কেন্দুয়ায় দোকানে হামলা, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

প্রকাশিত: ২:৫৫ অপরাহ্ণ , ১৩ আগস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীরের গ্রিল চুরি নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া এবং বিদ্যালয়ের মাঠে খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীর দোকানে হামলা, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।

গত ১২ আগস্ট মঙ্গলবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে উপজেলার পাইকুড়া বাজারে ‘মোবারক টেইলার্স’ নামের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন (২১) পাইকুড়া ইউনিয়নের করিমখাগাতী গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে বিবাদী করে কেন্দুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে মোবারক হোসেন উল্লেখ করেন, গত ৫ আগস্ট পাইকুড়া কানিবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীরের গ্রিল চুরি হয়। এ ঘটনায় তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। পরদিন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বীর মাহমুদা আফরোজ বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এলাকার ছেলেদের বিদ্যালয়ের মাঠে খেলাধুলা করতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

এরই জের ধরে গত ১২ আগস্ট সন্ধ্যায় অভিযুক্তরা দেশীয় লাঠিসোঁটা নিয়ে পাইকুড়া বাজারে অবস্থিত মোবারক টেইলার্সে অনধিকার প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করেন মোবারক হোসেন। এ সময় তাকে দোকান থেকে টানাহেঁচড়া করে বের করার চেষ্টা করা হলে তিনি প্রাণভয়ে দৌড়ে আত্মরক্ষা করেন।

এ সুযোগে অভিযুক্তরা দোকানে থাকা থান কাপড়, শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রি-পিসসহ আনুমানিক দুই লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যান বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মোবারক হোসেন বলেন, “ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছেলেদের মাঠে খেলাধুলা করতে নিষেধ করেন। বিষয়টি জানতে পেরে হামলাকারীরা প্রথমে আমার বাড়িতে যায়। সেখানে আমাকে না পেয়ে পরে বাজারে আমার দোকানে এসে হামলা ও লুটপাট চালায়।”

তবে অভিযুক্তদের দাবি, তারা সেখানে গিয়েছিলেন এবং কথাকাটাকাটি হয়েছে। কিন্তু হামলা, ভাঙচুর বা লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি।

পাইকুড়া বাজারের কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি বলেন, এভাবে দলবদ্ধ হয়ে বাজারে এসে কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়াটা ঠিক হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান তারা।

পেমই তদন্ত কেন্দ্রের এসআই বাবুল আহমেদ বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর