
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে কর্ণিবাড়ী দ্বিমুখী ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাঃ আজাহার আলী মোল্ল্যার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ এনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ নানা দপ্তরে অভিযোগ জমা দিয়েছেন মাদ্রাসার শিক্ষক মন্ডলী এবং শিক্ষার্থীরা। গত কয়েকদিন ধরেই অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এলাকাবাসী অধ্যক্ষের আচরণে বিক্ষুব্ধ হয়ে অধ্যক্ষের দরজায় তালা দিয়েছেন।
গত রবিবার অধ্যক্ষ তালা ভেঙে তার কক্ষে প্রবেশ করলে অন্য শিক্ষক, গ্রামবাসি এবং ছাত্ররা পুনরায় অধ্যক্ষকে তালাবদ্ধ করেন। সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অধ্যক্ষ আজাহার আলী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া ডিজিটাল ল্যাব দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ল্যাব সহকারী, ল্যাব অপারেটর, অফিস সহকারী এবং আয়া পদে নিয়োগ দিয়েছেন। এনটিআরসিএ কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত গণিতের শিক্ষক যোগদানের পর গত ২০১৯ সাল থেকে মাদ্রাসায় আসেন না।
অথচ অধ্যক্ষ নিজেই ওই শিক্ষকের সাথে যোগসাজশে তার স্বাক্ষর জাল করে অদ্যবধি পর্যন্ত বেতন ভাতাদি উত্তোলন করছেন। ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত টিউশন ফির কোনও হিসাব নেই। প্রতিষ্ঠানের নামীয় ধানী জমি প্রতিবছর ২৭ হাজার টাকা করে লিজ দিলেও তা কখনো মাদ্রাসার তহবিলে জমা দেন না এবং তিনি তা আত্মসাৎ করেন।
প্রতিষ্ঠানের হিসাব নম্বরে গত ২০১৮ সাল পর্যন্ত জমা রাখা ২১ লাখ টাকার কোনও হিসাব নেই। এনটিআরসিএ কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিকট থেকে টাকা নেয়ার প্রমাণ রয়েছে। উচ্চতর স্কেল প্রদান করার নিমিত্তে শিক্ষকদের নিকট থেকে টাকা নেয়ার প্রমাণ রয়েছে। মাদ্রাসার জমি মসজিদ নির্মাণের উদ্দেশ্য ৫ লাখ টাকা স্ট্যাম্পে লিখিতভাবে নেয়ার প্রমাণ রয়েছে।
এদিকে ছাত্র-ছাত্রীদের অভিযোগ, বিগত এমপি’র সাথে যোগসাজশে অধ্যক্ষ মাদ্রাসার পক্ষে অনেক আর্থিক অনুদান গ্রহণ করেছেন কিন্তু মাদ্রাসার একটিমাত্র ওয়াশরুম এবং সকল ক্লাসরুম কাঁচা টিনসেড। যে ওয়াশরুমে ছাত্র, ছাত্রী, মহিলা এবং পুরুষ শিক্ষকদের একসাথে ব্যবহার করতে হয়। গণিত ক্লাস এবং বিজ্ঞান ক্লাস না হওয়ায় তাদের ফলাফল খারাপ হচ্ছে। ফরম পূরণের জন্য ১৭১৫ টাকার পরিবর্তে অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীপ্রতি ২৫০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেছেন।
এডমিট কার্ডের খরচ দেখিয়ে অধ্যক্ষ তাদের নিকট থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছেন। কম্পিউটার ট্যাবলেট বিতরণ বাবদ শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ঘুষ গ্রহণ করেছেন।
এদিকে গত কয়েকদিন ধরেই অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা গেটের সামনে বিক্ষোভ করছে, বিক্ষোভ মিছিল করছে এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছে। পরে গত সোমবার অধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী, শিক্ষার্থী এবং অন্য শিক্ষকরা।
পরে গতকাল রবিবার অধ্যক্ষ তালা ভেঙে তার কক্ষে প্রবেশ করেন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী এবং শিক্ষার্থীরা তাকে তার কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরে উপজেলা ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন এবং শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যেতে পরামর্শ প্রদান করেন।
অধ্যক্ষ আজাহার আলী বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা। একটি পক্ষ বহুদিন ধরেই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।
বগুড়া জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মাসুদ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমরা অভিযোগপত্র হাতে পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলমান রয়েছে, সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
শেরপুর সদর ও নকলা উপজেলায় পাখি শিকার বন্ধে...
শেরপুর সদর ও নকলা উপজেলায় পাখি...
শেরপুরে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উদযাপন
শেরপুরে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উদযাপন
বেনাপোলে ‘দৈনিক রানার’-এর ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপণ
বেনাপোলে ‘দৈনিক রানার’-এর ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপণ
শতবর্ষী সান্দিকোনা কলেজের উন্নয়ন ও সরকারীকরণের আশ্বাস সভাপতির
শতবর্ষী সান্দিকোনা কলেজের উন্নয়ন ও সরকারীকরণের...
পাইকগাছায় হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
পাইকগাছায় হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
ধামইরহাটে আন্তর্জাতিক দূর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত
ধামইরহাটে আন্তর্জাতিক দূর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত