তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে কেন্দুয়ায় বর্ণাঢ্য কিচ্ছা উৎসব

প্রকাশিত: ৮:০০ পূর্বাহ্ণ , ৯ নভেম্বর ২০২৫, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 7 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

মজিবুর রহমান, নেত্রকোনা : বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকজ সংস্কৃতিকে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য কিচ্ছা উৎসব।

গতকাল শনিবার (৮ নভেম্বর) সকালে জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে এ উৎসবের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয়ে মনোমুগ্ধকর এই পরিবেশনা চলে গভীর রাত পর্যন্ত। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমদাদুল হক তালুকদার উৎসবের উদ্বোধন করেন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খ্যাতনামা বয়াতিরা অংশ নেন এ আয়োজনে। তাদের মধ্যে ছিলেন কুদ্দুস বয়াতি, দিলু বয়াতি, অলিউল্লাহ বয়াতি, সবুজ বয়াতি, মনসুর বয়াতি, হামিদ বয়াতি, শামীম বয়াতি, আনোয়ারা বয়াতি, জসিম বয়াতি ও আশিক বয়াতি প্রমুখ।

বয়াতিদের গানে, তালের ছন্দে, নাচে-গানে মাতিয়ে তোলেন তারা। সারাদিনজুড়ে দর্শকদের ভিড়ে পুরো মাঠ পরিণত হয় উৎসবমুখর জনসমুদ্রে।

লোকজ কাহিনি, পুরাণ, ধর্মবিশ্বাস, গ্রামীণ জীবনের গল্পগাথা আর হাসি-কান্নার মিশেলে উপস্থাপিত হয় জীবনের স্পন্দনে ভরা কিচ্ছা পালা।

ঢোল, একতারা আর কণ্ঠসুরে ভেসে ওঠে বাংলার মাটির গান। মঞ্চে নেচে গেয়ে, গল্পে গানে, প্রেমে-বেদনায় জীবনের নানা রূপ তুলে ধরেন বয়াতিরা, যেখানে জেগে ওঠে বাংলার প্রাণ, গ্রামীণ জীবনের চিরন্তন ছন্দ।

রাতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া–আটপাড়া) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী।

তিনি বলেন,একসময় গ্রামেগঞ্জে কিচ্ছা গান ছিল অন্যতম বিনোদন মাধ্যম। মা-বোন, চাচী-মাসীরা সবাই মিলে রাতভর পালাগান শুনতেন, অনেকেই গানের আবেগে চোখের পানি ফেলতেন। আজকের এই আয়োজনে তরুণ প্রজন্ম সেই হারানো সংস্কৃতি আবারও উপভোগের সুযোগ পাচ্ছে, এটাই বড় আনন্দ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণ ও চর্চার মাধ্যমেই আমরা আমাদের শেকড় ও ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে পারি। লোকজ সংস্কৃতির রাজধানী কেন্দুয়ায় এ আয়োজন নিয়মিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, কিচ্ছা উৎসব কেবল বিনোদনের আয়োজন নয়, এটি একটি সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ। তরুণ প্রজন্মকে তাদের শিকড় ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দিতে এবং মৌখিক সাহিত্যচর্চার ধারাকে টিকিয়ে রাখতে এ উৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উৎসবের সঞ্চালনায় ছিলেন সাংবাদিক ও কবি রহমান জীবন। অনুষ্ঠানে নারীপুরুষ, সংস্কৃতিপ্রেমী ও সকল শ্রেনী পেশার মানুষের উপস্থিতি ছিল।