৬৮ লাখ টাকার সড়ক, শেষ হওয়ার আগেই ভাঙনের শঙ্কা

প্রকাশিত: ৪:১১ পূর্বাহ্ণ , ২০ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 days আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

ময়মনসিংহের ত্রিশালে ৬৮ লাখ টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মাণাধীন সড়কের একাংশে দেখা দিয়েছে নদীভাঙনের ঝুঁকি। অলহরী ব্রিজ থেকে আমলীতলা বাজার পর্যন্ত সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও মাওলানা জামাল উদ্দিনের বাড়িসংলগ্ন অংশে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নতুন নির্মিত সড়কটি অল্প সময়ের মধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে চলছে কার্পেটিং। সবকিছু ঠিক থাকলে এক-দুই দিনের মধ্যে কাজ শেষ হতে পারে। তবে নদীসংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ অংশে সড়কের প্রান্ত থেকে নদীভাঙনের দূরত্ব মাত্র এক থেকে দেড় ফুট বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের ভাষ্য, গত বর্ষা মৌসুমে ওই এলাকায় প্রায় পাঁচ ফুট জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙনের কারণে মাটি সরে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণের শুরুতে ভাঙনপ্রবণ অংশের পাশের জমির মালিকেরা প্রকৌশলীর অনুরোধে কয়েক ফুট জমি ছেড়ে দেন। সে সময় নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষের দিকে চলে এলেও সুরক্ষার দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বাবু বলেন, “এল্লা রাস্তা তো ভাঙ্গা গেলো। রাস্তা যে হরতাছে তারা কি দেখছে না গো? আগে রাস্তা আছিন না, এহন রাস্তা অইতাছে। কিন্তু অইলে লাভ কি? রাস্তা তো থাকতো না।”

এবিএস কামাল আহমেদ বলেন, “রাস্তার কাজ শুরুর সময় প্রকৌশলী মহোদয় অনুরোধ করে বলছিলেন, আপনারা কিছুটা জায়গা ছাড়েন, না হলে রাস্তার কাজ শুরু করা সম্ভব না। আমরা উনার অনুরোধে কয়েক ফুট জায়গা ছেড়ে দেই। উনি ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে আশ্বাস দেন। তবে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হলো না। আশা করছি, দ্রুতই ব্যবস্থা নেবেন।”

তাজুল ইসলাম বলেন, “অনেক দিনের দাবির পর রাস্তাটির কাজ শুরু হয়েছে। তবে নদীর এই ভাঙনে আমরা বিচলিত। গাইড ওয়াল নির্মাণ করে ভাঙন ঠেকানোর ব্যবস্থা না নিলে সামান্য বৃষ্টিতেই নদীগর্ভে চলে যাবে রাস্তাটি। কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”

সাবেক ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, “এই এলাকার মানুষের ভোগান্তি কমাতে সড়কটি পাকাকরণের খুব প্রয়োজন ছিল। জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী অনেক দিন পর নির্মাণকাজ শুরু হলেও কাজ শেষের আগেই ভাঙনের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি থাকবে, দ্রুত একটি টেকসই ব্যবস্থা নেওয়ার।”

এ বিষয়ে ত্রিশাল উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমার মাথায় আছে। নদীভাঙনের জন্য নতুন নির্মিত এই রাস্তাটি ঝুঁকিতে রয়েছে। রাস্তাটি রক্ষার্থে নদীভাঙন রোধে পদক্ষেপ নিতে আমি ছবিসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাব।”

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, মঠবাড়ী ইউনিয়নের অলহরী ঘাটপাড় থেকে আমলীতলা বাজার পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৮ হাজার ৩৩৯ টাকা। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ ২০২৬ সালের মে মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে মেসার্স সরকার এন্টারপ্রাইজ।

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও নির্মাণকাজ শেষ হয়নি।অন্যদিকে, নদীভাঙন প্রতিরোধে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানা যায়নি। ফলে সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ অংশের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তাঁদের মতে, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থেরও অপচয় হতে পারে।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর