রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন, শেষ হলো যুদ্ধের বাংকারে ড্রোন হামলায় নিহত মৌলভীবাজারের মুহিবুর

প্রকাশিত: ১২:২২ অপরাহ্ণ , ২১ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 month আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

এম এ ওয়াহিদ রুলু,মৌলভীবাজারঃ মৌলভীবাজারের তরুণ মুহিবুর রহমান উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্নই তাকে ঠেলে দেয় যুদ্ধের ময়দানে, যেখানে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় প্রাণ হারাতে হয় তাকে।

গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাশিয়ার একটি বাংকারে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় নিহত হন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আমতৈল ইউনিয়নের সম্পদপুর গ্রামের বাসিন্দা মুহিবুর রহমান। তিনি মসুদ মিয়ার ছেলে। পরিবারের কাছে মৃত্যুর খবর পৌঁছায় সোমবার (২০ এপ্রিল)।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় যান মুহিবুর। সেখানে প্রায় আড়াই বছর পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে এক মাস অবস্থান করে আবার রাশিয়ায় ফিরে যান। পরে তিনি পরিবারের সদস্যদের জানান, রাশিয়ার সেনাবাহিনীর জন্য রান্নার কাজ করছেন।

তার ছোট ভাই হাবিবুর রহমান জানান, প্রায় দুই বছর আগে কিছু দালাল তাকে প্রলোভন দেখায়—যুদ্ধে অংশ নিলে মোটা অঙ্কের বেতন এবং যুদ্ধ শেষে রাশিয়ার নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। ধারণা করা হচ্ছে, পরিবারের অগোচরে সেই প্রলোভনে পড়েই তিনি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন।

সবশেষে গত বছর দেশে এসে বিয়ে করে আবার রাশিয়ায় ফিরে যান মুহিবুর। গত সপ্তাহে একটি বাংকারে অবস্থানকালে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় সেটি বিধ্বস্ত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

প্রথমে রাশিয়ায় থাকা এক সহকর্মী পরিবারের কাছে মৃত্যুর খবর পৌঁছে দেন। পরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার ছোট ভাই।

আমতৈল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. ইকবাল আহমদ বলেন, “পরিবার থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুহিবুর রাশিয়ার হয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং ড্রোন হামলায় তার মৃত্যু হয়েছে। তার এই মর্মান্তিক মৃত্যু পরিবারসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।”

আমতৈল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মশাহিদ হোসেন জানান, নিহতের মরদেহ দেশে আনার জন্য প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজিব হোসেন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রাশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে মরদেহ দেশে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।