উল্লাপাড়ায় কোরবানী ঈদ সামনে রেখে ষাড় গরুগুলোকে পুরোদমে খাদ্যের যোগান

প্রকাশিত: ৮:১০ পূর্বাহ্ণ , ২৫ এপ্রিল ২০২৫, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন

সাহারুল হক সাচ্চু,উল্লাপাড়াঃ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে পালন করা ষাঁড় গরুগুলোকে পুরোদমে খাদ্যের যোগান দেওয়া হচ্ছে। এখন দিন যেতেই খাদ্যের যোগান এক দুমুঠো করে বাড়ানো হচ্ছে। আর নিয়মিত গোসল ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন জায়গায় গরুগুলো রাখা হচ্ছে। পরিচর্যা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

বড় ষাড় গরুগুলো আরাম আয়েশে রাখতে ফ্যান ব্যবস্থা থাকছে। এবারেও কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে খামার ও গৃহস্থ পরিবারগুলোয় ২৩ হাজার ৭০১ টি ষাড় গরু লালন পালন করা হচ্ছে ৷ গত বছরের চেয়ে এবারে পালন করা ষাড় গরুর সংখ্যা বেশী হবে বলে জানা গেছে। প্রাণী সম্পদ অফিস থেকে গরু মোটা তাজাকরণে কোনো ষ্ট্রেয়য়েড ঔষধ ব্যবহার না করা কিংবা মুরগীর ফিড খাওয়ানো নিষেধ জানিয়ে উপদেশে জানানো হয়।

উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গরু খামারগুলোয় কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে বহু সংখ্যক বড় ছোটো ষাড় গরু লালন পালন করা হচ্ছে ৷ এছাড়া সদর উল্লাপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে অনেক গৃহস্থ পরিবারগুলোয় বড় ছোটো ষাড় গরু লালন পালন করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় গরু খামার ও গৃহস্থ পরিবারগুলোয় পালিত প্রায় পচাশি ভাগই দেশীয় জাতের ষাড় গরু বলে জানা গেছে।

উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস থেকে জানানো তথ্যে গোটা উপজেলায় মোট ৩ হাজার ২৪ জন গরু খামারী আছেন ৷ গত ২০ এপ্রিল এর সবশেষ তথ্যে বিভিন্ন এলাকার খামারগুলোয় মোট ২৯ হাজার ৬৩ টি গরু লালন পালন করা হচ্ছে।

এর মধ্যে কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে বড় ছোটো মিলে ২৩ হাজার ৭০১ টি ষাড় গরু লালন পালন করা হচ্ছে৷ আর বলদ লালন পালন করা হচ্ছে ৪ হাজার ১৭২ টি ও ১ হাজার ১৯০ টি গাভী পালন করা হচ্ছে। এছাড়া ছাগল ৪১ হাজার ৯৭৩ টি ও ভেড়া ৪ হাজার ৬৫৯ টি লালন পালন করা হচ্ছে।

প্রাণী সম্পদ বিভাগের তথ্যে গরু , ছাগল ও ভেড়া মিলে ৭৭ হাজার ৪৯৫ টি লালন পালন হচ্ছে। আর চাহিদা হলো ৪২ হাজার ৫৭০ টি। বাড়তি হলো ৩৪ হাজার ৯২৫ টি বলে জানা গেছে।
কোরবানী ঈদের আর দিন চল্লিশ বাকী আছে ৷ গত মাস তিনেক আগে থেকেই গরু খামার ও গৃহস্থ পরিবারগুলোয় পালিত গরুগুলোকে সব ধরণের খাদ্যের যোগান দিন যেতেই বাড়ানো হতে থাকে বলে জানা গেছে।

এখন গরুগুলো মোটা তাজাকরণে পুরোদমে খাদ্যের যোগান দেওয়া হচ্ছে। গরু খামারী ও গৃহস্থদের কাছ থেকে জানা যায় ষাড় গরু মোটা তাজাকরণে গম ভূষি , ছোলা , খেসারী ও মসুর ভূষি খাওয়ানো হচ্ছে।

