বাড়ী থেকে ডেকে নিল উদ্ধার হল ঝুলন্ত লাস

প্রকাশিত: ১:০৬ অপরাহ্ণ , ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 years আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন

ময়মনসিংহের ত্রিশালে বাড়ি পাশে তুহিন আহমেদ নামে এক বালু শ্রমিকের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার রাত ১০ টার দিকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়ার পর রাত ২ টার দিকে বাড়ির থেকে দেড়শ গজ দূরে পাওয়া পায় ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। লাশ পাওয়ার পর বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া লোকজনকে এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না

ত্রিশাল উপজেলার সাখুয়া ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামের মোবারক হোসেনের ছেলে তুহিন আহমেদ (২২) । নিহতের পরিবার দাবি করছে, বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার পর লাশ ঝুঁলিয়ে রাখা হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বালু শ্রমিক তুহিন গত রোববার আরও পাঁচজনকে নিয়ে এক ট্রাক বালু সরবরাহ করেন। পারিশ্রমিক বাবাদ বাইশ শত টাকা ছয়জনের মধ্যে বন্টন হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু তুহিন সেই টাকা একাই খরচ করে ফেলেন।

গত সোমবার রাত নয়টার দিকে বাড়ির কাছে নওপাড়া মোড়ে সহকর্মী হারেছ মিয়া, মনির মিয়া, আনোয়ারুল ইসলাম, মনির হোসেন ও রাকিব মিয়ার সঙ্গে বাগবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। ওই সময় তুহিন তাদের জানিয়েছিল- তার বাবা-মা নানির বাড়ি থেকে আসলে মঙ্গলবার টাকা দিয়ে দিবে। কিন্তু তা অন্যরা মানতে চাচ্ছিল না।

সে সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি মিটিয়ে দেয়। এরপর তুহিন বাড়িতে চলে আসলে রাত দশটার দিকে ফের বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে রাত ২ টার দিকে বাড়ি থেকে দেড়শ গজ দূরে পাওয়া পায় ঝুলন্ত মরদেহ। একটি বাঁশের মধ্যে গলায় গামছা লাগানো অবস্থায় থাকলেও তুহিনের দুই পা মাটিতে লাগানো ছিলো।

তুহিনের স্ত্রী আকলিমা আক্তার জানান, রাত ১০ টার দিকে বাড়ি থেকে তার স্বামীকে ডেকে নিয়ে যায়। ভেবেছিলেন বাড়িতে চলে আসবে। কিন্তু রাত বাড়তে শুরু করলেও আর বাড়ি ফেরেনি। পরে পরিবারের লোকজন লাশ পায়।

তুহিনের চাচা রবিকুল ইসলাম বলেন, আত্মহত্যা করলে পা মাটিতে লাগানো থাকতো না। আমার ভাতিজাকে হত্যার পর লাশ ঝুঁঝিয়ে রাখা হয়। এর আগে বাইশ শত টাকা নিয়ে তুহিনের সহর্কীদের সঙ্গে বাগবিতন্ডা হয়েছিল। এর জেরেই বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আমার ভাতিজাকে হত্যা করেছে।

তিনি বলেন, তুহিনের লাশ পাওয়ার পর পাঁচ যুবকের বাড়িতেই আমারা গিয়ে তাদের খোঁজ করি। কিন্তু কাউকে পাওয়া যায়নি। তাঁর দাবি- তারা যদি হত্যাকান্ড না ঘটাতো তাহলে অবশ্যই এলাকাতেই থাকতো। ভাতিজা হত্যার বিচার দাবি করেন তিনি।

ত্রিশাল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূরে আলম বলেন, সুরতহালে নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। কাজের টাকা খরচ করে ফেলায় সহকর্মীদের সঙ্গে সোমবার সন্ধ্যার পর হাতাহাতি হলেও পরে স্থানীয় লোকজন মিটমাট করে দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে আবার ডেকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলছে পরিবার।

যারা ডেকে নিয়েছে দাবি করা হচ্ছে তাদের খোঁজ করে এলাকায় পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলে, বিষয়টি নিয়ে আপাতত একটি অপমৃত্যু মামলা করেছে নিহতের বাবা মোবারক হোসেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর