• খুলনা দেশজুড়ে
  • ​বেনাপোলে ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও থমকে আছে হাসপাতাল নির্মাণ: কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি শিক্ষক আব্দুল মান্নানের

​বেনাপোলে ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও থমকে আছে হাসপাতাল নির্মাণ: কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি শিক্ষক আব্দুল মান্নানের

প্রকাশিত: ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ , ১২ এপ্রিল ২০২৬, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

মো.সাহিদুল ইসলাম শাহীন:- দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল। ব্যবসা-বাণিজ্যে এই জনপদ সমৃদ্ধ হলেও সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এখনও অধরা। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনে এবং বেনাপোলে একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল নির্মাণের দাবিতে এবার সোচ্চার হয়েছেন স্থানীয়দের শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ও প্রবীণ শিক্ষক আব্দুল মান্নান মাস্টার।

রবিবার(১২ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন রোডস্থ “সীমান্ত প্রেসক্লাব বেনাপোল” কার্যালয়ে তিনি এক ভিডিও বার্তায় এই হুশিয়ারী দেন।

তিনি ভিডিও বার্তায় বেনাপোলের বর্তমান করুণ স্বাস্থ্যচিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমি দীর্ঘ সময় ধরে বেনাপোলে একটি হাসপাতালের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল মহলে বারবার আবেদন করেছি। বর্তমানে বেনাপোল বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে; এখানে তীব্র যানজট যেমন জনজীবন অতিষ্ঠ করছে, তেমনি পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা না থাকায় মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছে।”

​বরাদ্দ আছে, কাজ নেই আব্দুল মান্নান মাস্টার তাঁর বক্তব্যে আরও জানান, তাঁর এবং স্থানীয়দের নিরলস প্রচেষ্টার ফলে বেনাপোল পৌরসভার সাবেক প্রশাসক ও শার্শা উপজেলার সাবেক নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) ডা.নাজিব হাসান-এর
ঐকান্তিক সহযোগিতায় হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, দীর্ঘ সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত হাসপাতালের নির্মাণকাজ বা এর দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি।

​প্রশাসনের প্রতি প্রশ্ন ও হুঁশিয়ারি দিয়ে সরাসরি প্রশ্ন রেখে বলেন, “কেন এই হাসপাতালের কাজ এখনো শুরু হচ্ছে না? আমরা জানতে চাই, কোন প্রতিবন্ধকতার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি থমকে আছে।” যদি অতি দ্রুত হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু না করা হয়, তবে বেনাপোলবাসীকে সাথে নিয়ে কঠোর থেকে কঠোরতর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার, আর এই অধিকার আদায়ে তিনি শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবেন বলে অঙ্গীকার করেন।

​আব্দুল মান্নান মাস্টারের এই সাহসী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন বেনাপোলের সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের মতে, জরুরি প্রয়োজনে বা দুর্ঘটনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের যশোর বা অন্য শহরে যেতে হয়, যা অনেক সময় জীবনের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়। গত ৭ এপ্রিল বেনাপোল বন্দরে দূর্ঘটনায় ১জন শ্রমিকের মৃত্যু’র কথা তুলে ধরে বলেন,বেনাপোলে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় একজনের মৃত্যু হয় এবং অন্যজনকে আহত অবস্থায় যশোর সদরে নিতে হয়। ৩৫ কোটি টাকার বরাদ্দ হওয়া সত্ত্বেও কাজ শুরু না হওয়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

​বেনাপোলবাসী এখন প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষায়। এই হাসপাতালটি নির্মিত হলে কেবল বেনাপোল নয়, পার্শ্ববর্তী কয়েক লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,হাসপাতাল নির্মাণের জন্য যশোর সিভিল সার্জন এবং তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো.মাজহারুল ইসলাম এর নিকট সশরীরে সাক্ষাৎ করেন এবং স্মারক লিপি পেশ করেন। এ ছাড়াও তিনি এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে যোগাযোগ করেন।

তার এই অক্লান্ত যোগাযোগের মাধ্যমে অবশেষে বেনাপোল পৌরসভা, হাসপাতাল নির্মাণে পৌর সভার ২০২৫-২৬ অর্থ বাজেটে জায়গা এবং অর্থ বরাদ্ধের ঘোষণা হয়। বাজেটের ঘোষণায় বলা হয়- RUTDP প্রকল্পের আওতায় বেনাপোল পৌর বাসটার্মিনালের উত্তর পাশে হাসপাতালের জায়গায় নিচতলায় মার্কেট, ২য় ও ৩য় তলায় হাসপাতাল, ৪র্থ, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলায় নাসিং ইনষ্টিটিউট আবাসিক সহ ভবন নির্মাণ। আনুমানিক ব্যয়-৩৫ কোটি টাকা।

এ ব্যাপারে তৎকালীন বেনাপোল পৌর প্রশাসক এবং শার্শা উপজেলার নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) ডা.নাজিব হাসান তার ফেইসবুক ভেরিফাইড পোষ্টে স্ট্যাটাস দেন, প্রকাশিত এই নিউজে ছবি সহ তার বক্তব্য পোষ্ট করা হলো।