উল্লাপাড়া গ্যাস লাইন এলাকায় বড় ছোটো এখন গোটা ছয়েক গরু খামার আছে ৷ এখানকার খামারগুলোয় কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে ষাড় গরু লালন পালন করা হয়। এবারেও বড় ছোটো ষাড় গরু লালন পালন করা হচ্ছে। এখানে একটি ফার্মে দেশীয় জাতের গোটা দশেক বড় ধরণের ষাড় গরু লালন পালন করা হচ্ছে।

সদর উল্লাপাড়া ইউনিয়নের নাগরৌহা গ্রামে দক্ষিণপাড়ায় পাচ জন গৃহস্থ পরিবারে বড় ধরণের ত্রিশটি ষাড় গরু লালন পালন করছেন। গ্রামের শফিকুল ইসলাম বাড়ীর খামরে চারটি , সিফাত প্রামানিকের খামারে পাচটি , রুহুলের খামারে দশটি আরিফের খামারে আটটি ষাড় গরু লালন পালন করা হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে এখনকার খামারে পালিত ষাড় গরুগুলো সবই দেশীয় জাতের ৷ কয়েকটি গরু তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকায় অনেক আগেই কিনে বাড়ীর খামারে লালন পালন করা হচ্ছে বলে জানানো হয়।

কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে পালিত গরুগুলোকে আরো মোটা তাজাকরণে পুরোদমে খাদ্যের যোগান দেওয়া হচ্ছে ৷ একাধিক খামারী বলেন গত মাস তিনেক আগে থেকে পালিত গরুগুলোকে খাদ্যের যোগান বাড়ানো হয়েছে ৷ এখন আরো বেশী পরিমাণ খাদ্য খাওয়ানো হচ্ছে।

প্রতিবেদককে বেশ কজন গরু খামারী ও গৃহস্থ পরিবার থেকে জানানো হয় কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে ষাড় গরুগুলো লালন পালনে এবারে খরচ অনেক বেশী পড়ছে।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকতা ডা. শেখ এম এ মতিন জানান, উল্লাপাড়ায় গরু খামারগুলোয় ও গৃহস্থ পরিবারগুলোয় কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে পালিত ষাড় গরুগুলোর প্রায় সবই দেশীয় জাতের বলে খোজ খবর নিয়ে জেনেছেন।

গ্রামের গৃহস্থ পরিবারের কেউ কেউ এক দুটি করে ষাড় গরু পালন করছেন। এখন পালিত গরুগুলো আরো বেশী মোটা তাজাকরণে পালনকারীরা খাদ্যের যোগান আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন ৷ তিনি আরো বলেন খামার ও গৃহস্থ পরিবারগুলোয় পালিত গরুগুলো সুস্থ রাখার জন্য ও মোটা তাজাকরণে পরিমাণ মতো স্বাস্থ্য সম্মত দানাদার খাদ্য ও কাচা ঘাস খাওয়াতে হবে।

তিনি খামারী ও গৃহস্থ পরিবারের গরু লালন পালনকারীদের জন্য উপদেশে বলেন গরু কম সময়ে মোটা তাজাকরণে কোনো ধরণের ষ্ট্রেয়য়েড ঔষধ কিংবা কেমিক্যাল জাতীয় ঔষধ ব্যবহার করা যাবে না।

এছাড়া কেউ কেউ কম সময়ে গরু মোটা তাজাকরণে মুরগীর ফিড খাওয়াচ্ছেন বলে জেনেছেন। গরুকে যে কোনো ধরণের মুরগীর ফিড খাওয়ানো খুবই ক্ষতি বলে জানান। মুরগীর ফিড খাওয়ানোয় এরই মধ্যে বলতে গেলে বহু গরু মারা গেছে।

তিনি মুরগীর ফিড খাওয়ানো বাদ রাখতে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে গরু লালন পালনকারীদের বলছেন। প্রতিবেদককে বলেন উল্লাপাড়া উপজেলার সব কটি পশু হাটে আসছে কোরবানী ঈদের দিন দশেক আগে থেকে গরুর চিকিৎসা সেবায় মেডিকেল টিম থাকবে।