নড়াইলে বাড়ি ফিরতে পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেছেন ফেরদৌস

প্রকাশিত: ৩:১৭ অপরাহ্ণ , ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 6 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

নড়াইলের সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের তারাপুর গ্রামের খাইরুজ্জামান খায়েরের সন্ত্রাসী বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে ও বাড়ি ফিরতে পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করা হয়েছে।রবিবার (২১শে ডিসেম্বর) দুপুরে আবেদন করেন একই এলাকার মোঃ ফেরদৌস শেখ।

নড়াইল সদর উপজেলার ৯নং সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বড়কুলা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা মোঃ শফি শেখের ছেলে মোঃ ফেরদাউস শেখ জানান,আমাদের বাড়ি আগে তারাপুর গ্রামে ছিল।

খায়রুজ্জামান খায়ের বাহিনীর বিভিন্ন প্রকার অসামাজিক অর্থ্যাৎ পরের অর্থ সম্পদ লুটপাট করা, অযথা মানুষকে পুলিশ দিয়ে হয়রানী করা, পরের জমাজমি দখল করা ইত্যাদি কাজে আমাদের সহযোগিতা করতে বলে এবং তাহার সাথে থাকতে বলে। আমি ও আমরা তাহার অন্যায় অত্যাচারের পক্ষে না থাকায় আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তারাপুর গ্রাম হইতে তাড়িয়ে দেয়।

বর্তমানে আমরা তারাপুর গ্রাম ছেড়ে বড়কুলা গ্রামে চলে আসছি। সেখানে এসে আমার চাচাতো ভাইকে মেরে জখম করে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। পরবর্তীতে আমার চাচাতো ভাই মোঃ সজল শেখ বাদী হইয়া গত ২৪/০৫/২০২৫ তারিখের ঘটনায় ০১/০৬/২০২৫ তারিখে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন।

যাহার মামলা নং- ১২, জি.আর-১০৬/২৫(এন), ধারা- ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/১১৪ দন্ড বিধি। যার আসামী খায়রুজ্জামান খায়ের, ফসিয়ার মোল্যা, মোঃ মাহাবুর মোল্যা,মোঃ শাহাবুর মোল্যা, শরিফুল শিকদার, মোঃ পারভেজ মোল্যা, মোঃ লিকু মোল্যা,মোঃ মনির মীর, মোঃ ওসিকুর ফকির,রহমত ফকির সহ অজ্ঞাত ৩/৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

উক্ত মামলা করার পর আসামীগণ আমাদের উপর আরো ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে এবং আমাদের বাড়িঘর ভাংচুর, গরু-ছাগল, হাস-মুরগি এবং মাছের ঘেরের মাছ, স্যালো ম্যাশিন, নৌকা, মটর, স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়।

বর্তমান ইরি মৌসুমের ধান রোপন করার সময় উল্লেখিত সন্ত্রাসী বাহিনী আমি সহ ৮/১০টি পরিবার আমাদের এলাকায় ঢুকতে না দেওয়ায়, ইরি ধান রোপন করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা বাংলাদেশের নাগরিক, আমরা আমাদের বাড়ি যেতে চাই।

ফেরদৌস আরো জানান, খায়রুজ্জামান খায়েরের বিরুদ্ধে নড়াইল সদর থানায় ১৫ হইতে ২০টি মামলা চলমান আছে। আমরা দীর্ঘ ৭/৮টি মাস বাড়ি ছাড়া।

আমরা যাতে এলাকায় শান্তিপ্রিয় ও স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারি এবং ধান রোপন করতে পারি তাহার সু ব্যবস্থা করার জন্য পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেছি।

এসব বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান খাইরুজ্জামান খায়ের বলেন, ৫ আগস্টের পরে গোবরা বড়কুলা এলাকায় মোটরসাইকেল পোড়ানো সহ একাধিক ঘটনা ঘটে। যেটা উজ্জ্বল চেয়ারম্যানের লোকজন ঘটায়। অহেতুক আমার নামে অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্ত করলে সঠিক ঘটনা বের হয়ে আসবে।

অভিযোগের বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ওলি মিয়া বলেন,আমার কাছে এখনো কোনো অভিযোগ আসেনি। পুলিশ সুপার স্যারের কাছে অভিযোগ করলে স্যার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।