• চট্রগ্রাম শীর্ষ সংবাদ
  • খাগড়াছড়ি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা ভাষা শিক্ষা ক্লাবের উদ্বোধন

খাগড়াছড়ি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা ভাষা শিক্ষা ক্লাবের উদ্বোধন

প্রকাশিত: ৭:৪১ পূর্বাহ্ণ , ২০ জুলাই ২০২৬, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

পার্বত্যাঞ্চলের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা সংরক্ষণ, চর্চা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রসারে খাগড়াছড়ি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে “চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা ভাষা শিক্ষা ক্লাব–২০২৬” এর উদ্বোধন করা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ১১টায় খাগড়াছড়ি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ২০৩ পদাতিক ব্রিগেডের রিজিয়ন কমান্ডার, খাগড়াছড়ি সেনানিবাস এবং খাগড়াছড়ি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক বলেন, “বাংলা ভাষার জন্য ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ ভাষা শহীদরা আত্মত্যাগ করেছেন।

মাতৃভাষার শক্তি ও গুরুত্ব আমাদের ইতিহাসে অনন্য। পার্বত্যাঞ্চলে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী রয়েছে। কিন্তু তাদের মাতৃভাষা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শেখার সুযোগ সীমিত।

ভাষার স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ ও ব্যাকরণ না জানলে সেই ভাষায় সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশ সম্ভব নয়। ভাষার চর্চা বন্ধ হয়ে গেলে একসময় তা পৃথিবীর অনেক বিলুপ্তপ্রায় ভাষার মতো হারিয়ে যেতে পারে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় আমরা এই ভাষা শিক্ষা ক্লাব চালু করেছি, যাতে এসব ভাষা সংরক্ষিত হয়, নতুন প্রজন্ম মাতৃভাষা শিখতে পারে এবং ভাষাগুলো শক্তিশালী ও জীবন্ত ভাষা হিসেবে টিকে থাকে।”

তিনি আরও বলেন, মাতৃভাষা একজন মানুষের পরিচয়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অন্যতম ভিত্তি। তাই ভাষা সংরক্ষণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি সমাজের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুহাম্মদ আতিকুল হক, পিএইচডি, এইসি এবং ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্সের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাশেদুল হক।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা ভাষা শিক্ষা ক্লাবের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। আয়োজকরা জানান, ক্লাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ মাতৃভাষার বর্ণমালা, পাঠ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে নিয়মিত শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে। এ উদ্যোগ পার্বত্যাঞ্চলের ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে মাতৃভাষার প্রতি আগ্রহ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর