• অপরাধ রাজশাহী
  • তানোরে তুচ্ছ ঘটনায় হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে দু দফা মারপিট রামেকে ভর্তি

তানোরে তুচ্ছ ঘটনায় হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে দু দফা মারপিট রামেকে ভর্তি

প্রকাশিত: ৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ , ৩ জুন ২০২৬, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 days আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

বকুল হোসেন রাজশাহী তানোরঃ রাজশাহীর তানোরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র হত্যার উদ্দেশ্যে দু দফা মারপিটে রিপন(২২)  নামের এক যুবক কে মৃত বলে ধানী জমিতে ফেলে রেখে চলে যায় সন্ত্রাসী মামুন সহ তার মামা ও মামাতো, খালাতো ভায়েরা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। রিপনের বাড়ি উপজেলার তালন্দ ইউনিয়ন ইউপির কালনা গ্রামে। সে ছাদেক কারিগরের ছেলে।

গত মঙ্গলবার বিকেলে নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় ও চিকিৎসা শেষে বাড়িতে যাওয়ার পথে কালনা গ্রামে মাটির রাস্তার জৈনক লুৎফরের আম বাগান  সংলগ্ন ধানী জমিতে ঘটে মারপিটের ঘটনাটি।  লোহার রোড হাতুড়ি  দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে মৃত বলে ধানী জমিতে রিপন কে ফেলে রেখে চলে যায় মামুন বাহিনী।

ওই সময় রিপনের পিতা দৌড়ে গ্রামে  গিয়ে চিৎকার দিলে গ্রামের লোকজন ধানী জমিতে খোঁজাখুজি করে কাঁদা, কুচুরিপনার ভিতর থেকে রিপনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে কর্তব্য রত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রামেকে রেফার্ড করেন।

এঘটনায় রিপনের পিতা আহত ছাদেক কারিগর  বাদি হয়ে সন্ত্রাসী  মামুনকে প্রধান আসামী  ৭ জনের নাম উল্লেখ ও আরো ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন। সন্ত্রাসী মামুনের বাড়ি কালনা গ্রামে, সে হাজি শামসুদ্দিনের ছেলে।

অন্য আসামীরা হলেন মামুনের আপন মামা আ”লীগ নেতা বিলশহর গ্রামের রবিউল ইসলাম, তার ছেলে কিসোর গ্যাং মাসুম আলী, মেম্বার শামসুল কসায়ের ছেলে মামুনের খালাতো ভাই খাইরুল ইসলাম,  আরেক মামা মৃত জিয়ারুলের ছেলে আতাউর রহমান ও তরিকুল ইসলাম। তাদের বাড়ি বিলশহর গ্রামে।

এঘটনায়  রাতেই ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী মামুনের বাড়ি ঘেরাও করে। কিন্তু তারা সবাই আত্মগোপনে রয়েছে।

এঘটনায় কালনা গ্রামে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। মামুনসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনীর শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছে গ্রামবাসী।

এজহার সুত্রে জানা যায়, উপজেলার তালন্দ ইউনিয়ন ইউপির কালনা গ্রামে ছাদেকের ছেলে রিপন মন্ডল বাড়ির কাছের জমিতে  ঘাস চাষ  করেছে। গত মঙ্গলবার বিকেলের দিকে ঘাসের জমিতে মামুনের রাজ হাস ও ছাগল গিয়ে ঘাস খায়। রিপন মামুনকে রাজ হাস ও ছাগল নিয়ে বাড়িতে যেতে বলে এবং কেন ঘাস খেলো এসব নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়।

এর জেরে মামুন তার পিতা হাজী শামসুদ্দিন, তার মা রিপনকে বেধড়ক পেটায়। রিপনকে উদ্ধার করার জন্য তার পিতা ছাদেক ও মা এগিয়ে আসলে তাদেরকেও পেটায়। এঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে মারপিট হয়। উভয়ে আহত হয়।

আহত ছাদেক ছেলে রিপন ও মা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে চার্জার ভ্যান যোগে বাড়িতে যাওয়ার পথে কালনা  গ্রামে জৈনক লুৎফর রহমানের আম বাগানে পৌছা মাত্র আসামী সন্ত্রাসী মামুন, তার মামা আ”লীগ নেতা রবিউল, তার ছেলে মাসুম, মৃত জিয়ারুলের ছেলে আতাউর, চোর শাখাওয়াত, কসাই শামসুল মেম্বারের ছেলে খায়রুলসহ আরো অনেকে তাদের পথরোধ করে ধানের জমিতে নিয়ে গিয়ে রিপনকে লোহার রড, লোহার হাতুড়ি ও চেইন দিয়ে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে মৃত নিশ্চিত করে এক কিলোমিটার দূরে আরেক ধানী জমিতে ফেলে রেখে চলে যায়।

