জৈব চাষে নতুন সম্ভাবনা—হালিমার বিষমুক্ত লাউক্ষেতে কৃষকদের শেখার দিন

প্রকাশিত: ৩:৪৭ পূর্বাহ্ণ , ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 6 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

পরিবেশবান্ধব কৃষি, স্থানীয় জ্ঞান এবং প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানের চর্চাকে সামনে রেখে দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়নের বাচামেরুং কমিউনিটি লার্নিং সেন্টারের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো ভিন্নধর্মী এক কৃষক মাঠ দিবস। “Promoting GESI Responsive Nature-Based Solutions for Enabling Resilience in CHT” প্রকল্পের আওতায় তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা, ইসিমোড (ICIMOD)-এর অর্থায়ন এবং হেলভেটাস বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় এ আয়োজন কৃষকদের মাঝে জৈব চাষাবাদে নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

গতকাল বুধবার (১০ ডিসেম্বর) কৃষক হালিমা খাতুনের বিষমুক্ত লাউক্ষেতকে ঘিরে মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়। সবুজ লতার ছায়ায় ঢাকা লাউক্ষেত যেন এক প্রকৃতি-নির্ভর পরীক্ষাগার—যেখানে রাসায়নিকবিহীন উপায়ে ফসল ফলাতে ব্যবহৃত হচ্ছে ড্রিপ সেচ, প্রাকৃতিক মালচিং, ফেরোমন ফাঁদ এবং পলি আচ্ছাদনসহ নানান উদ্ভাবনী প্রযুক্তি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসাইন। বিশেষ অতিথি ছিলেন হেলভেটাস বাংলাদেশ-এর থিম্যাটিক অফিসার দীপ্তিময় চাকমা ও মেরুং ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য জমিলা আক্তার লিলি। সভাপতিত্ব করেন লোকাল সার্ভিস প্রোভাইডার হোসনে আরা বেগম।

লাউক্ষেত ঘুরে দেখানোর সময় হালিমা খাতুন অতিথিদের প্রশ্নের একে একে উত্তর দেন। তিনি জানান, কীভাবে নিয়মিত ভার্মি ওয়াশ ব্যবহার, ফেরোমন ফাঁদের সাহায্যে পোকা দমন এবং ড্রিপ সেচের মাধ্যমে পানির সাশ্রয় করছেন। জমির মাটি নরম থাকে, ক্ষতি কম হয়—এসবই তার ভাষায় বাস্তব অভিজ্ঞতা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসাইন বলেন, “ড্রিপ সেচ, ফেরোমন ফাঁদ, বোতল ইরিগেশন—এসব প্রযুক্তি অত্যন্ত লাগসই। এগুলো স্থানীয়ভাবে তৈরি সম্ভব এবং কৃষকরা খুব সহজেই ব্যবহার করতে পারেন। রাসায়নিক কমিয়ে জৈব পদ্ধতিতে ফসল ফলালে দীর্ঘমেয়াদে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা পাবে।”

তিনি আরও মন্তব্য করেন, “জৈব চাষে হয়তো বেশি লাভ আসে না, তবে ক্ষতির ঝুঁকি কম। প্রত্যাশিত উৎপাদন পাওয়া গেলে প্রকল্পটি শতভাগ সফল।”

আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন বাবু রাহুল চন্দ্র চাকমা, কৃষক হালিমা খাতুন, বিমল কান্তি চাকমা, সালমা খাতুন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামসীমুল আবরার ও থিম্যাটিক অফিসার দীপ্তিময় চাকমা।

হালিমা খাতুন জানান, রাসায়নিক সার ছাড়া জৈব পদ্ধতিতে চাষ করতে শুরুতে ভয় ছিল। কিন্তু এখন তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলছেন— “খরচ কম, মাটির ক্ষতি নেই, আর লাউয়ের গুণগত মানও ভালো।”

মাঠ দিবস যেন কেবল একটি প্রযুক্তি প্রদর্শনী ছিল না; এটি ছিল স্থানীয় কৃষকদের জন্য শেখার এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের এক অনন্য মিলনমেলা। পরিবেশবান্ধব কৃষিকে সামনে রেখে ভবিষ্যতে এ উদ্যোগ আরও ছড়িয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা সকল বক্তার মধ্যেই শোনা যায়।

দীঘিনালায় এই মাঠ দিবস প্রমাণ করেছে—প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান, নারীর অংশগ্রহণ এবং জৈব কৃষি একসঙ্গে এগোলে পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষক সমাজে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে যেতে পারে।

মন্তব্য লিখুন