উলাশী খাল খনন: প্রধানমন্ত্রী’র আগমণে শার্শা প্রশাসনের প্রস্তুতী যেমন

প্রকাশিত: ৪:৫৩ পূর্বাহ্ণ , ৭ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

মো.সাহিদুল ইসলাম শাহীনঃ- যশোর জেলার শার্শা উপজেলার উল্লাসী খাল খনন প্রকল্পের তদারকি এবং সে এলাকায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতির বিষয়ে সোমবার(৬ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ তার কার্যালয়ে বসে যা বললেন-

*পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরাসরি তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে উলাশী খাল খনন কর্মসূচি।

*খালের দিকে যাওয়ার রাস্তাটি বর্তমানে কাঁচা এবং দুই পাশে ভাসমান বাজার বসে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (LGED) মাধ্যমে রাস্তাটি দ্রুত পাকাকরণের (HBB) উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে আগামী ৩-৫ দিনের মধ্যে এর কাজ সম্পন্ন হবে।

*প্রকল্প এলাকার আশেপাশে থাকা পুরনো ভূমি অফিস,ডাকবাংলো এবং একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্টসহ পুরো চত্বরটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হবে।

*উল্লিখিত এলাকায় একটি অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি এবং মাটি ভরাটের মাধ্যমে জায়গাটিকে উপযোগী করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে সেখানে নির্ধারিত কর্মসূচি সুচারুভাবে সম্পন্ন করা যায়।

*এসএসএফ (SSF) এবং পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,যশোর জেলার শার্শা উপজেলার উলাশী অঞ্চলের ইতিহাস ও উন্নয়ন মূলত ‘উলাশী-যদুনন্দনপুর প্রকল্প’-এর সাথে গভীরভাবে জড়িত। এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়নের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে পরিচিত।

​উলাশী এলাকায় খাল খনন ও এই সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের মূল উদ্যোক্তা ও পরিকল্পনাকারী ছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এর দৈর্ঘ্য ৪.১ কিলোমিটার। স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর এই খাল খনন শুরু করা হয়।

খননের কাজ চলে প্রায় ১ বছর। খাল খননের ফলে উত্তর শার্শার সোনামুখী, বনমান্দারসহ প্রায় ২২টি বিলের হাজার হাজার একর জমিতে ফসল ফলে।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং কৃষকদের জন্য সেচব্যবস্থা উন্নত করা।

বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি দ্রুত নদী ও সাগরে চলে যেত, আবার শুষ্ক মৌসুমে কৃষিজমিতে পানির তীব্র সংকট দেখা দিত।

এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জিয়াউর রহমান সম্ভবত উপলব্ধি করেন যে, যদি বর্ষার পানি সংরক্ষণ করা যায় এবং সেই পানি শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজে ব্যবহার করা যায়, তাহলে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে।

এ কারণে তিনি প্রাকৃতিক জলাধার তৈরির লক্ষ্যে দেশজুড়ে খাল খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেন। এর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, বন্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা এবং পানির সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

শার্শা উপজেলার উলাশী এলাকাটি একসময় জলাবদ্ধতার কারণে চাষাবাদের অনুপযুক্ত ছিল। বেতনা নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় বিশাল এলাকা প্লাবিত হয়ে থাকত। এই সমস্যার সমাধানের জন্য প্রায় ৪.১ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খাল খননের পরিকল্পনা করা হয়।

এই প্রকল্পটি ‘উলাশী মডেল’ নামে সারা দেশে পরিচিতি পায়। এর মূল বৈশিষ্ট্য ছিল সরকারি বরাদ্দের ওপর নির্ভর না করে জনগণের অংশীদারিত্ব ও স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে উন্নয়ন সাধন করা।

খালটি খননের ফলে প্রায় ১৮ হাজার একর জমি জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পায় এবং কয়েক হাজার টন অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উৎপাদনের পথ সুগম হয়। এটি কেবল একটি খাল খনন ছিল না, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনাসহ একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রামীণ উন্নয়ন কর্মসূচি ছিল।

এই প্রকল্পের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে পরবর্তীতে সারা দেশে ‘খাল খনন কর্মসূচি’ ব্যাপকভাবে শুরু করা হয়েছিল। ​উলাশীর এই সফলতার কাহিনী আজও বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক ভুমিকা রাখে।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর