
মজিবুর রহমান, নেত্রকোনা : নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া–আটপাড়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ড. রফিকুল ইসলাম হিলালীর রাজনৈতিক জীবন যেন এক দীর্ঘ অধ্যবসায়ের গল্প। ছাত্রজীবনের স্বপ্ন, সংগঠনের ভেতরকার সংগ্রাম, প্রতিকূলতা ও প্রত্যাখ্যান সবকিছু পেরিয়ে অবশেষে তিনি পৌঁছেছেন জাতীয় সংসদের আসনে।
ড. হিলালীর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে। তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এর রাজনীতিতে। সংগঠনের তৃণমূল পর্যায় থেকে ধাপে ধাপে উঠে এসে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তীতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
ছাত্ররাজনীতির এই সময়টিই তার নেতৃত্বের ভিত্তি গড়ে দেয়।
ছাত্ররাজনীতি শেষে তিনি মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তিনি কেন্দ্রীয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করে আসছেন।
নিজ নির্বাচনী এলাকা কেন্দুয়ায়ও তিনি ছিলেন সংগঠনের অন্যতম মুখ। একাধিকবার কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরে জেলা পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। টানা ছয় বছর নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
গত বছর কাউন্সিলরদের ভোটে নির্বাচিত হন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের শাসনামলে নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীদের ছায়ামতো আগলে রাখেন। যেকারণে দুর্দিনের হিলালী ভাই হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেছেন।
সাংগঠনিক দক্ষতা ও তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ তাকে ধীরে ধীরে শক্ত অবস্থানে নিয়ে আসে। তবে তার পথ একেবারেই মসৃণ ছিল না। ২০০৬, ২০০৮ ও ২০১৮ সালে দলীয় মনোনয়ন পেয়েও রাজনৈতিক বৈরী আবহাওয়া ও প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তিনি প্রত্যাশিত সাফল্য পাননি।
অভ্যন্তরীণ বিরোধিতার মুখেও পড়েছেন বারবার । এবারের মনোনয়ন ঘোষণার পরও পুরোনো বিরোধিতা থেমে থাকেনি; স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড় করিয়ে তাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলা হয়। তবুও তিনি মাঠ ছাড়েননি।
ড. হিলালীর ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য, শৈশব থেকেই তার স্বপ্ন ছিল একদিন সংসদ সদস্য হওয়া। সহপাঠীদের কাছে তিনি প্রায়ই বলতেন, একদিন তিনি এমপি হবেন। অনেকেই তখন হাসি-ঠাট্টা করতেন, কেউ কেউ কৌতুক করে উড়িয়ে দিতেন সেই স্বপ্ন। কিন্তু তিনি স্বপ্ন ছাড়েননি। দীর্ঘ ৪২ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় তিনি সংগঠনের ভেতর থেকে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন।
অবশেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে তার সেই শৈশবের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়। এই জয়কে তিনি ব্যক্তিগত অর্জন নয়, দীর্ঘদিনের কর্মী-সমর্থকদের ত্যাগ ও আস্থার ফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ড.হিলালীর জীবনগাথা মূলত অধ্যবসায়, ধৈর্য ও লক্ষ্যপূরণের এক রাজনৈতিক কাহিনি যেখানে স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে হয় বছরের পর বছর, প্রতিকূলতার মাঝেও। দীর্ঘ সংগ্রাম আর জেল-জুলুমের পর তার সংসদে পৌঁছানো এটা শুধু একটি রাজনৈতিক পদপ্রাপ্তি নয়; এটি এক অবিচল বিশ্বাসের বাস্তবায়ন।
নবনির্বাচিত এমপি ড.রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন,ছাত্র রাজনীতি যখন শুরু করি তখনই এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখি। বন্ধু-বান্ধকে একথা বললে নানাভাবে হাসি ঠাট্টা করতেন তারা।
আমার স্বপ্নে পূরণে মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সেই সাথে কেন্দুয়া-আটপাড়াবাসীর ভালোবাসা ও সমর্থনের প্রতিও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। এই বিজয় আমার একার নয়, সবার।
তিনি আরও বলেন, এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান হবে আমার অগ্রাধিকার। রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে আমরা সবাই মিলে কেন্দুয়া ও আটপাড়ায় একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ জনপদ গড়ে তুলব। আমার এই প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে সকল শ্রেনী পেশার মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
গৃহপরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন কলিতা
গৃহপরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন কলিতা
উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং, কিমের আমন্ত্রণে বিরল...
উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং, কিমের...
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১৭ অঞ্চল, সপ্তাহজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১৭ অঞ্চল, সপ্তাহজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির...
লাইভে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা দিয়ে পুলিশ বাবাকে ‘মিথ্যাবাদী’...
লাইভে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা দিয়ে পুলিশ...
এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার
এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ...
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফের পদ্মায় ডুবলো বাস, চালক-হেলপার উদ্ধার
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফের পদ্মায় ডুবলো বাস,...