• অপরাধ শীর্ষ সংবাদ
  • চুরির অপবাদে যুবককে রড দিয়ে বেঁধে নির্যাতন: ভিডিও ভাইরাল, কমলগঞ্জে চাঞ্চল্য

চুরির অপবাদে যুবককে রড দিয়ে বেঁধে নির্যাতন: ভিডিও ভাইরাল, কমলগঞ্জে চাঞ্চল্য

প্রকাশিত: ২:১০ অপরাহ্ণ , ৫ মে ২০২৬, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 month আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

এম এ ওয়াহিদ রুলু,মৌলভীবাজারঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে এক যুবককে হাত-পা বেঁধে লোহার রডের সঙ্গে আটকিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। টানা প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চালানো এই নির্মম নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে গত ১ মে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের শহীদনগর বাজারে অবস্থিত রয়েল ওয়ার্কশপে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, পতনঊষার গ্রামের বাসিন্দা মিছবাউর রহমানের ছেলে ইমদাদুল হক ইমন (২৮) পেশায় সিএনজি-অটোরিকশা চালক। সম্প্রতি তিনি শহীদনগর বাজারের রয়েল ওয়ার্কশপে যান।

পরে ওয়ার্কশপ মালিকের সাড়ে ৭ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ তুলে সন্ধ্যার পর ওয়ার্কশপের দুই কর্মচারীসহ কয়েকজন তাকে বাজার থেকে ধরে নিয়ে যায়।

অভিযোগ রয়েছে, ইমনকে ওয়ার্কশপে নিয়ে তার হাত-পা একত্র করে লোহার রডের সঙ্গে বেঁধে মাটিতে ফেলে রাখা হয়। এরপর জয়নাল মিয়াসহ ৪ থেকে ৫ জন ব্যক্তি প্লাস্টিকের কেবল দিয়ে পর্যায়ক্রমে তাকে বেধড়ক মারধর করে।

প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা নির্যাতনের একপর্যায়ে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করা হয় এবং ৪ হাজার ২০০ টাকা নিয়ে নেয়া হয়।

নির্যাতনের বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় ইউপি সদস্য তোয়াবুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন এবং পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় ইমদাদুল হক ইমনকে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগীর ভাই খালেদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “আমার ভাই কখনো চুরি করেনি। তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। জয়নাল মিয়া আমার ভাইকে অবৈধ কাজে জড়াতে চেয়েছিল।

রাজি না হওয়ায় তাকে মিথ্যা অভিযোগে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, উদ্ধার করতে গেলে তাকেও মারধর করা হয় এবং পরে জোরপূর্বক টাকা নিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়া হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত জয়নাল মিয়া বলেন, “ইমদাদুল হক একজন পরিচিত চোর। তাকে ধরে আনার পর অনেকেই মারধর করেছে। আমি মাত্র দুই-একটি আঘাত করেছি।” তিনি দাবি করেন, আসন্ন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ায় তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য তোয়াবুর রহমান বলেন, “রাতে ভুক্তভোগীর পরিবার আমাকে ফোন দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হাত বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করি। তখন নির্যাতনের বিষয়ে বিস্তারিত কেউ বলেনি। পরে জানা গেছে চুরির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে কিছু টাকা লেনদেন হয়েছে।”

পতনঊষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অলি আহমদ খান জানান, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জানার পর উভয় পক্ষকে ডেকে শান্তনা দেয়া হয়েছে এবং সামাজিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “দু-একদিনের মধ্যে বৈঠকে বসে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে।”

কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল আউয়াল বলেন, “কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান ঘটনাটিকে “নিন্দনীয় ও অমানবিক” আখ্যা দিয়ে বলেন, “এ ধরনের ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। চেয়ারম্যানকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে ভুক্তভোগীদের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।”

এদিকে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় মানবাধিকার সচেতন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এমন বর্বর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।