মামলার বাদি ছাদেক কারিগর জানান, আমাদের পথরোধ করে আমাকে হাতুড়ি দিয়ে মারপিট শুরু করে কয়েকজন। বাকীরা আমার ছেলে রিপনকে ধানী জমির মধ্যে ফেলে এলোপাতাড়ি মারপিট ও আমার স্ত্রী কে পিটিয়ে আমার স্ত্রী জীবন বাচাতে পুকুরে ঝাপ দেয়। আর আমি দৌড়ে গ্রামে গিয়ে চিৎকার করি।

আমার চিৎকারে গ্রামবাসী এসে অনেক খোজাখুজি করে অচেতন অবস্থায় আমার ছেলেকে উদ্ধার করে। অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে অবস্থা বেগতিক দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রামেকে রেফার্ড করেন। আমার ছেলে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে এখন পর্যন্ত অচেতন অবস্থায় আছে।

তার মাথায় রক্ত জমা আছে, পুরো শরীরে আঘাতের চিহ্ন। তিনি আরো জানান, প্রথম দফায় মারপিটে আহত হয়ে মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে এলে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা অবস্থায় মামুনসহ তার লোকজন হুমকি দেয়। হাসপাতালে ভর্তি নিলে সন্ধ্যার পরে মারামারি হত না।

আসামী মামুনের সাথে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরে মোবাইলে যোগাযোগ করে মারপিটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, তারা আমার পিতা মাতাকে মেরেছে এজন্য রিপনকে পেটানো হয়েছে বলেও দাম্ভিকতা দেখান তিনি।

ভ্যান চালক তামেজ জানান, মেডিকেল থেকে যাওয়ার সময় মামুনসহ তার মামা ও মামাতো, খালাতো ভায়েরা এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করে। হাতে পায়ে ধরে মারতে নিষেধ করা হলেও তারা কোন কথা শোনেনি। রিপনের মৃত্যু নিশ্চিত করে তাকে ধানী জমিতে ফেলে রাখে। অথচ মামুনের আপন চাচাতো ভাই রিপন।

রিপনের বোন জানান, আমার ভাইকে যখন পেটায় আমি পায়ে ধরে বলি আর মেরনা আমার ভাই মরে যাবে, তারা কোন কথা শোনেনি। আমার পিঠেও আঘাত করেছে। আমি দৌড়ে চিৎকার দিয়ে বকি তোমরা আমার ভাই ও বাবা মাকে বাঁচাও। একজন মানুষ হয়ে আরেকজন মানুষ কে পশুর মত পেটায় কিভাবে বুঝে আসেনা। এসবের ন্যায্য বিচার চাই।

গ্রামবাসী জানায়, মামুন ও আহত রিপন আপন চাচাতো ভাই। তাদের বাড়ি পাশাপাশি। মামুন সন্ত্রাসী প্রকৃতের ছেলে। তার মামা রবিউল আ”লীগ নেতা। ওই সময় গভীর নলকূপ ও আলু চাষ করে টাকার মালিক বুনে যান। মামুন যে কোন ঘটনায় তার মামা ও মামাতো খালাতো ভাইদের নিয়ে এনে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পেটায়। মামুনের ভয়ে কেউ কথা বলতে পারেনা।

তার কাছে সময় সময় দেশীয় অস্ত্র থাকে। সে এক প্রকার কিশোর গ্যাংয়ের হোতা। রিপন কারো সাথে দ্বন্দ্ব ফাসাদ করেনা। অথচ রিপন ও তার পিতা মাতাকে হত্যার জন্য আক্রমণ করেছিল মামুন। রিপন মারা গেছে বলে তাকে জমিতে পেলে রেখে চলে যায়।

তাকেসহ মারপিটে জড়িতদের  দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি দেয়া দরকার। তানা হলে ছাদেকরা বসবাস করতে পারব না।

থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি এসএম মাসুদ পারভেজ জানান, গত মঙ্গলবার রাত থেকে রোগীর বিষয়ে স্বজনদের কাছ থেকে খোজ খবর নেয়া হচ্ছে। বুধবার মামলা দায়ের পর তদন্ত কারী কর্মকর্তা এসআই হাসমতকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আসামীদের ছাড় দেয়া হবেনা। আসামীদের গ্রেফতারে জোরালো অভিযান শুরু হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর