• ঢাকা দেশজুড়ে
  • ডেভিল হান্ট ফেজ-২:সালথায় গ্রেপ্তার এড়াতে আ’লীগের দুই নেতার পদত্যাগের নাটক

ডেভিল হান্ট ফেজ-২:সালথায় গ্রেপ্তার এড়াতে আ’লীগের দুই নেতার পদত্যাগের নাটক

প্রকাশিত: ৩:০৭ অপরাহ্ণ , ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 5 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

আকাশ সাহা,সালথাঃ সারাদেশে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযান অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২–এর পর ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় গ্রেপ্তার এড়াতে নাটকীয়ভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের দুই নেতা।

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে নিজ নিজ এলাকায় নামমাত্র একটি ব্যানার টানিয়ে কথিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা দলীয় পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পদত্যাগকারীরা হলেন সালথা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলু মাতুব্বর এবং আওয়ামী লীগের সোনাপুর ইউনিয়ন কমিটির সদস্য জালাল মোল্লা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদ-পদবী ব্যবহার করে তারা এলাকায় প্রভাব বিস্তার,দলীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছিলেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও দলীয় অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ায় এলাকায় প্রভাব ধরে রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতেই তারা হঠাৎ এই পদত্যাগের নাটক সাজিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

কথিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফজলু মাতুব্বর বলেন, আওয়ামী লীগে আমার যে পদ ছিল আজ থেকে আমি সেই পদ থেকে পদত্যাগ করলাম। ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবো না। বিএনপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমি সেই পথেই চলতে চাই।

এলাকাবাসী বলেন,সালথা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ফজলু মাতুব্বর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ছিনিয়ে নিয়েছিলেন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চাউলের ডিলার। গত সরকারের আমলে সাধারণ জনগণের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত চাল ক্ষমতার অপব্যবহার করে ওজনে কম দিয়ে চাল আত্মসাৎ করে হয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক।

কিন্তু ফজলু মাতুব্বর স্থানীয় আওয়ামী লীগের এমপি শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরীর আস্থাভাজন হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়ানি তৎকালীন প্রশাসন। এখন যখন তার বিচার শুরু হওয়ার পালা, তখন তিনি আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেছেন। আবার যখন আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসবে, তখন তিনি আবার আওয়ামী লীগের হয়ে যাবেন। আর এভাবেই অন্যায় করতে থাকবেন। আমরা এই ভন্ড প্রতারকের বিচার চাই।

অপরদিকে জালাল মোল্লা বলেন, আমি মূলত মহল্লাভিত্তিক রাজনীতি করি। আওয়ামী লীগের কোন পদে আমি আছি তা স্পষ্টভাবে জানতাম না। শুনেছি ইউনিয়ন কমিটিতে আমাকে সাধারণ সদস্য করা হয়েছিল।

আজ থেকে আওয়ামী লীগের সব পদ থেকে পদত্যাগ করলাম। বিএনপির আদর্শ আমাকে মুগ্ধ করেছে, তাই বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হতে চাই। এ সময় তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেন বলে দাবি করেন।

তবে আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র জানায়, পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া ওই দুই নেতা তাদের পদত্যাগপত্র দলীয় কোনো সাংগঠনিক ইউনিট বা দায়িত্বশীল নেতার কাছে জমা দেননি। কেবলমাত্র একটি ব্যানার বানিয়ে চেয়ার-টেবিলে বসে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে নিজেদের রক্ষা করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। দলীয়ভাবে এমন কোনো পদত্যাগের স্বীকৃতি বা সিদ্ধান্ত এখনো পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, ডেভিল হান্ট ফেজ-২ অভিযানের আওতায় গ্রেপ্তার এড়ানো এবং নিজেদের অবস্থান নিরাপদ করতেই এই নাটক সাজানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও সমালোচনা চলছে।