
আবুল হাসনাত তুহিন ফেনী:- ফেনীর বহুল আলোচিত ও হৃদয়বিদারক শিশু নাশিত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি)। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মামলাটি এখন রায়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
মামলার চার্জশিট দাখিল, আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ এবং ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত রায়ের দিন ধার্য করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর রাতে কোচিং শেষে এশার নামাজ আদায় করে বাড়ি ফেরার পথে ফেনী শহরের একাডেমির শিবলু সড়ক এলাকা থেকে শিশু নাশিতকে কৌশলে অপহরণ করে তুষার ও ওয়াসি। বিড়ালের লোভ দেখিয়ে তাকে অটোরিকশাযোগে উত্তর শিবপুর ঝাউবাগান এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পরে তুষারের বন্ধু রিফাতকে ঘটনাস্থলে ডেকে নেওয়া হয়। তিনজন মিলে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে নাশিতকে অচেতন করে।
একই রাতে নাশিতের বাবা ও মামলার বাদী মাঈন উদ্দিন সোহাগের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে নাশিতের জ্ঞান ফিরলে সে কান্নাকাটি শুরু করে। এতে অপহরণকারীরা আতঙ্কিত হয়ে গলা চেপে তাকে হত্যা করে।
হত্যার পর লাশ গুম করতে উত্তর শিবপুর রেললাইনের পাশে একটি পরিত্যক্ত ডোবায় স্কুলব্যাগে পাথর ভরে নাশিতের মরদেহ পানিতে ডুবিয়ে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।
তদন্তে গ্রেপ্তার হওয়া তুষার, ওয়াসি ও রিফাত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তুষার জানান, ওয়াসি নাশিতের গলা চেপে ধরে, রিফাত মুখ চেপে ধরে এবং সে নিজে দুই হাত দিয়ে চেপে ধরে রাখে। এতে শ্বাসরোধ হয়ে নাশিতের মৃত্যু হয়।
পুলিশ তদন্ত শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৮/৩০ ধারাসহ দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ অভিযোগপত্র দাখিলের পর ২৫ মে আদালত তা গ্রহণ করেন। ৩০ জুন অভিযোগ গঠন করা হয় এবং ২৭ জুলাই থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে ১৮ নভেম্বর মোট ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।
সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন পোস্টমর্টেম মেডিক্যাল বোর্ডের তিনজন চিকিৎসক, একজন ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ঘুমের ওষুধ বিক্রেতা, জুস বিক্রেতাসহ স্থানীয় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীরা। সবাই আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে নাশিত হত্যা ও লাশ গুমের বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানার এসআই সাত্তার বলেন, “আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিল করেছি। বিচারিক প্রক্রিয়াও দ্রুত এগিয়েছে। আশা করছি আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন।”
নাশিতের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ অপেক্ষার পর দ্রুত রায় ও সর্বোচ্চ শাস্তির আশায় দিন গুনছেন। একই সঙ্গে এলাকাবাসী ও সচেতন মহল মনে করছেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা দেবে।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির...
দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আবারও বাস পড়ল নদীতে
দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আবারও বাস...
নালিতাবাড়ীর পাহাড়ি রাস্তায় রোপণ হবে হাজারো কৃষ্ণচূড়ার চারা
নালিতাবাড়ীর পাহাড়ি রাস্তায় রোপণ হবে হাজারো...
শেরপুরে বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু
শেরপুরে বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু
গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা
গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা
জেলা ইমাম সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত
জেলা ইমাম সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত