নিয়ামতপুরে দিগন্ত বিস্তীর্ণ আমনের ফসলি সবুজ মাঠ, বাম্পার ফলনের স্বপ্ন কৃষকের

প্রকাশিত: ৭:০৮ পূর্বাহ্ণ , ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 years আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন

নাহিদ হাসান নওগাঁ: প্রকৃতির কালক্রমে, চাষীর কায়িক শ্রমে; সবুজ মাঠে ধানের শীষ মাথা শুধু নারে, কৃষকের মনে স্বপ্নটা ডানা মেলে ঝারে। অজান্তে শ্যামলী অঙ্গে, সোনালী রং রাঙ্গে; পল্লী মাঠে ধানের শীষে সোনার আলো জ্বলে, সে আলোতে কৃষকের মনে তৃপ্তি যেন মেলে। 

পুলকিত অন্তর, সোনালী পল্লী প্রান্তর; সকল দুঃখ ব্যথা যত শ্রমের ভার। এই শ্রমকেই পুঁজি করে কৃষক তার সকল ব্যথা ভোলে, যদি হয় ফসলের পণ্য দান তবেই কৃষক ফিরে পায় তার শ্রমের পূর্ণ দাম।

নওগাঁর নিয়ামতপুরে মাঠে মাঠে সবুজ প্রান্তরে ছেয়ে গিয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলী মাঠ। সেই মাঠেই সফলতার স্বপ্ন গুনছেন কৃষক। চলতি মৌশুমে ফসলের গুণগত মান দেখে কৃষকেরা তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন। আশা করছেন চলতি মৌসুমে ফসলের বাম্পার ফলন হবে। যদি সেই স্বপ্নপূরণ হয় ও ফসলের ন্যায্যদাম কৃষক পায়, তবে কৃষকের এই পরিশ্রম সার্থক বলে বিবেচিত হবে।

উপজেলার কৃষি তথ্যমতে জানা গিয়েছে, ২৪-২৫ অর্থ বছরে উপজেলায় সর্বচ্চ ৩০ হাজার ৬শত ৯৫ হেক্টর জমিতে ফসলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এখন পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ২৬ হাজর ৪শত ৮০ হেক্টর। আউশ ধান ৯ হাজার ৪শত ৫০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে আমনে ছেড়ে যাবে লক্ষ্য মাত্র। আমন ধানের মধ্যে রয়েছে,উফসি,হাইব্রিড ,চিনিআতব ইত্যাদি।

সরেজমিনে উপজেলার বেশ কিছু ফসলের মাঠ পরিদর্শন করে দেখা গিয়েছে, বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ ছেয়ে গিয়েছে সবুজের সমারোহে। কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ফসলের পরিচর্যাতে। কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউ আবার কীটনাশক স্প্রে করতে ব্যস্ত সময় পার করছে।

এ সময় প্রতিবেদকের কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন,এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং ফসলের গুণগত মান ভালো হওয়ায় বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে এবছর। আশা করা যাচ্ছে বিঘা প্রতি জায়গা ভেদে ২০ থেকে ২২ মন ধান পাওয়া যাবে। তবে ধানের দাম নিয়ে চিন্তিত কৃষকেরা। যদি কৃষকেরা ফসলের ন্যায্য দাম না পান, তবে এই পরিশ্রম থেকে আগ্রহ হারাবেন অনেক চাষি।

উপজেলা কৃষি অফিসার কামরুজ্জামান বলেন, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনূকূলে থাকায় ফসলের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা কৃষকের সঙ্গে থেকে ফসলের ক্ষেত পরিদর্শন করে বিভিন্ন রকম পরামর্শ দিচ্ছেন। আমি নিজে ফসলের ক্ষেতে নেমে পরিদর্শন করেছি। এই বছর ফসলি মাঠে রোগ-বালাই অনেক কম। আমরা আশা করতেছি গতবারের তুলনায় এইবার ধানের উৎপাদন একটু বৃদ্ধি পাবে।