লক্ষ্মীপুর সাংবাদিকদের বিপক্ষে মামলা, মূল তদন্ত ঝুলে আছে..উদ্বিগ্ন সাংবাদিক সংগঠন

প্রকাশিত: ১২:৩৭ অপরাহ্ণ , ১৮ নভেম্বর ২০২৫, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 7 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

আমিনুল ইসলাম আহাদঃ লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় উপজেলা পরিষদের নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তা মোস্তফা তারেক ইকবাল ওরফে রবিন পাটওয়ারীর আত্মহত্যার ১৪ মাস পরও রহস্য উদঘাটন হয়নি।

মামলায় চার সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হলেও অন্য কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বাবর আলী মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করায় সাংবাদিক সংগঠন বিএমইউজে (বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন), সাংবাদিকদের স্বজন, এলাকাবাসী ও আসামি পক্ষের আইনজীবীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এই কৌশলে প্রকৃত রহস্য আড়ালে থেকে যাওয়ার পাশাপাশি ন্যায়বিচারের পথ রুদ্ধ হতে পারে।

সূত্র জানায়, রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ফিল্ড অফিসার ইমাম হোসেন-এর বিরুদ্ধে অবিরামপুর গ্রামের কিছু গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর দুপুরে সাংবাদিকরা — ইত্তেফাকের রামগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি জাকির হোসেন মোস্তান, যায়যায়দিনের বেলায়েত হোসেন বাচ্চু, সমকালের জাকির হোসেন সুমন ও মানবকণ্ঠের শাখায়াত হোসেন জাহাঙ্গীর ব্যাংক অফিসে যান তথ্য সংগ্রহের জন্য।

অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি ও সেকেন্ড অফিসার মোস্তফার অসুস্থতার কারণে তারা কোনো বক্তব্য সংগ্রহ করতে না পেরে ফিরে আসেন।

পরে বিকেলে সেকেন্ড অফিসার মোস্তফার মৃত্যুর খবর শুনে তারা থানায় গেলে ওসি কাউকে কিছু না জানিয়ে চার সাংবাদিককে আটক করেন এবং রাত তিনটার দিকে মৃতের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার রিমুকে বাদী করে মামলা দায়ের করা হয়। ২৩ ঘণ্টা পর তারা লক্ষ্মীপুর আদালতে সোপর্দ হন এবং দীর্ঘ ৫৫ দিন কারাভোগের পর জামিন পান।

সাংবাদিকদের আইনজীবী খাদিজাতুল কোবরা জানান, এসআই বাবর আলী দীর্ঘ ৯ মাস তদন্ত করেও চার্জশিট দেননি, বরং ‘অদৃশ্য শক্তির ইন্ধনে’ মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিতভাবে কোনো অনুমতি ছাড়াই সাংবাদিকদের আটক ও মামলা করা হয়। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করলেও তদন্ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আলহাজ্ব সোহেল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিক খান বলেন, “সাংবাদিকদের হয়রানিমূলক এই মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে দায়ী পক্ষকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমরা উদ্বিগ্ন যে প্রকৃত আসামিদের আড়াল করতে তদন্ত সংঘাতে ফেলা হচ্ছে কিনা।”

তারা পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায় বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান।

মন্তব্য লিখুন