২৪ লাখ টাকা নিয়ে চম্পট

কেন্দুয়ায় সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের ফাঁদে স্বর্ণ ব্যবসায়ী

প্রকাশিত: ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ , ২ এপ্রিল ২০২৬, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 months আগে
সুজন মিয়া ও মিনা আক্তার।ছবি- সময়ের আবর্তন।

মজিবুর রহমান,নেত্রকোণাঃ নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রায় ২৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা খুইয়েছেন। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকালে ভুক্তভোগী স্বর্ণ ব্যবসায়ী আবু বকর ওরফে শাওন বাদী হয়ে ৯ জনের বিরুদ্ধে কেন্দুয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের কবিচন্দ্রপুর গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে জুয়েল মিয়া (৩০)।

অন্য আসামিরা হলো, রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়নের রোয়াইলবাড়ি গ্রামের জালাল উদ্দীনের ছেলে সুজন মিয়া, কান্দাপাড়া গ্রামের ফারুক মিয়া (৩৫), কবিচন্দ্রপুর গ্রামের কমল উদ্দিনের মেয়ে মিনা আক্তার (৪৭) এবং ফিরুজ মিয়ার ছেলে হাজিল মিয়া (৩৭)।

এছাড়া আরও ৩-৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গাজীপুরের টঙ্গীর পাগার এলাকায় আবু বকর ওরফে শাওনের “মা জুয়েলার্স” নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত ২২ মার্চ এক পরিচিত ব্যক্তি তাকে জানায়, কেন্দুয়া উপজেলার কবিচন্দ্রপুর গ্রামের জুয়েল মিয়ার কাছে স্বর্ণের বার রয়েছে এবং তিনি তা বিক্রি করতে চান।

পরে মোবাইলে স্বর্ণের বারের ভিডিও দেখিয়ে তাকে প্রলুব্ধ করা হয়। তাদের কথামতো গত ২৮ মার্চ বাদী কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দুয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন এবং রাতে প্রধান অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে স্বর্ণের বার দেখেন।

সেখানে ৭০ ভরি স্বর্ণ বিক্রির বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়। পরদিন নগদ টাকায় লেনদেনের শর্তে তিনি বিভিন্ন ব্যাংক ও এটিএম বুথ থেকে মোট ২৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা উত্তোলন করেন।

৩০ মার্চ সকালে আসামিদের বাড়িতে গিয়ে নগদ টাকার বিনিময়ে তাকে পলিথিনে মোড়ানো কথিত স্বর্ণের বার দেওয়া হয়। পরে আসামিরা তাকে গাড়ির কাছে পৌঁছে দিয়ে সটকে পড়লে তার সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় এক স্বর্ণকার দিয়ে পরীক্ষা করালে জানা যায়, বারগুলো স্বর্ণ নয়, বরং পিতলের তৈরি।

পরে তিনি দ্রুত অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে খুঁজে পাননি। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত সুজন মিয়া ও মিনা আক্তারকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে।

ভুক্তভোগী আবু বকর বলেন, একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁদে ফেলে ভুয়া স্বর্ণ বিক্রির নামে এই অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। তিনি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ওসি মেহেদী মাকসুদ জানান, দুইজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর