
মো.সাহিদুল ইসলাম শাহীনঃ- যশোরের বেনাপোল পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বড়আঁচড়া গ্রামে ধানের শীষের সমর্থনে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে জনমত সৃষ্টি ও ভোটের মাঠ নিজেদের দখলে রাখতে এই সভার আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার(৩০ জানুয়ারী) সন্ধ্যায় বড়আঁচড়া গ্রামের স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটন।
দুপুরের পর থেকেই স্থানীয় নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সভাস্থলে জড়ো হতে শুরু করে। বিকেলের মধ্যেই জনসভাটি বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
উক্ত সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-শার্শা উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি মহসিন কবির,বেনাপোল পৌর বিএনপি’র সভাপতি নাজিমউদ্দিন,সহ-সভাপতি নাসিমুল গনি বল্টু, মাসুদুর রহমান মিলন, একেএম আতিকুজ্জামান সনি,সাধারন সম্পাদক-আবু তাহের ভারত,সাংগঠনিক সম্পাদক-আক্তারুজ্জামান,বেনাপোল ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আলমগীর সিদ্দিকি,শার্শা উপজেলা যুবদল সদস্য সচিব ইমদাদুল হক ইমদা,বেনাপোল পৌর যুবদল আহবায়ক মফিজুর রহমান বাবু,শার্শা উপজেলা ছাত্রদল আহবায়ক শরিফুল ইসলাম চয়ন,যুগ্ম-আহবায়ক মোহায়মিনুল সাগর,পৌর ছাত্রদল আহবায়ক আরিফুল ইসলাম আরিফ।
এ ছাড়াও ঐ এলাকার বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং স্থানীয় উন্নয়নের নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন। তাদের বক্তব্যে উঠে আসা প্রধান বিষয়গুলো হলো: সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ধানের শীষের বিজয়ের কোনো বিকল্প নেই।
বেনাপোল পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। জয়ী হলে এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার করা হয়।
ইদ্রিস আলী ইদু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি নুরুজ্জামান লিটন সকল বক্তার সাথে একমত পোষণ করে বলেন, বড়আঁচড়া গ্রামের মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে তারা পরিবর্তন চায়। আপনাদের দোয়া ও ভোট পেলে এই ৯নং ওয়ার্ডকে একটি মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলবো।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে নুরুজ্জামান লিটন বলেন, দলের হাইকমান্ড বিশেষ করে তারেক রহমান সরাসরি তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছেন। কোনো মাধ্যম ছাড়াই এই মনোনয়ন পাওয়ায় তিনি আলহামদুলিল্লাহ পাঠ করেন এবং দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মনোনয়ন আনাটা ছিল আমার দায়িত্ব, আর এই মনোনয়ন রক্ষা করা এখন আপনাদের (বেনাপোলবাসীর) দায়িত্ব
তিনি এলাকার নারী, পুরুষ ও মুরুব্বিদের কাছে আহ্বান জানান, যেন তারা সবাই মিলে তাঁকে ভোট দিয়ে আগামী দিনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করেন।
শার্শা ও বেনাপোল এলাকাকে তিনি বিএনপির একটি ‘দুর্গ’ ও ‘ঘাঁটি’ হিসেবে অভিহিত করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার নাম উল্লেখ করেন। তারা হলেন
আবু তাহের ভারত: পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক। মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম: শার্শা উপজেলা যুবদলের সভাপতি। শরিফুল ইসলাম চয়ন: শার্শা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি। ইসলাম সরদার: প্রবীণ বিএনপি নেতা।
তিনি উল্লেখ করেন , অনেক নেতা বিভিন্ন চাপের মুখে অতীতে নিরপেক্ষ থাকলেও এখন সবাই ঐক্যবদ্ধ। তিনি এই ঐক্য বজায় রেখে সর্বোচ্চ ভোটে জয়ী হওয়ার জন্য নেতা-কর্মীদের মাঠে নামার অনুরোধ জানান। বেনাপোলের সকল স্তরের মানুষকে দল-মত নির্বিশেষে আগামী নির্বাচনে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর সমাজ ও দেশ গঠন সম্ভব।
তিনি বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন যে, দলটির প্রধান তারেক রহমান নিজেই অতীতের ১৭ বছরের কষ্ট ও যাতনা ভুলে গিয়ে দেশের স্বার্থে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলছেন। যদি তিনি ক্ষমা করতে পারেন, তবে সাধারণ নেতা-কর্মীদেরও ক্ষোভ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের কঠিন সময়ের কথা উল্লেখ করেন। নির্বাচনে অংশ নিতে না পারা এবং নেতৃত্বহীনতাকে তিনি একটি বড় কষ্ট হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি কঠোর না হয়ে বরং তাদের প্রতি সহমর্মিতা ও ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। তার মতে, এখন সময় একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে সমাজ গড়ার।
আমার নেতা তারেক রহমান সবসময় একটি কথা বলেন— “আমরা সামনের দিকে তাকাতে চাই, পেছনের দিকে নয়।” আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট, আমাদের উদ্দেশ্য পবিত্র। আমরা আপনাদের এমন কোনো অবাস্তবৎ প্রতিশ্রুতি দেব না যা পূরণ করা সম্ভব নয়। আমরা সেই কাজগুলোই করতে চাই যা আপনাদের প্রাত্যহিক জীবনকে সহজ এবং সুন্দর করবে।
এই সমাজে আমরা যেন সবাই মিলেমিশে, ভয়ভীতিহীন এবং নিরাপত্তার সাথে বসবাস করতে পারি, সেই পরিবেশ আমরা নিশ্চিত করব। বেনাপোলে একটি আধুনিক ও বিশ্বমানের হাসপাতাল নির্মাণ আমাদের অগ্রাধিকার। এছাড়া শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করে আধুনিক চিকিৎসার সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
যুবসমাজকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে আমরা কারিগরী শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসারে গুরুত্ব দেব। শার্শায় আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যাতে আমাদের সন্তানরা দেশ-বিদেশে নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।
আমরা অতীত নিয়ে পড়ে থাকতে চাই না। যারা নির্বাচনে নেই বা যারা উন্নয়নের বাধা, তাদের নিয়ে কথা বলে সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই।
আমাদের লড়াই আপনাদের অধিকারের জন্য, আপনাদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য। আসুন, আগামী নির্বাচনে আমরা উন্নয়নের প্রতীককে বিজয়ী করি এবং একটি সমৃদ্ধ ও আধুনিক শার্শা গড়ে তুলি।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বেনাপোল একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর হওয়া সত্ত্বেও এখানে মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কুল বা হাসপাতাল নেই। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই বন্দর থেকে সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পায়, কিন্তু স্থানীয় জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তাদের দল ক্ষমতায় আসলে বেনাপোলে একটি ভালো মানের স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হবে।
তারেক রহমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশের মানুষের জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি রাজনীতি ও ধর্মকে আলাদা রাখার কথা বলেন এবং কোনো ধর্ম নিয়ে ব্যবসা না করার প্রতিশ্রুতি দেন।
তার মতে, জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য সঠিক নেতৃত্বকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করা জরুরি। উপস্থিত জনতাকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দিয়ে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করার জন্য আহ্বান জানান, যাতে তাদের পরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।
যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তবে সাধারণ মানুষ এবং কৃষকদের জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে সম্পর্কে আলোচনা করেছেন তিনি। তার বক্তব্যের প্রধান পয়েন্টগুলো নিচে তুলে ধরা হলো- বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রথমেই মা-বোনদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করবেন। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা সরাসরি দেওয়া হবে।
এজন্য কোনো চেয়ারম্যান, এমপি বা নেতার সুপারিশ লাগবে না; জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে সরাসরি সরকারি সহায়তা বিকাশের মতো মাধ্যমে প্রদান করা হবে। কৃষকদের জন্য বীজ, সার, কীটনাশক এবং কৃষি যন্ত্রপাতি অত্যন্ত সাশ্রয়ী দামে সরবরাহ করা হবে।
কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক দাম পান, সে জন্য সরকার একটি ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করে দেবে। এর ফলে আড়তদার বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দ্বারা কৃষকরা আর ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। তারেক রহমান খুবই মানবিক। তিনি কৃষক এবং মা-বোনদের জন্য সবসময় ভাবেন।
জামায়াতে ইসলামীর মত অন্যান্য দলগুলো ধর্মের কথা বললেও ইমাম, মুয়াজ্জিন বা খতিবদের নিয়ে তেমন কোনো কার্যকর পরিকল্পনা করেনি। কিন্তু তারেক রহমান পরিকল্পনা করেছেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সরকারিভাবে ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং খতিবদের জন্য মাসিক সরকারি বেতনের ব্যবস্থা করা হবে।
শুধু মুসলিম নয়, হিন্দু, খ্রিস্টান এবং বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতাদের জন্যও মাসিক সরকারি ভাতার ব্যবস্থা করা হবে বলে বক্তা উল্লেখ করেন। বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে বিশেষ ভাতার ব্যবস্থাও করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান। তারেক রহমান কেবল স্বপ্ন দেখায় বিশ্বাস করেন না, তিনি প্রতিটি পরিকল্পনার বাস্তবায়নে বিশ্বাসী।
নুরুজ্জামান লিটন তার নিজের কিছু পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন,এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী একটি খেলার মাঠ তৈরি করা।
রাস্তা এবং উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি করা। বড়আঁচড়া এবং শাদীপুর এলাকার চলাচলের জন্য একটি সেতু নির্মাণ এবং বিভিন্ন রাস্তা সংস্কার করা সহ বেনাপোলকে একটি আধুনিক এবং সুন্দর শহর হিসেবে গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি যেহেতু বর্তমানে এমপি নন, তাই এই কাজগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য তাকে নির্বাচিত করা প্রয়োজন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, নির্বাচিত হলে তিনি তার এই সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন।
তিনি নিজের প্রতি গর্ব করে বলেন,পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়নে বড় কোনো নেতার কাছে যাওয়ার জন্য তার কোনো মধ্যস্থতাকারীর (ভায়া) প্রয়োজন হয় না।
নেতৃবৃন্দের সাথে তার আত্মিক ও হৃদয়ের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন যে বড় নেতাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ থাকার ফলে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ করা তার জন্য অনেক সহজ হবে।
আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি সবাইকে সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাকে ভোট দেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানান। এলাকার মানুষের সন্তান হিসেবে তিনি একবার সেবা করার এবং এলাকার উন্নয়ন করার সুযোগ চান। তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন যেন তাকে সুযোগ থেকে বঞ্চিত না করা হয় এবং সবাই তাকে নিজের ঘরের সন্তান বা ভাইয়ের মতো দেখেন।
সবশেষে নিজের মা’য়ের জন্য দোয়া চেয়ে ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে “ধানের শীষ” প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে জয়যুক্ত করার জন্য সকল ভোটারদের’কে আহ্বান জানান।
সভায় উপস্থিত সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ এক ভোটার জানান, “দীর্ঘদিন পর এমন উৎসবমুখর পরিবেশে জনসভা দেখে ভালো লাগছে। আমরা শান্তি ও উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিতে চাই”।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
লোহাগড়ায় টর্চলাইট জ্বালিয়ে দু’গ্রুপে সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ১৫,বাড়ি-ঘর...
লোহাগড়ায় টর্চলাইট জ্বালিয়ে দু’গ্রুপে সংঘর্ষে মহিলাসহ...
সরাইলে”র প্রধান সড়কের বেহাল দশা, জনদূর্ভোগ
সরাইলে”র প্রধান সড়কের বেহাল দশা, জনদূর্ভোগ
আবু সাঈদ ময়মনসিংহ বিভাগের শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক নির্বাচিত
আবু সাঈদ ময়মনসিংহ বিভাগের শ্রেষ্ঠ সহকারী...
ধামইরহাটে মিটারের ত্রুটির অভিযোগে ১ লাখ ৬০ হাজার...
ধামইরহাটে মিটারের ত্রুটির অভিযোগে ১ লাখ...
সাপাহার সীমান্তে নারী পুরুষ ও শিশু সহ ১৭...
সাপাহার সীমান্তে নারী পুরুষ ও শিশু...
নড়াইলের নলিয়া নদীতে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার
নড়াইলের নলিয়া নদীতে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ...