• অপরাধ খুলনা
  • কুষ্টিয়ার দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী আগ্নেয়াস্ত্র সহ যশোরে গ্রেফতার

কুষ্টিয়ার দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী আগ্নেয়াস্ত্র সহ যশোরে গ্রেফতার

প্রকাশিত: ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ , ১১ জুলাই ২০২৪, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 years আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন

মোঃসাহিদুল ইসলাম শাহীনঃ-নিষিদ্ধ ঘোষিত শীর্ষ চরমপন্থী সংগঠন বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির খুলনা বিভাগের সামরিক প্রধান ও কুষ্টিয়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. আব্দুল লতিফ লাট্টু (৬০) ও তার সহযোগী ইদ্রিস মন্ডল (৪৫) ০২ টি বিদেশী পিস্তল, ০১ টি রিভলবার, ০২ টি ম্যাগাজিন ও ০৬ রাউন্ড গুলি সহ র‍্যাব-৬, যশোর এর অভিযানে গ্রেফতার।

র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৬ সিপিসি-৩, বকচর, যশোর কোম্পানী কমান্ডার মেজর মোহাম্মাদ সাকিব হোসেন এক “প্রেস রিলিজ” এ জানিয়েছেন- “বাংলাদেশ আমার অহংকার”এই স্লোগান নিয়ে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভিন্ন ধরনের অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে জোড়ালো ভূমিকা পালন করে আসছে।

র‌্যাবের সৃষ্টিকাল থেকে বিপুল পরিমান অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ উদ্ধার, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, খুনী, ছিনতাইকারী, অপহরণ প্রতারকদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগণের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িত দীর্ঘদিনের পলাতক ও দন্ডপ্রাপ্ত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে র‌্যাব জনগণের সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে”।

“এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা সূত্র হতে প্রাপ্ত তথ্য ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় র‍্যাব-৬, যশোর এর একটি আভিযানিক দল ইং ১০ জুলাই ২০২৪ তারিখ সময় রাত ২০.৪৫ ঘটিকায় জানতে পারে যে, কতিপয় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ী যশোর জেলার বেনাপোল পোর্ট থানাধীন সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদকের একটি চালান নিয়ে যশোরের উদ্দেশ্যে আসছে।

প্রাপ্ত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে আভিযানিক দলটি তাৎক্ষণিক ১০ জুলাই ২০২৪ ইং তারিখ সময় রাত ৯টার দিকে যশোর জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন বেনাপোল সড়কে দলুর গেট (রেলগেট) পাঁকা রাস্তার উপর চেকপোষ্ট স্থাপন করে সন্দেহভাজন বিভিন্ন গাড়ী চেক করা হয়”।

“সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি মোটরসাইকেল চেকিং এর জন্য সিগন্যাল দিলে মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় র‌্যাব সদস্যরা তাদেরকে ধরতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের উপস্থিতিতে মো. আব্দুল লতিফ লাট্টু (৬০), পিতাঃ মৃত তেজারত মন্ডল, মাতা- মৃত সুরুজান নেছা, সাং- দুর্বাচারা, থানাঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, জেলাঃ কুষ্টিয়া এর দেহ তল্লাশী করে তার হেফাজত হতে ০২ টি বিদেশী পিস্তল, ০২ টি ম্যাগাজিন যার একটি ম্যাগাজিনের ভেতর ০৬ রাউন্ড গুলি ভর্তি এবং মোঃ ইদ্রিস মন্ডল (৪৫), পিতা- মৃত মঈনুদ্দিন মন্ডল, সাং- দুর্বাচারা, থানাঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, জেলাঃ কুষ্টিয়া এর দেহ তল্লাশী করে তার হেফাজত হতে ০১ টি রিভোলবার উদ্ধার করা হয়। এ সময় তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়”।

“আসামীদ্বয়ের সম্পর্কে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ১৯৮৬-১৯৮৭ সালে নিষিদ্ধ ঘোষিত শীর্ষ চরমপন্থী সংগঠন বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির খুলনা বিভাগের সামরিক প্রধান হিসেবে ১নং আসামী মো. আব্দুল লতিফ লাট্টু (৬০) সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে ২০০১ সালে সে নিষিদ্ধ ঘোষিত শীর্ষ চরমপন্থী সংগঠন “শ্রমজীবী গণমুক্তিফৌজ” প্রতিষ্ঠা করে এবং তার বিশ্বস্ত কয়েকজন সহযোগীদের হাতে দায়িত্ব অর্পন করে।

পরবর্তীতে তার নিজের এলাকায় ২০/৩০ জনের একটি গ্রুপ তৈরি করে নিজ জেলার মধ্যে খুন, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও কন্ট্রাক্ট কিলিং মিশন শুরু করে। সে নিজ এলাকাতে শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবেই সর্বজন পরিচিত। ঐ এলাকায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয়-বিক্রয়ের স্বর্গরাজ্য তৈরি করেছে বলেও জানা যায়।

বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করে, জামিনে মুক্তি পেয়ে ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তার নেতৃত্বে ২০/২৫ জন সন্ত্রাসী কুষ্টিয়া জেলার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানাধীন দুর্বাচারা এলাকায় অর্ধশতাধিক গুলি বর্ষণ সহ বাড়ি-ঘর ও দোকানপাট ভাংচুর, লুটপাট করে।

বিষয়টি অত্র এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংকের সৃষ্টি করেছিল। তার বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলাসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। তার এই সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার দুর্বাচারা এলাকার সাধারণ জনগন বিভিন্ন সময় মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে মর্মে জানা যায়”।

“০২ নং আসামী মো. ইদ্রিস মন্ডল ০১ নং আসামী মো. আব্দুল লতিফ লাট্টু এর সকল অপরাধের প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করে মর্মে জানা যায়”।

“তাদের স্বীকারোক্তি মতে আরো জানা যায় যে, সন্ত্রাসী মো. আব্দুল লতিফ লাট্টু যশোর জেলার বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আমদানিকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদ স্বল্প দামে ক্রয় করে অধিক দামে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ/বিক্রিসহ বিভিন্ন কিলিং মিশনে অস্ত্র- গোলাবারুদ ভাড়ায় প্রদান করে থাকে। এছাড়াও তার সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার কাজে এই অস্ত্র-গোলাবারুদ ব্যবহার করে থাকে”।

জব্দকৃত আলামত সহ আসামীদ্বয়কে যশোর জেলার কোতয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করতঃ তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে বলে “প্রেস রিলিজ” এ জানানো হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর