সংরক্ষিত আসনে লালপুরের তুলিসহ আলোচনায় ৩ জন

প্রকাশিত: ৮:১৩ পূর্বাহ্ণ , ২ মার্চ ২০২৬, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

সালাহ্ উদ্দিন, লালপুর (নাটোর ): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন নাটোরের ৩ নারী।

তারা হলেন সাবিনা ইয়াসমিন ছবি,মহুয়া নূর কচি এবং সানজিদা ইয়াসমিন তুলি

তথ্যমতে,বিএনপি ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন  পাবে। সংরক্ষিত ওই নারী আসনে এমপি চূড়ান্ত করবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওই সংখ্যায় নিজেদের নাম নিশ্চিতে ইতোমধ্যেই যোগাযোগ শুরু করেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নারী নেত্রীরা। এদের মধ্যে নাটোরের আলেচনায় ওই তিন নারীর নাম শোনা যাচ্ছে।

হিসাবমতে, নাটোর ও নওগার জন্য সংরক্ষিত আসনে একজন দায়িত্ব পান। ওই আলোচনায় নাটোরের তিন নারী নেত্রীর মধ্যে জেলা বিএনপির সদস্য এবং নাটোর ২( সদর- নলডাঙ্গা) আসনের সাংসদ, সাবেক ভূমি উপমন্ত্রী এডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর সহধর্মিনী সাবিনা ইয়াসমিন ছবি।

তিনি ২০০৮ ও ২০১৮  সালে নাটোর-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন। এর আগে তিনি

নাটোর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

সাবিনা ইয়াসমিন ছবি দীর্ঘদিন থেকেই নাটোর রাজপথে এক অকুতোভয় নেত্রী। দুলু জেলে থাকা অবস্থায় তিনি নাটোর জেলা বিএনপির হাল ধরেছেন। তিনি সংরক্ষিত আসনের কর্ণদার হলে তার শিক্ষা,যোগ্যতা ও রাজপথের অভিজ্ঞতায় নাটোর- নওগাঁর উন্নয়ন ও সাংগঠন পরিচালনায় বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারবেন এমন বিশ্বাস বিএনপির একাংশের।

অপর আলোচনায় নাটোর বড়াইগ্রাম উপজেলার এক সময়ের তুখোর বিএনপি নেতা ও বড়াইগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান  সানাউল্লাহ নূর বাবুর স্ত্রী মহুয়া নূর কচি।

 

২০১০ সালের ৮ অক্টোবর বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় বিএনপির কড়মসূচী পালনের সময় বাবুকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সেই থেকে বিএনপির নানা সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচীতে সক্রিয় মহুয়া নূর কচি।

তিনি জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য। নাটোর ৪( বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের বিএনপি ত্যাগী নেতাকর্মীরা মহুয়া নূর কচিকে সংরক্ষিত আসনের এমপি  দেখতে চান।

অপর আলোচনায় নাটোর ১( লালপুর- বাগাতিপাড়া) আসনের লালপুর উপজেলার গৌরিপুর এলাকায় মেয়ে,কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইডেন কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব, সানজিদা ইয়াসমিন তুলি। সানজিদা ইয়াসমিন তুলি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক। তাছাড়া জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক।  বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির তিনি সদস্য।

তথ্যমতে, তুলির বাবা ছিলেন নাটোর জেলার লালপুর উপজেলায়র  ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি এবং লালপুর উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি । মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।

তুলির বাবার ওই আসনের সাবেক এমপি ও মন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের নিবেদিত কর্মী ছিলেন। বাবা ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি হওয়ায় তুলিও ছোট বেলা থেকেই বিএনপির রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন।

কলেজে ভর্তির পর থেকেই তিনি ছাত্র রাজনীতির সক্রিয় ভাবে জড়িত, রাজপথের রাজনীতি করেছেন, করেছে ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিরোধী বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগ্রাম। আন্দোলন সংগ্রামে বহুবার হামলা-মামলা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের দিন ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথে থাকার কারণে ছাত্রলীগের দ্বারা হামলায় আহত হন।

২০২১ সালের ১ লা মার্চ পুলিশের দ্বারা প্রেসক্লাবে সামনে হামলায় রক্তাক্ত হয়েছিলেন এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ২০২২ সালের ২৪ শে মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বরে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের লোহার রড দ্বারা হামলায় তাকে রক্তাক্ত করা হয়।

এছাড়া গত ৫ আগষ্ট ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ভোর থেকেই প্রেসক্লাব ও মৎস্যভবণের সামনে পুলিশের সাথে লড়াই করেন তিনি।

তাই নাটোর ১ আসনের বিএনপি নেতাকর্মীরা তুলিকেই সংরক্ষিত আসনের এমপি দেখতে চান।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর