ধলাই নদীর ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব মনিন্দ্র মালাকার, মানবিক সহায়তার আবেদন

প্রকাশিত: ১:৪৩ অপরাহ্ণ , ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

এম এ ওয়াহিদ রুলু,কমলগঞ্জঃ মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ পৌরসভাধীন ৯নং ওয়ার্ডের রামপাশা গ্রামের ধলাই নদী পাড়ঘেঁষা এলাকায় ছিল মনিন্দ্র মালাকারের একমাত্র বসতঘর। কিন্তু ধলাই নদীর একাধিক ভাঙনে তার সেই শেষ আশ্রয়টুকুও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন তিনি নিঃস্ব। প্রতিবেশীর দেওয়া একটি ছোট ঘরে আপাতত আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

শৈশবেই পিতা-মাতাকে হারানো মনিন্দ্র মালাকার জীবিকার তাগিদে অল্প বয়স থেকেই অন্যের বাড়িতে কাজ নেওয়া শুরু করেন। দীর্ঘদিন দিনমজুর হিসেবে কঠোর পরিশ্রম করতে করতে শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা রোগ।

বর্তমানে প্রায়ই অসুস্থ থাকেন, আগের মতো ভারী কাজ করতে পারেন না। ফলে কাজের ডাকও কমে গেছে। মাসে মাত্র ৮-১০ দিন কাজ পান; বাকি দিনগুলো চলে অর্ধাহারে-অনাহারে।

এরই মধ্যে মেজ মেয়েকে বিয়ে দিলেও দুর্ভাগ্য যেন পিছু ছাড়েনি। মেয়ের স্বামী মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে অপারগ।

ফলে সেই মেয়েসহ তার দুই সন্তানকেও এখন দেখভাল করতে হচ্ছে মনিন্দ্র মালাকারকেই। নিজের স্ত্রী, পুত্র, কন্যা ও দুই নাতনিসহ বড় একটি পরিবারের ভরণপোষণের ভার তার কাঁধে।

আলাপকালে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মনিন্দ্র মালাকার বলেন, “কিলা খাইতাম, কিলা বাঁচতাম—টেনশনে ঘুম লাগে না। ঘর নাই, বাড়ি নাই, কামকাজও নাই। এর মাঝে পুড়ি, পুড়ির ঘরর নাতিন হকলরও ভরণপোষণ করা লাগে।”

তার অসহায় কথাগুলো শুনলে যে কারও চোখে জল চলে আসবে। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক হৃদয়ের মানুষদের সহযোগিতা পেলে হয়তো আবারও বেঁচে থাকার নতুন প্রেরণা খুঁজে পাবেন এই জনমদুঃখী মানুষটি।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর