
ইমরান হাসান, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ): ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার পোড়াবাড়ি বাজারের ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে খিরু নদী। নদীর দুই পারের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা একটি ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু।
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বেইলি সেতুর পাশে একটি নতুন কংক্রিট সেতু নির্মাণ শুরু করে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণের টাকা না পাওয়ায় জমির মালিকেরা জায়গা ছাড়তে রাজি না হওয়ায় প্রায় এক বছর ধরে থেমে আছে সেতুর কাজ।
নির্মাণাধীন সেতুর পাশে থাকা প্রকল্পের তথ্যফলক অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস (এসইউপিআরবি)’ প্রকল্পের আওতায় ত্রিশাল–আছিম সড়কের মঠবাড়ি ইউনিয়নের পোড়াবাড়ি বাজারে প্রায় ৭০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। ২০২২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু হয় এবং শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালের ২৬ আগস্ট। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় দুই দফা সময় বাড়িয়েও কাজ শেষ হয়নি।
কাজটি বাস্তবায়ন করছে এমসিই–এমএলএম (জেভি) নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মকবুল হোসেন বলেন, “সেতুর তিনটি স্প্যানের মধ্যে দুটি সম্পন্ন হয়েছে, একটি স্প্যান আটকে আছে। প্রায় ১৯ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন, কিন্তু সেই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় প্রকৌশল বিভাগ আমাদের জমি বুঝিয়ে দিতে পারছে না। জমি বুঝে পেলে ছয় মাসের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব।”
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে অধিগ্রহণ জটিলতা নিরসনে ভূমি মালিকদের সঙ্গে কথা বলতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আজিম উদ্দিন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারি, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমান এবং প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণাধীন সেতু ও বেইলি সেতুটি পাশাপাশি অবস্থিত। বেইলি সেতুর পাটাতন ও কাঠামো নড়বড়ে অবস্থায় আছে, ঝুঁকি নিয়েই যানবাহন চলাচল করছে। নির্মাণাধীন সেতুর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কাজ সম্পন্ন হলেও গত এক বছর ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাছির বলেন, “একবছর ধরে কাজ বন্ধ। মানুষ জায়গা না ছাড়ায় কাজ আটকে আছে।”
আরেক বাসিন্দা এনামুল হক এনাম বলেন, “অধিগ্রহণ জটিলতায় পাকা সেতুর কাজ থেমে আছে। বেইলি সেতুও এখন খুব ঝুঁকিপূর্ণ। কিছুদিন আগেও পাটাতন ভেঙে পড়েছিল। দ্রুত নতুন সেতুটি চালু করা দরকার।”
নির্মাণাধীন সেতুর জন্য অন্তত ১০টি বসতঘর ভাঙতে হবে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে স্বামীহারা বাসন্তী রানী চৌধুরীর (৫৪) তিন শতকের ভিটে পড়েছে। তিনি জানান, অধিগ্রহণের টাকা ছাড়া জমি ছাড়বেন না। তবে মঙ্গলবারের বৈঠকে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাঁকে দ্রুত টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলে তিনি জমি ছাড়তে সম্মতি দেন।
ত্রিশাল উপজেলা প্রকৌশলী বলেন, “৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা হবে।”
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আজিম উদ্দিন বলেন, “পুরোনো বেইলি ব্রিজটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমরা মাঠে মাপজোক করছি। আশা করি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সাতধারা নোটিশ দেওয়া হবে।
পরে প্রাক্কলন তৈরি করে যথাযথ সংস্থায় পাঠানো হবে, টাকা পেলেই অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। মাসদেড়েকের মধ্যে কাজ শুরু করে দ্রুত সময়ে শেষ করতে পারবো বলে আশা করছি।”
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
যশোর চৌগাছার চাঞ্চল্যকর ঝন্টু হত্যা’র প্রধান আসামি আবু...
যশোর চৌগাছার চাঞ্চল্যকর ঝন্টু হত্যা’র প্রধান...
গৃহপরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন কলিতা
গৃহপরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন কলিতা
উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং, কিমের আমন্ত্রণে বিরল...
উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং, কিমের...
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১৭ অঞ্চল, সপ্তাহজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১৭ অঞ্চল, সপ্তাহজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির...
লাইভে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা দিয়ে পুলিশ বাবাকে ‘মিথ্যাবাদী’...
লাইভে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা দিয়ে পুলিশ...
এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার
এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ...