• চট্রগ্রাম প্রধান সংবাদ
  • মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা

মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা

প্রকাশিত: ১:০৯ অপরাহ্ণ , ৩ মার্চ ২০২৫, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা আজ সোমবার (৩ মার্চ ২০২৫) বিকেলে হঠাৎ মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের আহ্বায়ক কুমার সুইচিংপ্রু সাইন এবং পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও বাজার ফান্ড প্রশাসনের আহ্বায়ক প্রশান্ত কুমার ত্রিপুরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল সংকট, জরাজীর্ণ ভবনসহ নানা সমস্যায় ব্যাহত হচ্ছে মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আতঙ্কের মধ্যে কাজ করছেন চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা।

 

দীর্ঘদিনের অবহেলায় ভবনটি চরম বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছেছে। ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ছে, দেয়ালে দেখা দিয়েছে ফাটল। প্রায় ৫০ বছর পুরনো এ ভবনটিতে সেবাগ্রহীতারাও রয়েছেন উদ্বেগে। অনেকে ভয় পেয়ে চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, ৩১ শয্যার হাসপাতালটিতে ১৪ জন চিকিৎসক ও ১১ জন নার্স থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৪ জন চিকিৎসক ও ৪ জন নার্স দায়িত্ব পালন করছেন। পরিদর্শনকালে হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অনুপস্থিত ছিলেন, যা সাধারণ রোগীদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

এ প্রসঙ্গে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা বলেন, “মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি জেলার অন্যতম পুরনো হাসপাতাল। নার্স ও চিকিৎসকরা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কাজ করছেন, যা সত্যিই উদ্বেগজনক। জনবল সংকট ও নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত জরুরি। বিষয়টি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হবে।”

পরিদর্শন শেষে চোংড়াছড়ি তাফফিজুল কুরআন নূরানী ও হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা পরিদর্শন করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। তিনি দেখেন, একতলা বিশিষ্ট মাদরাসার ভবনটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত হলেও এখনও উদ্বোধন করা হয়নি। পাশাপাশি নির্মাণাধীন মসজিদটির কাজও চলমান রয়েছে।

এ সময় চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা বলেন, “পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি বজায় রেখে সকলকে মিলেমিশে বসবাস করতে হবে। ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে জেলা পরিষদ সর্বদা সহায়তা করবে।”

পরিদর্শনকালে তিনি মাদরাসার শিক্ষার্থী ও এতিমদের জন্য ইফতার আয়োজনের লক্ষ্যে আর্থিক অনুদান প্রদান করেন। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহাদাত হোসাইনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।