• চট্রগ্রাম দেশজুড়ে
  • গুইমারাতে খুমবতাং ক্লাবের আয়োজনে বৈসু উৎসবের ৩য় দিনে ‘বিসি কাতাল’কে বরণ

গুইমারাতে খুমবতাং ক্লাবের আয়োজনে বৈসু উৎসবের ৩য় দিনে ‘বিসি কাতাল’কে বরণ

প্রকাশিত: ৬:১৩ পূর্বাহ্ণ , ১৬ এপ্রিল ২০২৫, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন

ত্রিপুরা জাতির সর্ববৃহৎ ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব বিসি কাতাল ১৪৩৫ ত্রিপুরাব্দ / ১৪৩২ বঙ্গাব্দ / ২০২৫ খ্রিঃ, তথা পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলার ২০০নং তৈমাতাই মৌজার ৩নং ওয়ার্ডের ত্রিপুরা সম্প্রদায়বাসীর অংশগ্রহণে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের সূচনা করেছে খুমবতাং ক্লাব।

গতকাল মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল ২০২৫ খ্রিঃ) গড়িয়া দেবের নৃত্যশিল্পীদের নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। এর আগে গঙ্গা দেবী মা (তৈবোকমা) ও বসমতী দেবীর উদ্দেশে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে প্রার্থনা জানানো হয়। পরে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য প্রশান্ত কুমার ত্রিপুরা। বিশেষ অতিথি ছিলেন গুইমারা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ এনামুল হক, ওসি (তদন্ত) দীপংকর মন্ডল, বাংলাদেশ ত্রিপুরা যুব কল্যাণ সংসদের গুইমারা আঞ্চলিক শাখার সভাপতি অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা, বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের গুইমারা উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কান্তি ত্রিপুরা, চট্টগ্রাম মহানগর ত্রিপুরা কল্যাণ ফোরামের প্রাক্তন সভাপতি সুরেশ বরন ত্রিপুরা, স্থানীয় কার্বারী রূপ কুমার ত্রিপুরা, শিক্ষক যোগেন্দ্র ধামাই এবং যতীন্দ্র ত্রিপুরা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুমবতাং ক্লাবের সভাপতি সুপল ত্রিপুরা এবং সঞ্চালনা করেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দিবাবসু ত্রিপুরা। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শ্যামলি ত্রিপুরা।

আলোচনা পর্ব শেষে ত্রিপুরা জাতির প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ‘সুকৈ’ খেলা দিয়ে উৎসবের সূচনা ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের গুইমারা উপজেলা শাখার সভাপতি বিশ্ব কুমার ত্রিপুরা।

উৎসবে অংশগ্রহণ করেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, চাকরিজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, যুব সমাজ এবং শিক্ষার্থীরা।

বক্তারা বলেন, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী বর্তমানে দেশের তিন পার্বত্য জেলা সহ মোট ১৩টি জেলায় বসবাস করছে। খ্রিস্টপূর্ব ৫৮৫ সাল থেকে ত্রিপুরা রাজার শাসন শুরু হয়। ত্রিপুরা জাতির সমৃদ্ধ কৃষ্টি-সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা আজও জীবন্ত রয়েছে। এ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এলাকা ভিত্তিক শ্রেণী-ভিত্তিক উদ্যোগে বিসি কাতাল বা বৈসু/বৈসুক/বিসু উৎসব পালিত হয়ে আসছে।