
মো.সাহিদুল ইসলাম শাহীন:- আজ ৩ মে ২০২৬, রবিবার বিতাল ৩টার দিকে বেনাপোল স্থলবন্দরে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘অ্যাক্সিলারেটিং ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড ট্রেড কানেক্টিভিটি ইন ইস্টার্ন সাউথ এশিয়া (ACCESS)- বাংলাদেশ (BLPA কম্পোনেন্ট) প্রজেক্ট’ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম-সচিব ও প্রকল্প পরিচালক। সভাপতিত্ব করেন, মোহাম্মদ শামীম হোসেন, উপ-সচিব ও পরিচালক (ট্রাফিক), বেনাপোল স্থলবন্দর।
দক্ষিণ এশিয়ায় পরিবহন ও বাণিজ্য সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত ‘অ্যাক্সেস’ (ACCESS) প্রকল্পটির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দর কার্যালয়ে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রকল্পের কার্যক্রম, অগ্রগতি এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় একজন জমির মালিক মো.মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম বলেন, সরকারি ভূমি অধিগ্রহণ ও মৌজা মূল্য নির্ধারণে বৈষম্য এবং দীর্ঘসূত্রিতার কথা জানান। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার আহ্বান জানান।
তিনি উদাহরণ দিয়ে উল্লেখ করেন,পার্শ্ববর্তী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকার জমির মৌজা মূল্য যেখানে ৭৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে তুলনামূলক সুবিধাজনক স্থানের জমির মূল্য ৯ লাখ টাকা পর্যন্ত দেখানো হচ্ছে। এতে সাধারণ জমির মালিকরা ন্যায্য ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে গঠিত কমিটির সিদ্ধান্তসমূহে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ৩ শতাংশ ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ক্ষেত্রেও জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রিতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অন্য স্থানে দোকান বা বিকল্প সুবিধা গ্রহণ করেছেন, যা সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
সভাকার্যের সভাপতি ও বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক মো.শামীম হোসেন সভায় দাবি উত্থাপণ করে বলেন,বেনাপোল স্থলবন্দরের সার্বিক উন্নয়ন, কার্যপরিবেশ এবং শ্রমিকদের সুবিধার্থে প্রকল্পের নির্মাণ ও বাস্তবায়নে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব একটি আবহ তৈরি হয়।
*শ্রমিকদের জন্য খাবার ও বিশ্রামের সুব্যবস্থা নেই। তাই তাদের জন্য ক্যান্টিন বা রেস্টুরেন্ট সুবিধাসহ অন্তত একতলা একটি ভবন নির্মাণের অনুরোধ করা হয়।
*প্রকল্পের কাজের ফলে যেন পরিবেশের ক্ষতি বা অনিয়ম না হয় এবং অবৈধ প্রবেশ বা মাদকের প্রভাব রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
*বন্দরের কার্যক্রমে জনবল সংকটের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। ২০১৬ সালে যেখানে ২১৬ জন জনবল ছিল, সেখানে বর্তমানে মাত্র ১৪২ জন কর্মী কর্মরত আছেন। এ ঘাটতি পূরণে দ্রুত জনবল নিয়োগের দাবি জানানো হয়।
এই সুপারিশগুলো বেনাপোল স্থলবন্দরে কর্মরত শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ উন্নত করতে এবং প্রকল্পের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে পরিচালক মন্তব্য করেন।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি মো.আব্দুর রাজ্জাক বক্তাগণের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বন্দর উন্নয়ণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রদত্ত বক্তব্যের রুপরেখা তুলে ধরা হলো-
* নীতিমালা ও জমির মূল্য সংক্রান্ত নীতিমালা পরিবর্তন করে এর মেয়াদ এক বছর থেকে তিন বছর করা হয়েছে।
*রাস্তার পাশের জমি এবং ভেতরের জমির মূল্যের মধ্যে ১০ থেকে ২০ গুণ পর্যন্ত পার্থক্য বিদ্যমান। তবে নীতিমালায় এগুলোর মূল্যায়ন কাছাকাছি রাখা হয়েছে (বিষয়টি বর্তমানে সরাসরি দৃশ্যমান না হলেও, প্রকল্পের পরবর্তী ধাপে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে এটি বিবেচনার দাবি রাখে)।
প্রকল্পের অগ্রগতি বিলম্বের কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ডিসেম্বর/২০২৫ এবং জানুয়ারি/২০২৬ মাসে প্রকল্প পরিচালকের (Project Director) পরিবর্তনের কারণে কাজের গতি কিছুটা ধীর হয়েছিল। নতুন নিযুক্ত টিম অত্যন্ত দক্ষ এবং তারা কনসালটেন্ট ফার্ম ও বাস্তবায়নকারী সংস্থার কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। প্রকল্পের কাজের প্রতি বাড়তি মনোযোগ এবং দায়িত্বশীলতা প্রদর্শনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
অংশীজনদের (Stakeholders) সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, প্রকল্পটির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডার ও প্রতিনিধিদের সম্মিলিত সহযোগিতা অপরিহার্য। অংশীজনদের গঠনমূলক মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করে প্রকল্পটিকে আরও কার্যকর ও সুন্দরভাবে বাস্তবায়নের ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে অংশ নেন-মো.রুহুল আমিন(উপ-পরিচালক,বেনাপোল বন্দর),আরতি গোস্বামী(সহকারী কাষ্টমস কমিশনার,বেনাপোল),মোহাম্মদ নিয়াজ মাখদুম(সহকারী কমিশনার,ভূমি,শার্শা),শাহিদ হাসান(রিসার্চ এসিস্ট্যান্ট এন্ড ডাটা এডিটিং অফিসার)।
এ ছাড়াও জমির মালিকগণ,বন্দর ব্যবহারকারী অংশীজনেরা,বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ,বিজিবি,পুলিশ,আনসার,গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা এবং বন্দর ও কাস্টমসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ।
প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বেনাপোল স্থলবন্দরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে বাণিজ্য সুবিধা আরও প্রসারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
গৃহপরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন কলিতা
গৃহপরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন কলিতা
উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং, কিমের আমন্ত্রণে বিরল...
উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং, কিমের...
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১৭ অঞ্চল, সপ্তাহজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১৭ অঞ্চল, সপ্তাহজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির...
লাইভে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা দিয়ে পুলিশ বাবাকে ‘মিথ্যাবাদী’...
লাইভে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা দিয়ে পুলিশ...
এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার
এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ...
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফের পদ্মায় ডুবলো বাস, চালক-হেলপার উদ্ধার
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফের পদ্মায় ডুবলো বাস,...