মৌলভীবাজারে পাহাড়-টিলা কেটে গড়ে উঠছে রিসোর্ড, কোন অনুমোদন নেই, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

প্রকাশিত: ২:৩৯ অপরাহ্ণ , ১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 5 hours আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

এম এ ওয়াহিদ রুলু,কমলগঞ্জ: মৌলভীবাজারে পাহাড়-টিলা ও বনাঞ্চল কেটে গড়ে উঠেছে প্রায় ২০০টি রিসোর্ট। এর মধ্যে শ্রীমঙ্গলেই রয়েছে শতাধিক। অভিযোগ রয়েছে, কোথাও পাহাড়-টিলা কেটে, কোথাও গাছপালা সরিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে এসব স্থাপনা। এতে বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল হুমকির মুখে পড়ছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর কাছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ও বৈধতার পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। সম্প্রতি প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনেও এ চিত্র উঠে এসেছে।

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এস কে দাশ সুমনের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় প্রায় ১০৩টি রিসোর্ট রয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ রিসোর্টের সংখ্যা মাত্র ১০ থেকে ১২টি। অন্যদিকে, কমলগঞ্জেও রয়েছে প্রায় ৫০টি রিসোর্ট। পর্যটন ব্যবসার প্রসারের সঙ্গে ছোট ছোট কক্ষ নির্মাণ করে রিসোর্টের নাম দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের আশপাশে পর্যটন অবকাঠামো বৃদ্ধি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল জানান, চলতি বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে লাউয়াছড়া ও আশপাশ থেকে অজগর, গোখরাসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর ধারণা, মানুষের বিচরণ বৃদ্ধি ও আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রাণীগুলো লোকালয়ে চলে আসছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) জাতীয় পরিষদের সাবেক সদস্য আ.স.ম. ছালেহ সোহেল বলেন, পাহাড় ও বন কেটে ফেলায় বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে। রিসোর্টের কৃত্রিম আলো ও মানুষের আনাগোনাও প্রাণীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাঈদুল ইসলাম জানান, প্রায় ৬০টি রিসোর্ট পরিবেশগত ছাড়পত্র নিয়েছে। ছাড়পত্র না নেওয়া প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা ও মামলা করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ২০টি বা তার বেশি কক্ষবিশিষ্ট রিসোর্টের ক্ষেত্রে অধিদপ্তরের ছাড়পত্র প্রয়োজন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, পাহাড়-টিলা কাটার অভিযোগ পেলে প্রশাসন তদন্ত করে। উপজেলায় রিসোর্টের সংখ্যা, জমির মালিকানা, অনুমোদন ও লাইসেন্সের তথ্য নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ চলছে। সম্প্রতি নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে দুটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যটনশিল্পের বিকাশের পাশাপাশি পাহাড়-টিলা ও বনাঞ্চল সংরক্ষণে রিসোর্টগুলোর অনুমোদন যাচাই, নিয়মিত তদারকি এবং পাহাড় কাটার অভিযোগে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর