বেড়েছে।”

নারী কৃষক তুহিনা চাকমা বলেন, “প্রকল্পটি আমাদের আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। ক্ষীরা চাষ করে আমি পরিবারের আয় বাড়াতে পারছি। কমিউনিটি লার্নিং সেন্টারে একসাথে শিখে আমরা নারীর ক্ষমতায়নও নিশ্চিত করছি।”

তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার প্রোগ্রাম ম্যানেজার সুইচিং অং মারমা বলেন, “NBS পদ্ধতি শুধু ফসল বৃদ্ধি করছে না, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায়ও সহায়তা করছে। প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চাষ করলে মাটির উর্বরতা বাড়ে, জীববৈচিত্র্য রক্ষা হয় এবং কৃষক লাভবান হন।”

Helvetas Bangladesh-এর মাঠ সমন্বয়ক দীপ্তিময় চাকমা বলেন, “এখানে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। মাটির ক্ষয় রোধ, পানি ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে NBS অত্যন্ত কার্যকর। আমরা চাই এই মডেল সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ুক এবং সরকারের নীতি ও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হোক।”

পরিদর্শনে কৃষকরা তাদের বাঁধাকপি, বেগুন, শশা, ক্ষীরা ও লাউ ক্ষেত ঘুরে দেখান। লোকাল সার্ভিস প্রোভাইডারদের সঙ্গে প্রকল্প কর্মকর্তারা কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহায়তা ও পরামর্শ প্রদানের কার্যক্রমের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করেন।

সুইচিং অং মারমা বলেন, “দেশের বাজারে কীটনাশক-মুক্ত খাদ্যের চাহিদা বাড়াতে হলে কৃষকরা যেন রাসায়নিক ছাড়া চাষ করতে উৎসাহিত হন। এতে জনস্বাস্থ্য রক্ষা হবে এবং কৃষকও বেশি লাভবান হবেন।”

দীঘিনালার সবুজ পাহাড়ে এই এনবিএস মডেলের সাফল্য পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য এলাকার কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে। প্রকল্পটি প্রমাণ করছে, প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।