
শাহরিয়ার মিল্টন, শেরপুর : প্রকৃতি আর মনোরম সৌন্দর্যে ঘেরা শেরপুরের গারো পাহাড়। ঈদের ছুটিতে শেরপুরের ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশ পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকের ভিড় জমেছে। এ পর্যটন কেন্দ্রের নৈসর্গিক দৃশ্য দেখতে ঈদের দিন থেকে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসছেন মানুষ। গজনী অবকাশ পর্যটনকেন্দ্রটি গারো পাহাড়ের অন্যতম আকর্ষণ।
এখানে রয়েছে ভাসমান সেতু, ওয়াটার পার্ক, ওয়াটার কিংডম, প্যারাডোবা, ঝুলন্ত ব্রিজ, রোপওয়ে, জিপলাইনার, ক্যাবল কার, প্যাডেল বোট, সাম্পান নৌকা, আলোকের ঝরণাধারা, মিনি চিড়িয়াখানা ও শিশুপার্কসহ নানা ধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা। এছাড়া ওয়ার্চ টাওয়ারে উঠে সীমান্তের পাহাড়ের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে, যা দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত।
স্থানীয় ও ঘুরতে আসা পর্যটকরা জানান, এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আগত পর্যটকদের আকৃষ্ট করে । প্রকৃতি এখানে প্রতিনিয়ত হাতছানি দিয়ে ডাকে। পাহাড়-টিলা আর সমতল ভূমিতে সবুজের সমারোহ। শাল, গজারি, সেগুন, ছোট-বড় মাঝারি টিলা, লতাপাতার বিন্যাস প্রকৃতি প্রেমীদের নিশ্চিত দোলা দিয়ে যায়। অপরূপ রূপের চাদর মোড়ানো পাহাড় আর সেই পাহাড়ের পাশ ঘেঁষে রয়েছে ভারতের মেঘালয় রাজ্য।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পাহাড়ের বুকজুড়ে তৈরি সুদীর্ঘ ওয়াকওয়ে। পায়ে হেঁটে পাহাড়ের স্পর্শ নিয়ে লেকের পাড় ধরে হেঁটে যাওয়া যায় এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে। পড়ন্ত বিকেলে ছোট-ছোট নৌকায় করে ঘুরার জন্য রয়েছে লেক।
লেকের বুকে নৌকায় চড়ে পাহাড়ের পাদদেশে কফি আড্ডা আর গান এখানে আগত দর্শনার্থীদের জন্য অন্যরকম অভিজ্ঞতা তৈরি করবে। গারো মা ভিলেজেও ছোঁয়া লেগেছে নতুনত্বের। মাশরুম ছাতার নিচে বসে বা পাখি বেঞ্চে বসে পাহাড়ের ঢালে উপজাতিদের জীবনযাত্রা, দিগন্ত জোড়া ধানক্ষেত আর পাহাড়ি জনপদের ভিন্ন জীবনমান উপভোগ করা যাবে খুব সহজে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গজনী অবকাশের বিভিন্ন জায়গায় কেউবা তুলছেন সেলফি, কেউবা নিজ ও প্রিয়জনের ছবি ক্যামেরাবন্দি করছেন মোবাইলে। চুকুলুপি চিলড্রেনস পার্ক ছিল সকাল থেকেই মুখরিত। শিশুদের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় পার্কের ফটকে লম্বা লাইন দেখা যায়। এ সময় শিশুদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে এ শিশুপার্কটি।
বিভিন্ন রাইডে চড়ে ও খোলামেলা পরিবেশ পেয়ে আনন্দে মেতে ওঠে শিশুরা। শিশুপার্কে আসা মো. রফিক বলেন, মেয়েকে নিয়ে এসেছি। অনেক ভিড়। একেকটা রাইডে উঠতে প্রচুর সময় চলে যাচ্ছে। তারপরও মেয়েটা আনন্দ পাচ্ছে। তাতেই আমি খুশি।
ঢাকা থেকে আসা দর্শনার্থী আরিক জানান, ঈদের ছুটিতে শহরের কোলাহল ছেড়ে তারা গজনী অবকাশে ঘুরতে এসেছেন। প্রকৃতি আর মনোরম সৌন্দর্য ঘেরা গারো পাহাড় তাদের মনে অনেক আনন্দ দিয়েছে।
স্থানীয় ফটোগ্রাফার রায়হান বলেন, আমরা এখানে ছবি তুলে যা আয় করি তা দিয়েই সংসার চালাই। ঈদের ছুটিতে প্রচুর দর্শনার্থী আসছে,আমাদের ব্যবসাও ভালো হচ্ছে।
পর্যটন কেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুর রহিম বলেন, ঈদে গজনী অবকাশে অনেক পর্যটক বেড়াতে আসছেন। ব্যবসায়ীদের বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে। পর্যটন কেন্দ্রের বিভিন্ন রাইডের ইজারাদার মো. ফরিদ মিয়া জানান, ঈদের দিন থেকে প্রচুর দর্শনার্থীর আসছে।
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ঈদের ছুটিতে গজনী অবকাশ পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটক বেড়েছে। আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছে।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
গৃহপরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন কলিতা
গৃহপরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন কলিতা
উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং, কিমের আমন্ত্রণে বিরল...
উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং, কিমের...
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১৭ অঞ্চল, সপ্তাহজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১৭ অঞ্চল, সপ্তাহজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির...
লাইভে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা দিয়ে পুলিশ বাবাকে ‘মিথ্যাবাদী’...
লাইভে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা দিয়ে পুলিশ...
এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার
এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ...
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফের পদ্মায় ডুবলো বাস, চালক-হেলপার উদ্ধার
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফের পদ্মায় ডুবলো বাস,...