
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় বোরো ধান কাটার মৌসুমে বৈরী আবহাওয়ার পাশাপাশি তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। অল্পসংখ্যক শ্রমিক পাওয়া গেলেও তাদের দৈনিক মজুরি হাজার টাকার বেশি হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ফলে অনেক স্থানে পাকা ধান সময়মতো কাটতে না পেরে মাঠেই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ত্রিশালে ১৯ হাজার ৯৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ২২ শতাংশ ফসল কাটা সম্ভব হয়েছে। ধান কাটার কাজে কৃষি অফিসের সরবরাহ করা ১১টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ অঞ্চলে টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এরই মধ্যে রোববার থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, আকাশও মেঘাচ্ছন্ন থাকায় রোদের দেখা মিলছে না।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে দিনমজুর শ্রমিকের মজুরি এক হাজার থেকে এক হাজার দুইশ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। অন্যদিকে নতুন ধানের বাজারদর মনপ্রতি মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। এতে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা।
কৃষকদের ভাষ্য, বোরো ধান উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয় শ্রমিক খাতে। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে ধান কাটা ও মাড়াই পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে শ্রমিক প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত মজুরি কৃষকের লাভের সম্ভাবনাকে প্রায় শূন্যে নামিয়ে এনেছে।
মঠবাড়ী ইউনিয়নের অলহরী গ্রামের কৃষক হেলাল উদ্দিন বলেন, “প্রায় ত্রিশ কাঠা জমির ধান কেটে আইলে রেখেছি, কিন্তু শ্রমিক সংকটে ঘরে তুলতে পারছি না। বৃষ্টিতে ধান ভিজছে, শ্রমিক ও মাড়াই যন্ত্রও পাওয়া যাচ্ছে না।”
আরেক কৃষক সাইদুল ইসলাম বলেন, “ধানের যে দাম, তাতে এত বেশি মজুরি দিয়ে ধান কাটলে লাভ তো নেইই, খরচই উঠবে না। আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি।”
কিছু এলাকায় কৃষকরা পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ধান কাটার চেষ্টা করছেন। অনেক ক্ষেত্রে নারীরাও মাঠে নেমে পরিবারকে সহায়তা করছেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, শ্রমিক মজুরির পাশাপাশি সেচ, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধির কারণে বোরো চাষ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। বিপরীতে ধানের বাজারদর কম থাকায় কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ত্রিশাল উপজেলা কৃষি অফিসের ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা হাম্মিম জাহান বলেন, “কৃষকদের যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান কাটার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।”
সব মিলিয়ে শ্রমিক সংকট, উচ্চ মজুরি ও বৈরী আবহাওয়ার ত্রিমুখী চাপে ত্রিশালের কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলা নিয়েই বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
যশোর চৌগাছার চাঞ্চল্যকর ঝন্টু হত্যা’র প্রধান আসামি আবু...
যশোর চৌগাছার চাঞ্চল্যকর ঝন্টু হত্যা’র প্রধান...
গৃহপরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন কলিতা
গৃহপরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন কলিতা
উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং, কিমের আমন্ত্রণে বিরল...
উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং, কিমের...
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১৭ অঞ্চল, সপ্তাহজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১৭ অঞ্চল, সপ্তাহজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির...
লাইভে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা দিয়ে পুলিশ বাবাকে ‘মিথ্যাবাদী’...
লাইভে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা দিয়ে পুলিশ...
এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার
এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ...